দীর্ঘদিন ধরে সংগীতে পথচলা ডিকিউ মিথুনের। ড্রামার হিসেবে পারফর্ম করেছেন দেশের প্রথম সারির অনেক শিল্পী ও ব্যান্ডের সঙ্গে। এখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। এবার সেখানেই মিলল তাঁর সংগীতের স্বীকৃতি। সেরা ড্রামারের পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।
১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’। সেখানেই সেরা ড্রামার হয়েছেন মিথুন। এ প্রাপ্তিতে ভীষণ উচ্ছ্বসিত তিনি।
পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে মিথুন বলেন, দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে এই পুরস্কার অনুষ্ঠিত হচ্ছে, আমেরিকার মতো দেশে। শৈশবেই তাঁর মনে স্বপ্ন জেগেছিল, কবে এই পুরস্কার পাবেন। চট্টগ্রাম থেকে উঠে এসে ঢাকায়, আর এখন যুক্তরাষ্ট্রে এসে সেরা ড্রামারের পুরস্কার পেলেন। এটা তাঁর জন্য অত্যন্ত গৌরবের। তাঁর অনেক বড় স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।
ব্যান্ডের তীর্থভূমি চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে জন্ম ও বেড়ে ওঠা মিথুনের। তিনি যখন সপ্তম শ্রেণিতে পড়তেন, সে সময়ে সংগীতে হাতেখড়ি। প্রথমে স্থানীয় কিছু ব্যান্ডে বাজিয়েছেন। পরে ২০১১ সালে ‘নেসক্যাফে গেটসেট রক’ প্রতিযোগিতায় ড্রামার হিসেবে তৃতীয় হয়েছিলেন মিথুন। সেই উৎসাহ নিয়ে ২০১২ সালে ঢাকায় পুরোদমে মিউজিক শুরু করেন তিনি।
একে একে কুমার বিশ্বজিৎ, তাহসান খান, জয় শাহরিয়ার, মিলা, পারভেজসহ অনেক জনপ্রিয় শিল্পীর সঙ্গে নিয়মিত ড্রাম বাজিয়েছেন। মিথুন বলেন, দেশের বিভিন্ন চ্যানেল মিলিয়ে প্রায় সাতশর বেশি লাইভ অনুষ্ঠান এবং প্রায় দুই হাজার কনসার্টে ড্রামস বাজিয়েছেন।
ড্রামারের মতো পর্দার আড়ালের শিল্পীদের স্বীকৃতি অনেক সময়ই কম মেলে। গায়ক বা মূল শিল্পীর আলোয় তাঁদের অবদান ঢাকা পড়ে যায়। অথচ একটি লাইভ অনুষ্ঠানের প্রাণই হলো ছন্দ। মিথুনের এই পুরস্কার তাই শুধু তাঁর একার নয়, পর্দার আড়ালে থাকা অসংখ্য সংগীতশিল্পীর পরিশ্রমেরও স্বীকৃতি।
চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ থেকে নিউইয়র্কের মঞ্চ পর্যন্ত মিথুনের এই যাত্রা তরুণ সংগীতশিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণার। প্রমাণ হয়ে গেল, ধৈর্য আর নিরলস পরিশ্রম থাকলে শৈশবের স্বপ্ন একদিন সত্যি হয়।
