বিশ্বজুড়ে তারকাদের ডিপফেক ও বিকৃত ভিডিওর ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে এবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন বলিউড অভিনেত্রী নেহা শর্মা। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ঘোষণা দেন, তার সম্মতি ছাড়া মুখ বা অবয়ব ব্যবহার করে এআই-নির্মিত কনটেন্ট তৈরি করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেবেন।
সমাজমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট করে নেহা লেখেন, সম্মতি ছাড়া যে কেউ তার মুখ বা অবয়ব ব্যবহার করে এআই-নির্মিত ভিডিও বা ছবি তৈরি করছেন, তাদের স্পষ্টভাবে সতর্ক করা হচ্ছে, অবিলম্বে এসব বন্ধ করুন। বাংলা ট্রিবিউনের খবর অনুযায়ী, তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে এ ধরনের যে সমস্ত কনটেন্ট প্রকাশ করা হয়েছে, সেগুলি সরিয়ে ফেলতে হবে। পাশাপাশি তার পরিচয় ব্যবহার করে নতুন করে কোনো এআই-নির্মিত ভিডিও বা ছবি তৈরি, সম্পাদনা কিংবা ছড়িয়ে দেওয়া থেকেও বিরত থাকতে হবে।
নেহার ভাষ্য, তার মুখ ব্যবহার করে তাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা বা তার সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করে তিনি জানান, তার মুখ বা অবয়বের অননুমোদিত ব্যবহার তিনি কোনোভাবেই মেনে নেবেন না।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'এটিকে আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করুন। যারা এ ধরনের কনটেন্ট তৈরি, পোস্ট বা প্রচার করছেন, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আমি আইনি পদক্ষেপ নেবো।' তার আরও বক্তব্য, ভুয়া অ্যাকাউন্টের আড়ালে লুকিয়ে থাকলে কিংবা এআই ব্যবহার করলেই যে কেউ দায়বদ্ধতা এড়িয়ে যেতে পারবেন, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। পোস্টের শেষে তার স্পষ্ট বার্তা: 'এখনই এই কনটেন্ট সরিয়ে ফেলুন। আপনাদের সতর্ক করা হয়েছে।'
কেন এখন এই ঘোষণা? বিশ্বজুড়ে তারকাদের ডিপফেক ও বিকৃত ভিডিওর ঘটনা বাড়ছে, আর প্রযুক্তি যত সহজলভ্য হচ্ছে, অপব্যবহারও তত বাড়ছে। ইতিমধ্যে হলিউড ও বলিউডের বেশ কয়েকজন তারকা এ ধরনের কনটেন্টের বিরুদ্ধে আইনি পথে হেঁটেছেন। নেহার এই সতর্কবার্তা সেই ধারাবাহিকতায় নতুন একটি অধ্যায়।
বাংলাদেশেও এই ইস্যু এখন আলোচনার কেন্দ্রে। মাছরাঙা টেলিভিশনের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে পরীমনি ও মেহজাবীনের নামে এআই-নির্মিত ভিডিও ছড়ানোর ঘটনায় তোলপাড় চলছে। পরীমনি ইতিমধ্যে চ্যানেলের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিনোদন ঝলকে এই ঘটনার বিস্তারিত কভারেজ আগেই প্রকাশিত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এআই-নির্মিত ভুয়া কনটেন্টের বিরুদ্ধে তারকাদের এমন সরাসরি অবস্থান ভবিষ্যতে আইনি নজির তৈরি করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, নেহার এই সতর্কবার্তার পর সংশ্লিষ্টরা কনটেন্ট সরিয়ে নেন কি না, নাকি অভিনেত্রী সত্যিই আইনের দ্বারস্থ হন।
বাংলা ট্রিবিউনের খবরে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে তারকাদের ডিপফেক, বিকৃত ভিডিও এবং পরিচয়ের অপব্যবহারের ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটেই নেহা নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন। এর আগে হলিউডসহ বিভিন্ন দেশের তারকারা এ ধরনের কনটেন্টের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন, কেউ কেউ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছে কনটেন্ট সরানোর দাবি জানিয়েছেন। নেহার ঘোষণা সেই ধারাবাহিকতায় নতুন মাত্রা যোগ করল।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই খবরের গুরুত্ব আরও বেশি। মাত্র কয়েকদিন আগেই মাছরাঙা টেলিভিশনের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হ্যাকের দাবির মধ্যে পরীমনি ও মেহজাবীনের নামে এআই-নির্মিত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে সেগুলো সম্পাদিত বলে জানা গেছে। পরীমনি শুক্রবার রাতে ফেসবুক লাইভে ক্ষোভ প্রকাশ করেন, পরে লাইভ ডিলিট করে স্ট্যাটাস দেন। বিনোদন ঝলকে এই পুরো ঘটনার ধারাবাহিক কভারেজ রয়েছে।
