আজ, ১৫ অক্টোবর, বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে রজনীকান্ত অভিনীত বহুপ্রতীক্ষিত ছবি 'জেলার ২'। আর মুক্তির আগেই ছবিটি বক্স অফিসে ইতিহাস গড়েছে: ভারতে অগ্রিম বুকিং থেকে আয় ৫৭ কোটি রুপি ছাড়িয়ে গেছে, উদ্বোধনী দিনে বিদেশের বাজারেও টিকিট বিক্রি ২৫ কোটি রুপি পেরিয়ে গেছে বলে খবর। কালের কণ্ঠের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অগ্রিম বুকিংয়ের বিশ্বব্যাপী আয় ১০০ কোটির মাইলফলক ছুঁতে পারে, যা তামিল সিনেমার জন্য নতুন নজির।
চার দিন আগেই শুরু হয়েছিল অগ্রিম বুকিং। প্রতিবেদনগুলো থেকে দেখা যায়, প্রতিটি দিনই আয় বেড়েছে ধারাবাহিকভাবে। মুক্তির পাঁচ দিন আগে অগ্রিম বুকিং ছিল ২০ কোটি রুপির বেশি, চার দিন আগে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২২ দশমিক ৩২ কোটি রুপিতে। মুক্তির দুই দিন আগে বুকিং পার হয় ৪০ কোটির অঙ্ক। টিকিট বুকিং ট্র্যাকার সাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, মুক্তির দুই দিন আগেই প্রায় ১৯ দশমিক ৮৪ লাখ টিকিট বিক্রি হয়েছিল, সারা দেশের প্রায় ২০ হাজার শোতে। প্রথম দিনেই সবচেয়ে বেশি সাড়া ছিল, দর্শক উপস্থিতির হার ছিল ৩৬ শতাংশ। ভারতের বাইরেও উদ্বোধনী দিনের টিকিট নিয়ে ভক্তদের মধ্যে যে তীব্র প্রতিযোগিতা, তা বিদেশি বাজারের ২৫ কোটি ছাড়িয়ে যাওয়ার পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট।
পেছনের গল্পটা তিন বছরের। 'জেলার' মুক্তি পেয়েছিল ২০২৩ সালে, সুপারস্টার রজনীকান্তের তখনকার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক সাফল্য। ছবিটি বিশ্বজুড়ে ১০০০ কোটি রুপির বেশি আয় করেছিল এবং সেই বছরের সর্বোচ্চ আয়কারী তামিল চলচ্চিত্র হয়েছিল। তাই সিক্যুয়াল ঘিরে ভক্তদের উন্মাদনা ছিল স্বাভাবিক। পরিচালনায় আবার নেলসন দিলীপ কুমার। এবার রজনীকান্ত ফিরেছেন অবসরপ্রাপ্ত জেলার টাইগার মুথুভেল পান্ডিয়ান চরিত্রে, যার শান্ত জীবনে অপরাধ জগতের নতুন হুমকি ঢুকে পড়লে তাকে ফিরতে হয় পুরোনো রূপে, পরিবার আর ঐতিহ্য রক্ষার লড়াইয়ে।
আঞ্চলিক চিত্রেও ছবির দাপট স্পষ্ট। খবর অনুযায়ী, অগ্রিম বুকিং থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে চেন্নাই, এরপরেই রয়েছে কোয়েম্বাটুর ও হায়দ্রাবাদ। সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার শোতে ১৯ দশমিক ৮৪ লাখ টিকিট বিক্রি হয়েছে। মুক্তির চার দিন আগে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে সংগ্রহ ছিল ৫ দশমিক ৩২ কোটি রুপি, প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার ৬৭৪টি পর্দায়। এর মধ্যে তামিলনাড়ুই ছিল সবচেয়ে বড় অবদানকারী, কেরালাতেও ভালো সাড়া মিলেছে। হিন্দি ও মালয়ালম সংস্করণে বিক্রি তুলনামূলক কম হলেও সামগ্রিক চিত্র একটাই, রজনীকান্তের ছবি মানেই বক্স অফিসে ঝড়।
ছবির কাস্টও এবার আরও বড়। রজনীকান্তের সঙ্গে রয়েছেন মিঠুন চক্রবর্তী, বিদ্যা বালান, রম্যা কৃষ্ণান ও যোগী বাবুর মতো তারকারা। ছবির দৈর্ঘ্য ২ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট, সেন্সর সনদ পেয়েছে ইউএ ১৬ প্লাস। মুক্তি পাচ্ছে তামিল, তেলেগু, হিন্দি ও কন্নড়, এই চার ভাষায়। খবর অনুযায়ী, বেশ কয়েকজন বড় তারকার বিশেষ অতিথি চরিত্রে দেখা যাওয়ার কথা রয়েছে, যা নিয়েও দর্শকের মধ্যে আলাদা কৌতূহল।
ছবিটি সেন্সর সনদ পেয়েছে ইউএ ১৬ প্লাস। গল্পে রজনীকান্তের চরিত্র টাইগার মুথুভেল পান্ডিয়ান একজন অবসরপ্রাপ্ত জেলার, যার শান্ত জীবন ভেঙে পড়ে অপরাধ জগতের নতুন হুমকিতে। পরিবার ও নিজের ঐতিহ্য রক্ষায় তাকে ফিরতে হয় পুরোনো নির্মম রূপে। প্রথম ছবিতেও এই চরিত্রের দ্বৈততাই ছিল মূল আকর্ষণ, নির্মম অপরাধী শিকারি আর স্নেহশীল পারিবারিক মানুষ, এই দুই রূপের টানাপোড়েন।
ভক্তদের উন্মাদনার চিত্রটাও চেনা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুক্তির আগের দিন থেকেই তামিলনাড়ুর প্রেক্ষাগৃহগুলোতে টিকিটের জন্য ভক্তদের লাইন পড়ে। রজনীকান্তের ব্যানার-পোস্টারে মালা পরানো হয়, ফাটানো হয় আতশবাজি, তার কাটআউটে দুধ ঢেলে করা হয় পূজা। ২০২৩ সালে 'জেলার' মুক্তির সময়ও একই চিত্র দেখা গিয়েছিল। এমনকি একটি সংস্থার কর্মচারীদেরও ছবিটির মুক্তির দিনে ছুটি দেওয়া হয়েছিল, ভক্তদের আবেগের এই তীব্রতা তামিল সিনেমার সংস্কৃতিরই অংশ।
এই বুকিং রেকর্ড শুধু একটি ছবির সাফল্য নয়, বড় বার্তাও বহন করে। তামিল সিনেমার বক্স অফিসের জন্য বছরটি মিশ্র গেছে, এমন সময়ে একটি বড় ছবির শক্তিশালী ওপেনিং পুরো ইন্ডাস্ট্রির মনোবল বাড়ায়। আর সত্তরোর্ধ্ব বয়সেও রজনীকান্তের বাণিজ্যিক টান যে এখনো অপ্রতিদ্বন্দ্বী, এই অগ্রিম বুকিংয়ের পরিসংখ্যানই তার প্রমাণ।
এবার চোখ থাকবে প্রথম দিনের সংগ্রহের দিকে। খবর অনুযায়ী, মুক্তির দিনেই আয় ১০০ কোটি ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে। তবে অগ্রিম বুকিংয়ের রেকর্ড আর দীর্ঘস্থায়ী সাফল্য এক নয়, সেটা ঠিক করবে দর্শকের প্রতিক্রিয়া আর মুখের প্রচার। রজনী ভক্তরা অবশ্য ইতিমধ্যেই প্রেক্ষাগৃহকে উৎসবের মাঠে বদলে ফেলেছেন।
