বলিউড অভিনেতা ইমরান খান অভিনয় থেকে দীর্ঘদিন দূরে থাকলেও তাঁকে নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ কমেনি। এর মধ্যেই নতুন করে সামনে এসেছে তাঁর জীবনের এক অন্য অধ্যায়, প্রকৃতির কোলে নিজের হাতে স্বপ্নের বাড়ি গড়ে তোলার গল্প। ২০২৪ সালের জুনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বাড়ির ছবি প্রকাশ করেছিলেন ইমরান। সেই পোস্ট আর বাড়ি তৈরির অভিজ্ঞতাই এখন আবার আলোচনায় এসেছে।
ইমরান জানিয়েছিলেন, কয়েক বছর ধরে সময় নিয়ে বাড়িটি তৈরি করেছেন তিনি। অভিনয়ের বাইরে নতুন কিছু শেখার আগ্রহ থেকেই এই কাজে হাত দিয়েছিলেন অভিনেতা। বাড়ির জায়গাটি ছিল অসমতল। এর দুই পাশে রয়েছে মৌসুমি জলধারা, পেছনে পাহাড়ের খাড়া ঢাল এবং সামনে সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ। এমন পরিবেশে বাড়ি তৈরি করতে গিয়ে প্রকৃতিকে বদলে দেওয়ার বদলে তার সঙ্গে মানানসই নকশা বেছে নিতে চেয়েছিলেন তিনি।
নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ইমরান জানিয়েছিলেন, তাঁর উদ্দেশ্য বিলাসবহুল কোনো অবকাশযাপন কেন্দ্র তৈরি করা ছিল না। বরং এমন একটি বাড়ি গড়তে চেয়েছিলেন, যেখান থেকে চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। বাড়ির নকশা চূড়ান্ত করার আগে প্রথম এক বছর বিভিন্ন সময়ে সেখানে যেতেন অভিনেতা। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্য, বর্ষায় জলধারার পরিবর্তন এবং ঋতুভেদে গাছপালার রূপ পর্যবেক্ষণ করতেন। এসব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নিজের নকশা বারবার সংশোধন করেছেন তিনি।
বাড়িটি তৈরির ক্ষেত্রেও প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ইমরান। ঠিকাদার ও কাঠামো প্রকৌশলীর সঙ্গে আলোচনা করে সাধারণ কংক্রিটের ছাদের বদলে আশপাশের গ্রামের বাড়িঘর থেকে অনুপ্রাণিত নির্মাণপদ্ধতি বেছে নেন। বাড়িটির ভিত্তিতে ব্যবহার করা হয়েছে পাথরের বেদি। একতলা ইটের দেয়ালের ওপর রয়েছে স্টিলের ছাদের কাঠামো এবং আগে থেকে তৈরি তাপ নিরোধক ছাদের পাত।
ইমরান অবশ্য বাড়িটিকে নিখুঁত স্থাপত্যকর্ম বলে দাবি করেননি। তিনি জানান, বাড়িটির কিছু অংশে অসম্পূর্ণতার ছাপ রয়ে গেছে। তবে পুরো কাজটি তাঁর কাছে ছিল আনন্দের অভিজ্ঞতা। চলচ্চিত্রে স্থপতির চরিত্রে অভিনয় করলেও বাস্তবে বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে তাঁর কোনো আনুষ্ঠানিক স্থাপত্যশিক্ষা ছিল না। আগ্রহ, পর্যবেক্ষণ এবং নতুন কিছু শেখার ইচ্ছাকে সঙ্গী করেই কাজটি করেছেন তিনি।
