নিজের ব্যক্তিত্ব ও প্রচারের অধিকার রক্ষায় এবার দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন। তাঁর নাম, ছবি, অবয়ব ও পরিচিতির অন্যান্য বৈশিষ্ট্য অনুমতি ছাড়া ব্যবহারের অভিযোগ তুলে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বিষয়বস্তু এবং ডিজিটাল মাধ্যমে তাঁর পরিচয়ে ছদ্মবেশ ধারণের বিষয়গুলোও রয়েছে তাঁর আবেদনে।
কালের কণ্ঠের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মামলাটি বিচারপতি পুরুষেন্দ্র কুমার কৌরভের একক বেঞ্চে উত্থাপিত হয়। আদালত অভিনেত্রীর আইনজীবীকে এ বিষয়ে প্রাসঙ্গিক রায়, গবেষণাপত্র ও অন্যান্য নথি জমা দিতে বলেছে। দিল্লি হাইকোর্ট জানিয়েছে, জমা দেওয়া নথিপত্র পর্যালোচনা করে পূর্ণাঙ্গ আদেশ দেওয়া হবে। মামলাটির পরবর্তী শুনানি আগামী ২৯ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্যক্তিত্বের অধিকার বলতে আসলে কী বোঝায়? সহজ ভাষায়, এটি একজন পরিচিত ব্যক্তির নাম, ছবি, কণ্ঠ, অবয়ব ও পরিচিতির অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের বাণিজ্যিক বা অননুমোদিত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের অধিকার। এআই যুগে এই অধিকার আরও জরুরি হয়ে উঠেছে, কারণ এখন যে কারও ছবি দিয়েই ভুয়া ভিডিও বা বিজ্ঞাপন তৈরি করা সম্ভব। আদালতও এই কারণে বিষয়টির আইনি ভিত্তি ও পরিধি বিস্তারিত পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে।
কেন বাড়ছে এমন মামলা? কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে দিল্লি হাইকোর্টে ব্যক্তিত্বের অধিকার নিয়ে বিরোধের সংখ্যা বাড়ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে ভুয়া পরিচয় তৈরি, ডিপফেক, মিথ্যা প্রচারণা এবং পরিচিতির অননুমোদিত বাণিজ্যিক ব্যবহার থেকে সুরক্ষা চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন বিভিন্ন ক্ষেত্রের পরিচিত ব্যক্তিরা। অর্থাৎ, এটি কোনো একক তারকার সমস্যা নয়, গোটা বিনোদন ও ক্রীড়া অঙ্গনেরই সংকট।
কৃতি একাই এই লড়াইয়ে নন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এ ধরনের আইনি সুরক্ষা চেয়েছেন সাবেক ক্রিকেটার গৌতম গম্ভীর ও সুনীল গাভাস্কার, আধ্যাত্মিক গুরু শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর এবং অভিনেতা অর্জুন কাপুর, আল্লু অর্জুন, নাগার্জুন, বরুণ ধাওয়ান, কাজল, ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন, অভিষেক বচ্চন ও নাগা চৈতন্য। এ তালিকায় আরও রয়েছেন গায়ক জুবিন নৌটিয়াল, চলচ্চিত্র নির্মাতা করণ জোহর, পডকাস্টার রাজ শামানি এবং কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর।
সম্প্রতি অভিনেত্রী ও বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউতও নিজের ব্যক্তিত্ব ও প্রচারের অধিকার রক্ষায় মামলা করেছেন। ডিজিটাল মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অশ্লীল ও পর্নোগ্রাফিক বিষয়বস্তুতে তাঁর পরিচিতি অনুমতি ছাড়া ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত নোটিশও জারি করেছে।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই মামলা? কারণ এআই প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে ডিপফেক ও ভুয়া পরিচয় তৈরির ঝুঁকি বেড়েছে অনেক গুণ। তারকাদের ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে ভুয়া বিজ্ঞাপন, ভুয়া বক্তব্য কিংবা আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরি এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ। এতে শুধু তারকার সুনাম নষ্ট হয় না, সাধারণ দর্শকও বিভ্রান্ত হন। কৃতির এই আবেদন সেই সংকট মোকাবিলায় আইনি কাঠামো তৈরির পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বাংলাদেশেও এ ধরনের ঘটনা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। বিনোদন ঝলকেই এর আগে এআই দিয়ে তৈরি মিথ্যা কনটেন্ট নিয়ে অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীর ক্ষোভের খবর প্রকাশ হয়েছে। কৃতির মামলা সেই বৈশ্বিক প্রবণতারই অংশ, যেখানে তারকারা এখন নিজেদের পরিচয় রক্ষায় আইনের আশ্রয় নিচ্ছেন।
এরপর কী? ২৯ অক্টোবরের শুনানিতে আদালত জমা দেওয়া নথিপত্র পর্যালোচনা করে পূর্ণাঙ্গ আদেশ দেবে। ব্যক্তিত্বের অধিকারের আইনি ভিত্তি নিয়ে আদালতের বিস্তারিত পর্যালোচনার ফলাফলের দিকেও নজর থাকবে গোটা বিনোদন অঙ্গনের।
