পাঞ্জাবি সংগীতের বর্ষীয়ান তারকা দালের মেহেন্দিকে ঘিরে উত্তরাখণ্ডে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। নরেন্দ্রনগরের এক মঞ্চানুষ্ঠানে তার পরিবেশনা নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানান স্থানীয় বিধায়ক সুবোধ উনিয়াল। শুধু পরিবেশনার মান নিয়েই নয়, গায়ক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় আলোচনা ও সমালোচনা। এবার ভাইয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব দিতে মুখ খুলেছেন মিকা সিং।
একটি ভিডিওবার্তায় মিকা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দালের মেহেন্দির বিরুদ্ধে তোলা মদ্যপানের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন, কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন যে দালের মেহেন্দি মদ্যপান করেন, তাহলে তিনি সংগীতজগৎ ছেড়ে দেবেন। এমন একজন ব্যক্তিও যদি সামনে এসে দাবি করেন যে দালেরকে মদ্যপান করতে দেখেছেন, তাহলেও তিনি গান গাওয়া ছেড়ে দেবেন বলে ঘোষণা দেন মিকা।
কী ঘটেছিল মঞ্চে? ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিধায়ক সুবোধ উনিয়াল মঞ্চে উঠে দালের মেহেন্দির পরিবেশনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। তার অভিযোগ ছিল, দালের ঠিকমতো গান গাইতে পারছিলেন না এবং তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। নরেন্দ্রনগরের ওই অনুষ্ঠানের ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত।
মিকার দাবি, সম্প্রতি বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যাওয়ায় শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন দালের মেহেন্দি। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সংগীতজগতে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করে চলেছেন তিনি। শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও পেশাগত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন তার ভাই, এমনটাই বক্তব্য মিকার।
শিল্পীদের পেশাগত বাস্তবতার কথা তুলে ধরে মিকা বলেন, অনেক সময় শারীরিক অসুস্থতা বা ক্লান্তি থাকা সত্ত্বেও পূর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠান করতে হয়। একবার কোনো প্রতিশ্রুতি দিলে তা রক্ষা করার চেষ্টা করেন শিল্পীরা। এমনকি ১০৪ ডিগ্রি জ্বর থাকলেও আগে থেকে কথা দেওয়া থাকলে তারা মঞ্চে ওঠেন। পারিশ্রমিক বেশি হোক বা কম, পেশাগত দায়বদ্ধতাকে প্রাধান্য দেন তারা। দালের মেহেন্দিও হয়তো সেই দায়বদ্ধতা থেকেই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন।
বিধায়ক সুবোধ উনিয়ালের অভিযোগের প্রসঙ্গে মিকা স্বীকার করেন, অনুষ্ঠানের জন্য অর্থ দেওয়ার পর পরিবেশনার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার আয়োজকদের রয়েছে। তবে পরিবেশনার মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা আর একজন শিল্পীকে মদ্যপ বলে অভিযুক্ত করা এক বিষয় নয়। দালের মেহেন্দির বিরুদ্ধে ওঠা মদ্যপানের অভিযোগকে তিনি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ কেউ শিল্পীর পরিবেশনা নিয়ে সমালোচনা করেন, আবার অনেকে দালের মেহেন্দির সমর্থনে সরব হন। এই পরিস্থিতিতে মিকা সিংয়ের বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দালের মেহেন্দি ও মিকা সিং সম্পর্কে ভাই। পাঞ্জাবি পপ সংগীতকে ভারতজুড়ে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে দালের মেহেন্দির অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই। 'বোলো তারা রারা', 'তুনাক তুনাক তুন' এর মতো গান তাকে ঘরে ঘরে পরিচিত করে তোলে। মিকা সিং নিজেও বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় প্লেব্যাক গায়ক। ভাইয়ের দীর্ঘ সংগীতজীবনের প্রসঙ্গ তুলে মিকা বলেন, দালের মেহেন্দিকে কখনও মদ্যপানের সঙ্গে যুক্ত থাকতে দেখা যায়নি।
মঞ্চানুষ্ঠান ঘিরে বিতর্কের বাইরে দালের মেহেন্দি সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও সংগীতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ২০২৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত কমেডি ছবি 'ভিকি বিদ্যা কা ওহ ওয়ালা ভিডিও'তে তার জনপ্রিয় গান 'না না না না না রে' নতুন করে ব্যবহৃত হয়। ছবিটিতে অভিনয় করেছেন রাজকুমার রাও ও তৃপ্তি দিমরি।
দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় এই গায়ককে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কে এখন নজর রয়েছে তার ভক্ত ও সংগীতপ্রেমীদের। মিকা সিংয়ের চ্যালেঞ্জের পর বিধায়ক বা আয়োজকদের পক্ষ থেকে নতুন কোনো বক্তব্য আসে কিনা, সেদিকে তাকিয়ে সবাই। তবে মিকার বক্তব্যে স্পষ্ট, ভাইয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রতিবাদ জানাতে এবং তার পেশাগত নিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
দালের মেহেন্দি ও মিকা সিং শুধু একই ঘরানার শিল্পীই নন, তারা সম্পর্কে ভাই। পাঞ্জাবি সংগীতের দুই প্রজন্মের প্রতিনিধি এই দুজন দীর্ঘদিন ধরে একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে আসছেন। ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর মিকার এই কড়া প্রতিক্রিয়া তাই পারিবারিক বন্ধনেরও প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংগীত অঙ্গনের অনেকে।
নবরাত্রি ও দুর্গাপূজার মৌসুমে ভারতজুড়ে মঞ্চানুষ্ঠানের ভিড় লেগে থাকে, আর এ সময় শিল্পীদের পরিবেশনা নিয়ে বিতর্কও নতুন নয়। তবে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির পক্ষ থেকে মঞ্চে উঠে শিল্পীকে মদ্যপ বলার ঘটনা বিরল। এই ঘটনা শিল্পীদের সম্মান ও আয়োজকদের প্রত্যাশার সীমানা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
