বিনোদন ঝলক
সিনেমা

বড় তারকা নেই, তবু ১৮ দিনে ৫৯ কোটি: 'প্রেমাদা ওরালি'র বক্স অফিস জাদু

বিনোদন ঝলক ডেস্ক১৪ অক্টোবর ২০২৬3 মিনিটে পড়ুন
বড় তারকা নেই, তবু ১৮ দিনে ৫৯ কোটি: 'প্রেমাদা ওরালি'র বক্স অফিস জাদু

বড় বাজেট, বড় তারকা, বড় প্রচারণা, ভারতীয় বক্স অফিসের এই চেনা সমীকরণকে আবারও উল্টে দিল একটি ছোট কন্নড় সিনেমা। মাত্র আড়াই কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত 'প্রেমাদা ওরালি' মুক্তির ১৮ দিনের মধ্যে শুধু ভারতেই আয় করেছে ৫৯ কোটি রুপি। বক্স অফিসের হিসাব প্রকাশকারী ওয়েবসাইট স্যাকনিল্কের তথ্যের ভিত্তিতে এই সাফল্যের খবর এখন ভারতীয় সিনেমা অঙ্গনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি।

শুরুটা ছিল একেবারেই সাদামাটা। মুক্তির প্রথম দিনে মাত্র ৬০টি প্রদর্শনী পেয়েছিল সিনেমাটি, আর সেদিনের আয় ছিল প্রায় ৯ লাখ রুপি। বড় মাল্টিপ্লেক্স চেইনের নজর কাড়তে না পারা, গণমাধ্যমে সীমিত আলোচনা, সব মিলিয়ে মনে হচ্ছিল আর দশটা ছোট ছবির মতোই হারিয়ে যাবে এটি। কিন্তু এরপর বদলাতে থাকে চিত্র। দর্শকের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া ইতিবাচক আলোচনায় বাড়তে থাকে প্রদর্শনীর সংখ্যা, আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে আয়ও। মুক্তির ১৮তম দিনে এক দিনের আয় দাঁড়ায় প্রায় ৫ কোটি রুপিতে। ওই দিন পর্যন্ত ভারতে সিনেমাটির মোট নেট আয় পৌঁছে যায় ৫৯ কোটি রুপিতে, যা নির্মাণব্যয়ের প্রায় ২৪ গুণ।

সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী নির্মাতা মনোজ কুমার। অভিনয়ে আছেন রঙ্গায়না রঘু, রামিকা শিবু, তপস্বিনী পুনাচ্চাসহ আরও অনেকে, যাদের কেউই সর্বভারতীয় স্তরের তারকা নন। গত ২৫ সেপ্টেম্বর মুক্তি পায় 'প্রেমাদা ওরালি'। প্রচারণার বাজেটও ছিল সীমিত, ফলে মুক্তির আগে সিনেমাটি নিয়ে বড় কোনো আলোচনা তৈরি হয়নি। তবু দর্শকের ভালোবাসায় এটি এখন কন্নড় চলচ্চিত্রের উল্লেখযোগ্য বক্স অফিস সাফল্যগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।

সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে নির্মাতাদের ব্যতিক্রমী প্রচারকৌশল। মুক্তির আগের দিনও পরিচালক মনোজ কুমার শঙ্কায় ছিলেন, সিনেমাটি আদৌ দর্শক পাবে কিনা। প্রচারের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রচলিত বিপণন পদ্ধতির বদলে তারা বেছে নেন অভিনব এক পথ। বিয়ের দাওয়াতের কার্ডের আদলে আমন্ত্রণপত্র ছাপিয়ে বাসে বাসে ঘুরে অপরিচিত যাত্রীদের হাতে সেগুলো তুলে দেন সিনেমার নির্মাতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের একটাই অনুরোধ ছিল, অন্তত একবার হলে গিয়ে সিনেমাটি দেখুন।

নির্মাণের সময়ও অর্থসংকটে পড়েছিলেন নির্মাতারা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিনেমার কাজ শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে না পেরে একপর্যায়ে মায়ের মঙ্গলসূত্র বন্ধক দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন পরিচালক। সেই সিনেমাই এখন নির্মাণব্যয়ের বহুগুণ আয় করে আলোচনার কেন্দ্রে। সংকট আর সম্ভাবনার এই গল্পই সিনেমাটির প্রতি দর্শকের আবেগি সংযোগ আরও গভীর করেছে বলে মনে করছেন অনেকে।

এই সাফল্য আবারও প্রমাণ করল, বক্স অফিসে শেষ কথা বলে দর্শকের মুখের প্রচার, তারকার নাম নয়। কন্নড় সিনেমা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে 'কেজিএফ' বা 'কান্তারা'র মতো বড় বাজেটের ছবি দিয়ে সারা ভারতে পরিচিতি পেয়েছে। কিন্তু 'প্রেমাদা ওরালি' দেখাল, উল্টো পথেও সাফল্য সম্ভব। একই ধারার আরেকটি দৃষ্টান্ত চলতি বছরেরই 'হনুমান অংশ'। মাত্র ২ কোটি টাকা বাজেটের সেই ছবিটিও প্রেক্ষাগৃহে মাসের পর মাস চলেছে এবং বিশ্বব্যাপী আয় ৪৩৫ কোটি রুপি ছাড়িয়েছে। ছোট বাজেটের আঞ্চলিক সিনেমার এই ধারাবাহিক সাফল্য ভারতীয় সিনেমার বাণিজ্যিক সমীকরণ বদলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

'প্রেমাদা ওরালি' এখন কন্নড় সিনেমার অন্যতম লাভজনক ছবি হিসেবে আলোচনায়। মুক্তির তৃতীয় সপ্তাহ পেরিয়ে এর আয় কোথায় গিয়ে থামে, সেটাই এখন দেখার। তবে এরই মধ্যে সিনেমাটি নতুন নির্মাতাদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা রেখে গেছে: ভালো গল্প আর দর্শকের আস্থা থাকলে বড় বাজেট বা বড় তারকা ছাড়াই বড় সাফল্য সম্ভব। প্রেক্ষাগৃহের এই চমক ওটিটি বা স্যাটেলাইট স্বত্বের বাজারেও সিনেমাটির দাম বাড়িয়ে দেবে, এমনটাই ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার