বিনোদন ঝলক
সিনেমা

'প্রথম শো দর্শকশূন্য, দ্বিতীয় শোতে মাত্র ৩০ জন': তবু কৃতজ্ঞ নায়ক জয় চৌধুরী

বিনোদন ঝলক ডেস্ক১৭ অক্টোবর ২০২৬3 মিনিটে পড়ুন
'প্রথম শো দর্শকশূন্য, দ্বিতীয় শোতে মাত্র ৩০ জন': তবু কৃতজ্ঞ নায়ক জয় চৌধুরী

দুর্গাপূজার ছুটিতে দর্শকদের জন্য প্রেক্ষাগৃহে এসেছে চার নতুন সিনেমা। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর মুক্তি পাওয়া ছবিগুলোর মধ্যে দেশীয় তিনটি: 'স্নেহের বন্ধন', 'চিরকুট' ও 'কাট-পিস'। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হলো, কোনো সিনেমাই হলে তেমন দর্শক টানতে পারছে না। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচনায় এসেছে জয় চৌধুরী অভিনীত 'স্নেহের বন্ধন', আর সেটা মুক্তির পর এক সংবাদ সম্মেলনে নায়কের দেওয়া এক সরল বক্তব্যকে কেন্দ্র করে।

সিনেমা মুক্তির পর সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন জয় চৌধুরী। সেখানে তাঁকে জানানো হয়, তাঁর সিনেমাটির প্রথম শো ছিল দর্শকশূন্য। দ্বিতীয় শোতে মাত্র ৩০ জন দর্শক পেয়েছে ছবিটি। সিনেমার এমন ভরাডুবি দেখেও নেতিবাচক হননি জয়। বরং এরই মাঝে শোনালেন আশার বাণী। তিনি বলেন, 'শুক্রবারে সিনেমা এমনিতেই কম চলে। আর আজকাল তো সিনেমায় দর্শকই হয় না। ৩০ জনও আসে না। এখানে ৩০ জন টিকিট কেটেছেন, সারা দেশে আরও হলে অনেকে যাচ্ছেন। তাদের সাধুবাদ জানান, ধন্যবাদ জানান, কৃতজ্ঞতা জানান। তবুও তো উনারা এসেছেন।'

জয়ের এই বক্তব্য শুনে বোঝা যায়, তিনি পরিস্থিতির বাস্তবতা অস্বীকার করছেন না। আজকাল সিনেমায় দর্শক হয় না বলে যে আক্ষেপ তিনি করেছেন, সেটা ঢালিউডের অনেক শিল্পী ও নির্মাতারই মনের কথা। কিন্তু এর পরই তিনি যে কৃতজ্ঞতার কথা বলেছেন, তা তাঁর ইতিবাচক মানসিকতারই পরিচয়। যাঁরা টিকিট কেটে হলে এসেছেন, তাঁদের প্রতি সম্মান জানানোকে তিনি বড় করে দেখেছেন, আর সারা দেশের বিভিন্ন হলের দর্শকদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

ছবিটির পরিচয়ও এই আলোচনাকে পূর্ণতা দেয়। পারিবারিক গল্পে কামরুজ্জামান পরিচালনা করেছেন 'স্নেহের বন্ধন'। সিনেমার গল্প একটি যৌথ পরিবারকে কেন্দ্র করে, যেখানে সময়ের বিবর্তনে ভাই-বোন ও মা-বাবার সম্পর্কে তৈরি হয় দূরত্ব, অহংকার আর ভুল বোঝাবুঝির পাহাড়। কিন্তু জীবনের কোনো এক কঠিন মুহূর্তে সেই অভিমান আর দূরত্ব ভেঙে একে অপরের প্রতি স্নেহের টানই হয়ে ওঠে একমাত্র আশ্রয়। এমন একটি আবেগঘন পারিবারিক গল্প নিয়েই পূজার ছুটিতে হলে এসেছে ছবিটি।

অভিনয়শিল্পীদের তালিকাও বেশ সমৃদ্ধ। জয় চৌধুরীর সঙ্গে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মৌ খান, শিবা শানু, কাজী হায়াৎ, সাবেরী আলম, নাদের চৌধুরী, রিনা খান প্রমুখ। ছবিটি প্রযোজনা করেছেন মো. শাহ আলম। পারিবারিক দর্শকদের টানার মতো গল্প ও পরিচিত মুখ থাকা সত্ত্বেও প্রথম দিনে হলে দর্শকের এমন হতাশাজনক চিত্র তাই শিল্পীদের জন্য বড় একটা ধাক্কা।

পটভূমিতে তাকালে দেখা যায়, মুক্তির সময়টা কিন্তু খারাপ ছিল না। দুর্গাপূজার ছুটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহের জন্য ঐতিহ্যগতভাবে ভালো মৌসুম, এই সময়ে দর্শকদের হলে আসার সম্ভাবনা বেশি থাকে। 'স্নেহের বন্ধন'-এর পাশাপাশি একই দিনে মুক্তি পেয়েছে 'চিরকুট' ও 'কাট-পিস'। তবু জাগো নিউজের রিপোর্ট বলছে, কোনো ছবিই হলে দর্শক টানতে পারছে না। অর্থাৎ সমস্যাটা শুধু একটি ছবির নয়, পূজার এই মুক্তি-সপ্তাহে সবগুলো নতুন ছবিই দর্শক-খরায় ভুগছে।

এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ, তার উত্তর ঢালিউডের সাম্প্রতিক বাস্তবতায়। প্রেক্ষাগৃহে দর্শক ফেরানো নিয়ে শিল্পীরা বছরের পর বছর কথা বলে আসছেন, নতুন ছবি মুক্তি, প্রচারণা, উৎসব-মৌসুম, সব কৌশলই চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু পূজার মতো বড় ছুটিতেও নতুন তিনটি দেশীয় ছবি দর্শক টানতে না পারলে প্রশ্ন ওঠে গভীরে। জয়ের বক্তব্যে যে আক্ষেপ ছিল, 'আজকাল তো সিনেমায় দর্শকই হয় না', সেটাই এখন শিল্পের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের স্বীকারোক্তি।

তবে জয় চৌধুরীর কৃতজ্ঞতার ভঙ্গি এই অন্ধকারের মধ্যেও একটা আলো। দর্শক কম হোক বা বেশি, যাঁরা এসেছেন তাঁদের সম্মান জানানো, আর হাল না ছেড়ে আশার কথা বলা, এটাই একজন শিল্পীর পেশাদারিত্ব। পূজার ছুটি এখনো বাকি, সামনের দিনগুলোতে 'স্নেহের বন্ধন'সহ নতুন ছবিগুলো দর্শক টানতে পারে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার