বক্স অফিস ট্র্যাকার স্যাকনিল্কের পূর্ণ-দিনের হিসাবে 'জেলার ২'-এর দ্বিতীয় দিনের চিত্র এখন স্পষ্ট। ১৬ অক্টোবর, শুক্রবার ছবিটি ভারতে নিট আয় করেছে ৩৫ কোটি ৬০ লাখ রুপি, মোট ১৩ হাজার ১৫৭টি শো থেকে। ভাষাভেদে এই আয়ের বণ্টন: তামিল সংস্করণ ২৫ কোটি ২৫ লাখ (৭ হাজার ২৪৩ শো), তেলুগু ৭ কোটি ২৫ লাখ (১ হাজার ৯৪০ শো), হিন্দি ২ কোটি ৭৫ লাখ (৩ হাজার ৮৫০ শো) ও কন্নড় ৩৫ লাখ (১২৪ শো)। প্রথম দিনের ৫৯ কোটি ৭০ লাখের তুলনায় দ্বিতীয় দিনের পতন ৪০ দশমিক ৪ শতাংশ। দুই দিন মিলিয়ে ভারতে ছবির মোট নিট আয় দাঁড়াল ৯৫ কোটি ৩০ লাখ রুপি, মোট গ্রস ১১২ কোটি ১০ লাখ। বিদেশের বাজার থেকে দ্বিতীয় দিনে এসেছে ৪০ কোটি, ফলে ওভারসিজ মোট এখন ৯৭ কোটি। সব মিলিয়ে দুই দিনে 'জেলার ২'-এর বিশ্বব্যাপী আয় ২০৯ কোটি ১০ লাখ রুপি। স্যাকনিল্কের হিসাবে দ্বিতীয় দিনে প্রেক্ষাগৃহে দর্শক ছিলেন ২৩ লাখ ৮৩ হাজারের বেশি, দুই দিনে মোট ৬১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি। এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করে রাখা দরকার: বক্স অফিসের এই সব সংখ্যা ট্রেড-এস্টিমেট, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক হিসাব নয়; বিভিন্ন ট্র্যাকারের অঙ্কে কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে।
প্রথম দিনের হিসাব ছিল (এনটিভি অনলাইনের বাংলা কভারেজ অনুযায়ী): বিশ্বব্যাপী ১২৫ কোটি ২৫ লাখ, যার মধ্যে ভারত থেকে গ্রস ৭০ কোটি ২৫ লাখ আর বিদেশ থেকে ৫৫ কোটি। ভারতে প্রথম দিনের নিট আয় ছিল ৫৯ কোটি ৭০ লাখ (তামিল ৪৩ কোটি ৩৫ লাখ, তেলুগু ১২ কোটি ৫০ লাখ, হিন্দি ৩ কোটি ৫০ লাখ, কন্নড় ৩৫ লাখ)। উল্লেখ্য, গতকাল সকালে প্রকাশিত আমাদের প্রতিবেদনে দ্বিতীয় দিনের প্রাথমিক হিসাব ছিল মাত্র ২ কোটি ৩২ লাখ রুপি (সকাল ৯টা ৩ মিনিট পর্যন্ত); দিনের শেষের পূর্ণ হিসাবে সেই অঙ্ক বহুগুণ বেড়েছে। এটাই প্রাথমিক ও চূড়ান্ত ট্রেড-হিসাবের পার্থক্য, এবং এ কারণেই চূড়ান্ত সংখ্যা আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।
বাজেটের প্রেক্ষাপটে এই শুরু তাৎপর্যপূর্ণ। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, টাইমস অব ইন্ডিয়ার হিসাবে ছবির বাজেট ২৪০ থেকে ৩০০ কোটি রুপির মধ্যে। তুলনায় ২০২৩ সালের 'জেলার' তৈরি হয়েছিল প্রায় ২০০ কোটি রুপিতে, আর সারা জীবনে আয় করেছিল ৬০০ কোটির বেশি। মাত্র দুই দিনে ২০৯ কোটির বিশ্বব্যাপী আয় 'জেলার ২'-কে বাজেট-পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে দিয়েছে, যদিও চূড়ান্ত রায় নির্ভর করবে সপ্তাহান্ত ও তার পরের দিনগুলোর ধারাবাহিকতার ওপর।
নেলসন দিলীপকুমার পরিচালিত এই অ্যাকশন-কমেডি সিক্যুয়েলে রজনীকান্ত ফিরেছেন টাইগার মুথুভেল পাণ্ডিয়ান রূপে, যিনি এবার মূর্তি-পাচারকারী একটি সিন্ডিকেটের তদন্তে নামেন। গল্পের কেন্দ্রে কালপাক পরিবার: মিঠুন চক্রবর্তী কালপাক, বিদ্যা বালান কান্থা ও এস জে সূর্য বোধি চরিত্রে। সঙ্গে আছেন রম্যা কৃষ্ণন, মোহনলাল, শিবরাজকুমার, জ্যাকি শ্রফ ও বিজয় সেতুপতিসহ অনেকে। সংগীত অনিরুদ্ধ রবিচন্দরের, চিত্রগ্রহণ বিজয় কার্তিক কান্নানের, সম্পাদনা আর নির্মলের। প্রযোজনা সান পিকচার্সের।
ছবির সমাপ্তি ঘিরে ইতিমধ্যে 'জেলার ৩'-এর জল্পনা শুরু হয়েছে। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেষ দৃশ্যে কালপাক তার হুইলচেয়ারে লাগানো বোমার ট্রিগার চাপেন, বিস্ফোরণে তিনি মারা যান, টাইগার বেঁচে যান। কান্থা আহত হন, বোধি মৃত্যুর হাত থেকে পালান। নিজের ছেলে অর্জুনকে হত্যার দায়ে টাইগার আত্মসমর্পণ করেন, তাকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে হুইলচেয়ারে কান্থার পুনরাবির্ভাব ও বিজয় সেতুপতির চমকপ্রদ ক্যামিও তৃতীয় পর্বের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন দর্শকরা। তবে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনো আসেনি।
এখন নজর তৃতীয় ও চতুর্থ দিনের দিকে। বড় ওপেনিংয়ের ছবিতে দ্বিতীয় দিনে ৪০ শতাংশ পতন অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু সপ্তাহান্তে সেই ধারা থামাতে না পারলে ছবির দীর্ঘমেয়াদি দৌড় কঠিন হবে। পঁচাত্তর ছুঁইছুঁই বয়সেও রজনীকান্তের বক্স অফিস-টান যে অটুট, দুই দিনের সংখ্যাই তার প্রমাণ। 'জেলার ২'-এর প্রথম দিনের পূর্ণ কভারেজ, মুক্তির দিনে ভক্তদের উন্মাদনা আর অগ্রিম বুকিংয়ের রেকর্ড নিয়ে আমাদের আগের প্রতিবেদনগুলো পড়তে পারেন।
