দেশের গুণী অভিনেতা আজিজুল হাকিমের পাঁচ দশকের অভিনয়জীবন, অভিজ্ঞতা ও শিল্পী হিসেবে পথচলার নানা অধ্যায় নিয়ে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে নতুন বই। একটি প্রকাশনা সংস্থা বরেণ্য এই অভিনেতার দীর্ঘ অভিনয়যাত্রা নিয়ে বই প্রকাশের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ইতোমধ্যে বইটির বিষয়বস্তু ও বিন্যাস নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিজেই জানিয়েছেন আজিজুল হাকিম।
অভিনয়জীবনের ৫০ বছরে পদার্পণ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে এই অভিনেতা বলেন, অভিনয়ে ৫০ বছরে পদার্পণ তাঁর জন্য অনেক বড় পাওয়া। এটি অনেক দীর্ঘ সময়ের পথচলা। এই সময়ে তিনি অনেক অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন। মঞ্চে অভিনয় ও নির্দেশনা, বিজ্ঞাপন, নাটক, সিনেমাসহ অভিনয়ের বিভিন্ন ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা বইটিতে উঠে আসবে। এর মাধ্যমে তাঁর অভিজ্ঞতাগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছাবে বলে তিনি মনে করেন।
বইটি প্রকাশের প্রস্তুতি সম্পর্কে আজিজুল হাকিম আরও বলেন, যেহেতু বই বারবার প্রকাশ করা যায় না, তাই একটু সময় নিয়ে ভালোভাবে কাজটি করতে চান তিনি। আর দর্শকের ভালোবাসাই তাঁকে এত দীর্ঘ পথচলার শক্তি জুগিয়েছে। দীর্ঘ অভিনয়জীবন নিয়ে গবেষণা করে বই প্রকাশের উদ্যোগকে নিজের জন্য সম্মানের বলে মনে করছেন এই গুণী শিল্পী।
আজিজুল হাকিমের অভিনয়জীবনের শুরুটা মঞ্চ থেকে। ১৯৭৭ সালে নাট্যজন মামুনুর রশীদের হাত ধরে আরণ্যক নাট্যদলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর অভিনয়জীবনের যাত্রা শুরু হয়। দলটির হয়ে বিভিন্ন নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি। তিনি নিজেই বলেছেন, নাট্যজন মামুনুর রশীদের হাত ধরেই তাঁর নাট্যজীবনের সূচনা, আর মঞ্চই তাঁকে অভিনয়শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলেছে।
মঞ্চ পেরিয়ে টেলিভিশনে তাঁর অভিষেক ঘটে ১৯৮১ সালে 'এখানে নোঙর' নাটকের মাধ্যমে। এরপর ১৯৮৪ সালে 'তবুও তো সে' নাটকে প্রথমবারের মতো নায়কের চরিত্রে অভিনয় করেন আজিজুল হাকিম। ধীরে ধীরে তিনি নব্বইয়ের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। অন্যদিকে, প্রশংসিত চলচ্চিত্র 'শঙ্খনীল কারাগার' এর মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর।
দীর্ঘ পাঁচ দশকের অভিনয়জীবনে মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন এই অভিনেতা। অভিনয়ের পাশাপাশি নির্দেশক হিসেবেও তিনি কাজ করেছেন, বিজ্ঞাপনচিত্রেও দেখা গেছে তাঁকে। বিভিন্ন ধারার চরিত্রে সমান স্বচ্ছন্দ এই শিল্পী প্রজন্মের পর প্রজন্মের দর্শকের কাছে প্রিয় মুখ। তাঁর অভিজ্ঞতা ও শিল্পীজীবনের নানা অধ্যায় নিয়ে প্রকাশিতব্য বইটি নতুন প্রজন্মের অভিনয়শিল্পীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশের শোবিজ অঙ্গনে কোনো অভিনয়শিল্পীর পঞ্চাশ বছরের পথচলা নিয়ে বই প্রকাশের ঘটনা বিরল। এমন উদ্যোগ শুধু একজন শিল্পীর সম্মাননা নয়, দেশের নাট্য ও টেলিভিশন ইতিহাসের একটি মূল্যবান দলিলও বটে। মামুনুর রশীদ, আরণ্যক, আশি ও নব্বইয়ের দশকের টেলিভিশন নাটকের সোনালি যুগ, সব মিলিয়ে এই বই হতে পারে একটি প্রজন্মের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের জানালা। বইটি কবে নাগাদ প্রকাশ পাবে, সেই ঘোষণার অপেক্ষায় এখন পাঠক ও অনুরাগীরা।
বাংলাদেশের শোবিজ অঙ্গনে কোনো অভিনয়শিল্পীর পঞ্চাশ বছরের পথচলা নিয়ে বই প্রকাশের ঘটনা বিরল। এমন উদ্যোগ শুধু একজন শিল্পীর সম্মাননা নয়, দেশের নাট্য ও টেলিভিশন ইতিহাসের একটি মূল্যবান দলিলও বটে। মামুনুর রশীদ ও আরণ্যকের হাত ধরে শুরু, আশি ও নব্বইয়ের দশকের টেলিভিশন নাটকের সোনালি যুগ পেরিয়ে আজকের ওটিটি যুগ, সব মিলিয়ে এই বই হতে পারে একটি প্রজন্মের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের জানালা।
নতুন প্রজন্মের অভিনয়শিল্পীদের জন্য এই বই বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। আজিজুল হাকিম নিজেই বলেছেন, বইটির মাধ্যমে তাঁর অভিজ্ঞতাগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছাবে। মঞ্চের কঠোর অনুশীলন থেকে ক্যামেরার সামনে স্বাভাবিক অভিনয়, দীর্ঘ ক্যারিয়ারের এই শিক্ষাগুলো তরুণ শিল্পীদের পথ দেখাতে পারে। বইটি কবে নাগাদ প্রকাশ পাবে, সেই ঘোষণার অপেক্ষায় এখন পাঠক ও অনুরাগীরা।
