বিনোদন ঝলক
তারকা

নয় মাস ধরে বিছানায় অভিনয়শিল্পী মিজান: বাবার চিকিৎসার জন্য সাহায্য চাইলেন ছেলে

বিনোদন ঝলক ডেস্ক২০ অক্টোবর ২০২৬4 মিনিটে পড়ুন
নয় মাস ধরে বিছানায় অভিনয়শিল্পী মিজান: বাবার চিকিৎসার জন্য সাহায্য চাইলেন ছেলে

দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে মস্তিষ্কজনিত জটিলতায় গুরুতর অসুস্থ অভিনয়শিল্পী ও কাস্টিং ডিরেক্টর মিজানুর রহমান মিজান। তিনবার স্ট্রোক করার পর তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। গত নয় মাসেরও বেশি সময় ধরে বিছানায় শয্যাশায়ী তিনি। হাঁটাচলা তো দূরের কথা, কথাও বলতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছে তার পরিবার। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে কালের কণ্ঠের সঙ্গে আলাপকালে বাবার শারীরিক অবস্থা ও পরিবারের সংকটের কথা জানিয়েছেন তার বড় ছেলে মেহরাজ হোসেন মিরাজ। চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট সংগঠন ও সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বাংলা চলচ্চিত্রের অসংখ্য সিনেমায় কাজ করেছেন মিজানুর রহমান মিজান। রাজ্জাক-শাবানার সময় থেকে শুরু করে শাকিব খানের সঙ্গেও অভিনয় করেছেন তিনি। ছেলে মিরাজের দাবি, তার অভিনীত সিনেমার সংখ্যা হাজারেরও বেশি। অভিনয়ের পাশাপাশি কাস্টিং ডিরেক্টর হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মিজান। বহু মানুষকে তিনি চলচ্চিত্রে কাজের সুযোগ করে দিয়েছেন। উল্লেখযোগ্য একটি তথ্য হলো, শাকিব খান যে বছর শিল্পী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন, সে সময় নবগঠিত সহশিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মিজানুর রহমান। চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের এই মানুষটির জন্য এখন চলচ্চিত্র অঙ্গনের কেউই পাশে নেই, এই অভিযোগই তুলেছেন তার ছেলে।

অসুস্থতার সময়রেখা জানিয়ে মিরাজ বলেন, দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বাবা মস্তিষ্কজনিত জটিলতায় গুরুতর অসুস্থ। তিনবার স্ট্রোক করার পর ২০২২ সাল থেকে তিনি একেবারে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার ব্রেন হ্যামারেজ হয়েছে, প্রায় সময়ই রক্তক্ষরণ হয়। মাঝে অনেক দিন ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি ছিলেন তিনি। চিকিৎসায় ইতিমধ্যে প্রচুর টাকা খরচ হয়েছে, যা পরিবার সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। বর্তমানে নয় মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি একদম বিছানায় পড়া। গত সাত মাস ধরে তিনি একদম অচলাবস্থায় আছেন। হাঁটাচলা করতে পারছেন না, এমনকি কথাও বলতে পারছেন না। তাকে নল দিয়ে খাওয়াতে হয়, এমনকি ওষুধও নল দিয়ে দিতে হচ্ছে। বিশ মিনিটের বেশি প্রস্রাব-পায়খানা চেপে রাখতে পারেন না। সবকিছু বিছানাতেই করতে হয় তাকে।

চলচ্চিত্র অঙ্গনের অবহেলা নিয়ে মিরাজের অভিযোগ তীব্র। তিনি বলেন, 'আমার আব্বু চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য অনেক কিছুই করেছেন কিন্তু সে অনুযায়ী তাকে কোনো মূল্যায়নই করা হয়নি। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি গুরুতর অসুস্থ হলেও কেউ তার খোঁজ নেয়নি। এফডিসি থেকে কিংবা শিল্পী সমিতি; কাউকেই পাশে পাইনি।' মিরাজের ভাষ্য, ইন্ডাস্ট্রির জন্য এত কিছু করার পরও অসুস্থতার এই কঠিন সময়ে মিজানুর রহমান কারো কাছ থেকে সহানুভূতি বা সহযোগিতা পাননি।

শিল্পী সমিতির নির্বাচনের আগের একটি ঘটনার কথাও জানিয়েছেন মিরাজ। তার দাবি, নির্বাচনের আগে অভিনেতা জয় চৌধুরী কয়েকজন ইউটিউবারকে সঙ্গে নিয়ে মিজানুর রহমানের বাসায় গিয়েছিলেন। সে সময় কোনো সহযোগিতা লাগলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে প্রত্যাশা অনুযায়ী সাড়া মেলেনি। মিরাজের ভাষায়, 'নির্বাচনের আগে উনি এসেছিলেন। কয়েকজন ইউটিউবার সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন। জানিয়েছিলেন কোনো সহযোগিতা লাগলে উনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে। এরপর উনার সঙ্গে আমি অনেকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেছি কিন্তু কোনো সাড়া পাইনি। প্রায় তিন মাস যোগাযোগ করার পর তিনি অল্প কিছু টাকা দিয়েছিলেন। এটাকে তো সহযোগিতা বলে না।'

বাবার দ্রুত অস্ত্রোপচার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন মিরাজ। তবে চিকিৎসার ব্যয় ও পারিবারিক সংকটের কারণে সেই ব্যবস্থা করতে পারছেন না তারা। এ অবস্থায় চলচ্চিত্র অঙ্গনের মানুষদের পাশাপাশি সরকারের সহযোগিতাও কামনা করেছেন তিনি। মিরাজের কথায়, 'আব্বুর খুব দ্রুত সার্জারি করা প্রয়োজন। আমরা কোনোভাবেই কোনোকিছু সামলে উঠতে পারছি না। সবার সহযোগিতা চাইছি আমার আব্বুকে সুস্থ করে তোলার জন্য। এমনকি সরকারের সহযোগিতাও কামনা করছি। আমার আব্বু চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির জন্য এত কিছু করেছেন, তার পাশে তো সবারই থাকা উচিত।'

দীর্ঘদিন চলচ্চিত্র অঙ্গনে অবদান রাখা এই অভিনয়শিল্পীর অসুস্থতার খবরে এখন তার চিকিৎসা ও পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ছেলে মিরাজ। বাবার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করাই এখন তাদের পরিবারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই ঘটনা আরও একবার সামনে এনেছে অসুস্থ প্রবীণ শিল্পীদের পাশে চলচ্চিত্র সংগঠনগুলোর দায়িত্বের প্রশ্ন। এখন দেখার বিষয়, মিরাজের এই প্রকাশ্য আবেদনের পর চলচ্চিত্র অঙ্গন বা সরকারি কোনো সংস্থা মিজানুর রহমানের চিকিৎসায় এগিয়ে আসে কি না।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার