বিনোদন ঝলক
সিরিয়াল

'নারীই নারীর শত্রু'? সমালোচনার মুখে পাকিস্তানি নাটক 'গুলবাহার'

বিনোদন ঝলক ডেস্ক১৫ অক্টোবর ২০২৬3 মিনিটে পড়ুন
'নারীই নারীর শত্রু'? সমালোচনার মুখে পাকিস্তানি নাটক 'গুলবাহার'

পাকিস্তানের টেলিভিশন নাটক 'গুলবাহার' ঘিরে চলছে তুমুল আলোচনা ও সমালোচনা। এক পুরুষ ও তার দুই স্ত্রীকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে নাটকের গল্প, কিন্তু নারী চরিত্রগুলোর উপস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন লেখক ফাতিমা মাজহার। জাগোনিউজ২৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার মতে সন্তানহীন স্ত্রীকে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়েতে রাজি হতে দেখা থেকে শুরু করে নারীদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব, সব মিলিয়ে নাটকটি 'নারীই নারীর শত্রু' সেই পুরোনো সামাজিক ধারণাকেই সামনে আনছে।

হাম টিভিতে প্রচারিত 'গুলবাহার'-এর গল্প লিখেছেন আলিয়া বুখারী, পরিচালনায় মেহরিন জব্বার। প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন সনম সাঈদ, ইমাদ ইরফানি ও কোমল মীর। সারা ও শেহরিয়ার এক প্রেমময় দম্পতি, যাদের জীবনে সন্তান না হওয়ার যন্ত্রণা ও সমাজের চাপ। এই শূন্যতার মধ্যেই তাদের জীবনে ঢুকে পড়ে দিয়া, আর এখান থেকেই জটিল হতে থাকে গল্প।

সনম সাঈদ ও ইমাদ ইরফানির জন্য 'গুলবাহার' আরেকটি বিশেষ পুনর্মিলন। এর আগে 'কাফিল' নাটকে জেবা ও জামি চরিত্রে তাদের জুটি দর্শকের মন জয় করেছিল। এবার তারা হাজির হয়েছেন প্রেমময় এক দম্পতি হিসেবে, যারা সন্তান না হওয়ার যন্ত্রণা আর সমাজের চাপের সঙ্গে লড়ছে। প্রথম পর্ব প্রচারের পর দর্শকের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ছিল ইতিবাচক, অনেকেই লিখেছেন পুরোনো জুটিকে নতুন গল্পে দেখতে পেরে ভালো লাগছে। কিন্তু গল্প যত এগিয়েছে, নারী চরিত্রগুলোর উপস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন ততই জোরালো হয়েছে।

সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নারী চরিত্রগুলোর দুর্বল উপস্থাপনা। ডনের বিনোদনবিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিশ্লেষণধর্মী লেখায় ফাতিমা মাজহার দেখিয়েছেন, নাটকটিতে নারীরাই নারীদের দমন করছে। শেহনাজ নামের চরিত্রটি সারার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, সারা দিয়াকে ঠেলে দিচ্ছে ভালোবাসাহীন ও বাণিজ্যিক এক বিয়েতে, সামিনা নামের আরেকটি চরিত্র দিয়ার ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। দিয়া হয়তো ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় সারার দুর্দশার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অথচ পুরুষ চরিত্রগুলো এই পুরো ঘটনায় প্রায় নীরব দর্শক হয়ে থাকছে, কেউই দায়িত্ব নিচ্ছে না।

ফাতিমার প্রশ্ন, সন্তানহীনতার মতো সংবেদনশীল একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে গল্প যখন এগোয়, তখন নারীদের নিজস্ব ইচ্ছা, সিদ্ধান্ত ও ব্যক্তিত্ব কোথায়? দ্বিতীয় বিয়ের মতো একটি বড় সিদ্ধান্তে প্রথম স্ত্রীর সম্মতিকে যেভাবে দেখানো হচ্ছে, তা বাস্তবতাকে সরলীকরণ করছে বলেই তার মত। তার মতে, গল্পে এমন কোনো নারী চরিত্র নেই যে এক পর্যায়ে বলবে, যথেষ্ট হয়েছে।

এই সমালোচনা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে পাকিস্তানি টেলিভিশনের সাম্প্রতিক ধারার প্রেক্ষাপটে। জাগোনিউজ২৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু নাটক সামাজিক নানা অসংগতি নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে: 'মিট্টি দে বাওয়ে'-তে জাতপাতের বৈষম্য, 'দার-এ-নাজাত'-এ ক্ষমা ও গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের দ্বৈত মানদণ্ড, 'হুরমত'-এ পুরুষের নিয়ন্ত্রণে নারীর জীবন। এসব নাটকে নারীদের নিজস্ব ইচ্ছা, সিদ্ধান্ত ও ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন দেখা গেলেও 'গুলবাহার' সেই জায়গায় পিছিয়ে আছে বলে মনে করছেন সমালোচকরা।

কেন এই বিতর্ক বাংলাদেশের দর্শকের জন্যও প্রাসঙ্গিক? পাকিস্তানি নাটকের জনপ্রিয়তা এখন বাংলাদেশে তুঙ্গে, ইউটিউব ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে এসব নাটকের দর্শক লাখ লাখ। দর্শক যখন এসব গল্প দেখেন, তখন গল্পের ভেতরের মূল্যবোধও তাদের ভেতরে প্রবেশ করে। তাই 'নারীই নারীর শত্রু'র মতো পুরোনো ধারণা পর্দায় ফিরে এলে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, আর সেই প্রশ্নই এখন তুলছেন সমালোচকরা।

এরপর কী? 'গুলবাহার' এখনো চলমান। সারা কি নিজের ভুল বুঝতে পারবে, দিয়া কি শেহরিয়ারকে ছেড়ে নিজের পড়াশোনায় ফিরে যাবে, এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই ঠিক করে দেবে নাটকটি শেষ পর্যন্ত সমালোচকদের আশঙ্কাকে ভুল প্রমাণ করতে পারে কি না। দর্শকের চোখ এখন সেদিকেই।

হাম টিভিতে প্রচারিত নাটকটির নতুন পর্ব নিয়মিত আসছে ইউটিউবেও, ফলে বাংলাদেশের দর্শকও সহজেই গল্পের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেখছেন। বিতর্কের এই পর্যায়ে দর্শকের প্রতিক্রিয়াই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তারা কি এই উপস্থাপনাকে মেনে নেবেন, না সমালোচকদের সঙ্গেই সুর মেলাবেন।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার