রবিবার, অর্থাৎ মুক্তির চতুর্থ দিনে বড় লাফ দিল রজনীকান্তের 'জেলার ২'। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার ট্রেড-হিসাব অনুযায়ী, চতুর্থ দিনে ছবিটি ভারতে নিট আয় করেছে ৫৫.৮৫ কোটি রুপি। সারা দিনে অকুপেন্সি ছিল ৬২ শতাংশ। এই একদিনেই প্রেক্ষাগৃহে ঢুকেছেন ৩৬ লাখ ৮৭ হাজারের বেশি দর্শক। চার দিন মিলিয়ে মোট ফুটফল পৌঁছেছে ১ কোটি ৩০ লাখের ঘরে। একই সঙ্গে ছবিটি ভারতে নিট ১৫০ কোটির মাইলফলক পার করেছে, আর বিশ্বব্যাপী গ্রস ছুঁয়েছে ৪২৪.২৫ কোটি রুপি।
দিনভিত্তিক হিসাবটা দেখলে রবিবারের এই ঝাঁপ আরও স্পষ্ট হয়। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মুক্তির দিন ভারতে নিট আয় ছিল ৫৯.৭০ কোটি রুপি; ১৬ হাজার ৫৯৯টি শোতে অকুপেন্সি ৫৫.৪ শতাংশ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তা নেমে আসে ৩৭.১০ কোটিতে; ১৩ হাজার ১৫৭টি শো, অকুপেন্সি ৪৮.২ শতাংশ। শনিবার (১৭ অক্টোবর) ঘুরে দাঁড়ায় ৪৭.২৫ কোটিতে; ১৪ হাজার ৬০৪টি শো, অকুপেন্সি ৫৩.৯ শতাংশ। আর রবিবার (১৮ অক্টোবর) ৫৫.৮৫ কোটি; অকুপেন্সি ৬২ শতাংশ। অর্থাৎ শুক্রবারের পতনের পর টানা দুই দিন বাড়তি আয়, রবিবার প্রায় ওপেনিং-দিনের কাছাকাছি।
ভাষাভিত্তিক ভাগেও রবিবার তামিল সংস্করণই ছিল সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি। রবিবারে তামিল সংস্করণ ৮ হাজার ১৭৩টি শো থেকে নিট আয় করেছে ৩৯.৯৫ কোটি রুপি; অকুপেন্সি ৮০ শতাংশ। তেলুগু সংস্করণ ২ হাজার ২৩৪টি শোতে ৯.৫০ কোটি (৬৪.৩ শতাংশ অকুপেন্সি), হিন্দি সংস্করণ ৪ হাজার ৯০২টি শোতে ৫.৭৫ কোটি (৩১ শতাংশ), কন্নড় সংস্করণ ১৬৪টি শোতে ০.৬৫ কোটি (৬১ শতাংশ)। তামিল সংস্করণের ২ডি শোতে সার্বিক অকুপেন্সি ছিল ৮২.৫৮ শতাংশ; সকালের শো ৬৭.০৮, দুপুরে ৮৭.০৮, সন্ধ্যায় ৮৮.৭৭ ও রাতে ৮৭.৩৮ শতাংশ।
চার দিনের মোট হিসাবে ভারতে নিট আয় দাঁড়িয়েছে ১৯৯.৯০ কোটি রুপি (ফিল্মবিটের হিসাব)। অর্থাৎ ২০০ কোটির দরজায় কড়া নাড়ছে ছবিটি, যা সোমবারই পার হওয়ার কথা। বিশ্বব্যাপী ৪২৪.২৫ কোটি গ্রস নিয়ে এখন নজর ৫০০ কোটির দৌড়ের দিকে। ট্রেড-বিশ্লেষকদের হিসাবে, এই গতিতে প্রথম সপ্তাহ শেষে বিশ্বব্যাপী আয় ৫০০ কোটির খুব কাছে পৌঁছাতে পারে। মনে রাখতে হবে, এসবই ট্রেড-ট্র্যাকারের আনুমানিক হিসাব; চূড়ান্ত সংখ্যা সংশোধিত হতে পারে।
ছবির পেছনের শক্তিটা বোঝা জরুরি। নেলসন দিলীপকুমার পরিচালিত এই সিক্যুয়েলে রজনীকান্ত ফিরেছেন অবসরপ্রাপ্ত জেলার টাইগার মুথুভেল পান্ডিয়ান চরিত্রে। রাম্যা কৃষ্ণান, যোগী বাবু, মিরনা ও রিথ্বিক আগের পর্বের চরিত্রে ফিরেছেন; নতুন করে যোগ দিয়েছেন এস জে সূর্য, মিঠুন চক্রবর্তী, সুরজ ভেনজারামুদু ও বিদ্যা বালান। ক্যামিওতে আছেন মোহনলাল, শিব রাজকুমার, জ্যাকি শ্রফ, হৃতিক রোশন, বিজয় সেতুপতি ও বিনায়কন। সান পিকচার্সের প্রযোজনায় সংগীত অনিরুধ রবিচন্দরের। ২০২৩-এর 'জেলার'-এর এই সিক্যুয়েল নিয়েই এ বছরের সবচেয়ে বড় তামিল রিলিজের তকমা।
বাজেট-প্রসঙ্গেও নজর দেওয়া যাক। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ছবির বাজেট ২৪০ থেকে ৩০০ কোটি রুপির মধ্যে বলে দাবি করা হয়েছে, যদিও সংখ্যাটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়। চার দিনে ৪২৪.২৫ কোটি বিশ্বব্যাপী গ্রসের বিপরীতে এই বাজেট ধরলে ছবি ইতিমধ্যেই নিরাপদ অঞ্চলে। বিদেশের বাজারেও ছবির পারফরম্যান্স উল্লেখযোগ্য; ওপেনিং-দিনে বিদেশ থেকে ৫৫ কোটি গ্রস নিয়ে তামিল সিনেমার ইতিহাসে সেরা তিন বিদেশি ওপেনিংয়ের একটিতে জায়গা করে নিয়েছে 'জেলার ২'।
এরপর কী? সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে কর্মদিবসের পরীক্ষা। শুক্র-শনি-রবির এই ঊর্ধ্বগতি সপ্তাহের মাঝামাঝি ধরে রাখতে পারলে প্রথম সপ্তাহেই ৫০০ কোটির মাইলফলক ছোঁয়া অসম্ভব নয়। তবে সামনে নতুন রিলিজের চাপও আসছে; তাই মঙ্গল-বুধবারের ধরে রাখার হারই বলে দেবে 'জেলার ২' কত দূর যাবে।
বিদেশের বাজারেও 'জেলার ২'-এর দাপট অব্যাহত। তৃতীয় দিনে বিদেশ থেকে আয় ছিল ৪৭.৫০ কোটি রুপি; তিন দিনে মোট বিদেশি গ্রস দাঁড়িয়েছিল ১৪৭.৫০ কোটিতে। চতুর্থ দিনের ৪২৪.২৫ কোটি বিশ্বব্যাপী গ্রসের মধ্যে ভারতীয় গ্রস ও বিদেশি আয় দুটোই যুক্ত। ওপেনিং-দিনে বিদেশ থেকে ৫৫ কোটি গ্রস নিয়ে ছবিটি তামিল সিনেমার ইতিহাসে সেরা তিন বিদেশি ওপেনিংয়ের একটিতে জায়গা করে নিয়েছিল; সেই ধারা চতুর্থ দিনেও বজায় আছে।
রজনীকান্তকে ঘিরে দর্শক-উন্মাদনার চিত্রটাও এই বক্স-অফিসের পেছনের গল্প বলে। মুক্তির দিনে ভক্তরা পোস্টারে দুধ ঢেলে আরতি করেছিলেন রজনীকান্তের; এমন দৃশ্য তামিলনাড়ুতে নতুন নয়, কিন্তু 'জেলার ২'-এর ক্ষেত্রে তা আবারও দেখা গেছে। পাঁচ দশকের ক্যারিয়ারে ১৬০-এর বেশি ছবি করা এই অভিনেতা পদ্মভূষণ, পদ্মবিভূষণ ও দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে ভূষিত; ৭৫ বছর বয়সেও তাঁর ছবি মানেই উৎসব।
প্রথম পর্বের সঙ্গে তুলনাটাও প্রাসঙ্গিক। ২০২৩-এ মুক্তি পাওয়া 'জেলার' বক্স-অফিসে বড় সাফল্য পেয়েছিল; সেই ফ্র্যাঞ্চাইজির দ্বিতীয় পর্ব হিসেবে 'জেলার ২'-এর ওপর প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া। চার দিনে ৪২৪.২৫ কোটির হিসাব বলছে, সিক্যুয়েল সেই প্রত্যাশা পূরণের পথেই আছে। এখন প্রশ্ন শুধু একটাই: ৫০০ কোটির মাইলফলক কত দিনে ছোঁবে।
