হলিউডের দুবারের অস্কারজয়ী অভিনেত্রী হিলারি সোয়াঙ্কের পরিবারে আসছে নতুন অতিথি। ৫২ বছর বয়সে তৃতীয় সন্তানের মা হতে চলেছেন তিনি। গত ১৪ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিওর মাধ্যমে এই আনন্দের খবর নিজেই জানান অভিনেত্রী। ভিডিওটি প্রকাশের এক দিন পর, ১৫ অক্টোবর নিউইয়র্কে প্রকাশ্যে দেখা যায় তাঁকে। এ সময় তাঁর বেবি বাম্পের ছবি নজর কেড়েছে ভক্তদের।
১৪ অক্টোবরের ভিডিওটিতে সোয়াঙ্কের সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্বামী ফিলিপ স্নাইডার এবং তিন বছর বয়সী যমজ সন্তান আয়া ও ওম। চারজনের শরীরেই ছিল জ্বলজ্বলে রঙিন কাঠি। অন্ধকারে নাচতে নাচতে পরিবারের আনন্দঘন মুহূর্ত উদ্যাপন করেন তাঁরা। সোয়াঙ্কের পেটেও ছিল একটি ছোট নিয়ন কাঠি দিয়ে তৈরি মানুষের অবয়ব। ভিডিওটির ক্যাপশনে রসিকতা করে সোয়াঙ্ক লেখেন, অনেকেই জানতে চাইছিলেন পরবর্তী কোন প্রকল্পে কাজ করছেন। তাঁর উত্তর: এটি ডিসেম্বরে মুক্তি পাচ্ছে।
ঘোষণার পরদিনই প্রকাশ্যে এলেন সোয়াঙ্ক। নিউইয়র্কে ‘দ্য ড্রিউ ব্যারিমোর শো’-তে অংশ নেওয়ার পর অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের হতে দেখা যায় তাঁকে। পরনে ছিল স্লিভলেস টপ, নিচু কোমরের মাতৃত্বকালীন জিনস ও রঙিন বোনা কার্ডিগান। লাল রঙের ব্যাগ এবং নেভি ব্লু রঙের হিল তাঁর সাজে যোগ করেছিল আলাদা মাত্রা। ছবিগুলো মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে ভক্তদের মধ্যে, শুভেচ্ছায় ভরে ওঠে মন্তব্যের ঘর।
তৃতীয়বার মা হওয়ার খবরে উচ্ছ্বসিত অভিনেত্রী। পিপল সাময়িকীকে তিনি জানান, অন্য সবার মতো তিনিও হঠাৎই জানতে পারেন তিনি অন্তঃসত্ত্বা। পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি ভীষণ আনন্দিত, কৃতজ্ঞ এবং রোমাঞ্চিত। প্রথমবারের মতো নয়, এবারের অভিজ্ঞতাতেও তাঁর চোখে-মুখে ছিল একই উত্তেজনা।
২০১৮ সালে উদ্যোক্তা ফিলিপ স্নাইডারকে বিয়ে করেন সোয়াঙ্ক। বিয়ের পাঁচ বছর পর, ২০২৩ সালে তাঁদের যমজ সন্তান আয়া ও ওমের জন্ম হয়। এবার পরিবারে আসছে তৃতীয় সন্তান। ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, পুরো পরিবারই নতুন সদস্যের অপেক্ষায় দিন গুনছে।
হিলারি সোয়াঙ্কের নাম হলিউডে শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়। ‘মিলিয়ন ডলার বেবি’ ও ‘বয়েজ ডোন্ট ক্রাই’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য দুবার অস্কার জিতেছেন তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বহু চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করেছেন এই অভিনেত্রী। তবে গত কয়েক বছরে অভিনয়ের পাশাপাশি মাতৃত্বই তাঁর জীবনের কেন্দ্রে জায়গা করে নিয়েছে।
এর আগে চল্লিশের শেষ দিকে প্রথমবার মা হওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছিলেন অভিনেত্রী। ২০২৫ সালে উইমেনস হেলথ সাময়িকীকে তিনি জানান, আরও আগে সন্তান নেওয়া সম্ভব হলে হয়তো নিতেন। তবে ৪৭ বছর বয়সে মা হওয়ার সময়টিকে তিনি জীবনের বিশেষ এক অধ্যায় হিসেবে দেখেন। তাঁর ভাষায়, তিনি সক্রিয়ভাবে ৪৭ বছর বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করেননি। তবে জীবনের অনেক কিছু এক জায়গায় এসে মিলেছিল তখন। নানা কারণে সেটিই ছিল সঠিক সময়।
সন্তানদের বড় করে তোলার অভিজ্ঞতা সম্পর্কেও খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি। সোয়াঙ্কের মতে, চল্লিশের শুরুর দিকেও মা হলে তিনি এখনকার মতো ধৈর্যশীল ও বোঝাপড়ায় আগ্রহী অভিভাবক হতে পারতেন না। সন্তানদের চিন্তাভাবনা, তাদের আচরণের পেছনের কারণ এবং তারা কীভাবে পৃথিবীকে দেখে, সেসব বুঝতে এখন তাঁর বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মাতৃত্ব তাঁকে আরও ধৈর্যশীল করেছে বলে মনে করেন তিনি।
৫২ বছর বয়সে সন্তানধারণের খবর হলিউডে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিলম্বিত মাতৃত্ব নিয়ে খোলামেলা কথা বলছেন অনেক তারকা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি আর ব্যক্তিগত পছন্দের জায়গা থেকে পঞ্চাশ পেরিয়েও মা হওয়ার ঘটনা এখন আর বিরল নয়। সোয়াঙ্কের ঘোষণা সেই আলোচনাকেই আরও জোরালো করল।
এখন ভক্তদের চোখ ডিসেম্বরের দিকে। সোয়াঙ্কের রসিকতামাখা ক্যাপশন অনুযায়ী, তাঁর এই ‘প্রকল্প’ মুক্তি পাচ্ছে ডিসেম্বরে। তার আগ পর্যন্ত স্বাস্থ্য আর পরিবারকে সময় দিতেই বেশি মনোযোগী থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তৃতীয় সন্তানের আগমনে সোয়াঙ্ক-স্নাইডার পরিবারকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন ভক্ত ও সহকর্মীরা।
