প্রেক্ষাগৃহের পর এবার ঘরে বসে দেখা যাবে রায়হান রাফীর আলোচিত সিনেমা ‘প্রেশার কুকার’। ৮ অক্টোবর থেকে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইতে মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। পবিত্র ঈদুল আজহায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর ছবিটি নিয়ে দর্শকমহলে আলোচনা হয়েছিল, আর এখন স্ট্রিমিংয়ে আসায় হলে দেখতে না পারা দর্শকদের সামনে খুলে গেল নতুন দরজা।
হাইপারলিংক ন্যারেটিভে চার নারীর গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘প্রেশার কুকার’। ঢাকা শহরের ভিন্ন পেশার চারজন নারীর অদৃশ্য লড়াই, তাঁদের না বলা কষ্ট এবং সামাজিক দ্বন্দ্বের বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই সিনেমায়। শহরটি যেন তাঁদের কাছে এক ধরনের প্রেশার কুকার, যেখানে তাঁরা প্রতিনিয়ত নানামুখি চাপের মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করেন। চারটি আলাদা জীবন কীভাবে একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে যায়, সেই বুননই ছবির মূল আকর্ষণ।
সিনেমার প্রধান চার নারী চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাজিফা তুষি, শবনম বুবলী, মারিয়া শান্ত ও স্নিগ্ধা চৌধুরী। তাঁদের সঙ্গে আরও আছেন ফজলুর রহমান বাবু, মিশা সওদাগর, শহীদুজ্জামান সেলিম, রিজভী রিজু, আজিজুল হাকিম ও চঞ্চল চৌধুরী। অর্থাৎ নবীন ও প্রবীণ, দুই প্রজন্মের শক্তিশালী অভিনেতাদের সমন্বয়ে গড়া হয়েছে ছবির কাস্ট।
কোথায় দেখবেন, সেই প্রশ্নের উত্তর এখন সহজ। হইচইয়ের সাবস্ক্রিপশন থাকলেই ৮ অক্টোবর থেকে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে দেখা যাচ্ছে ‘প্রেশার কুকার’। ওটিটি প্ল্যাটফর্মে আসার ফলে প্রবাসী বাংলাদেশি দর্শকদের কাছেও পৌঁছে গেল ছবিটি, যাঁরা ঈদে দেশে হলে গিয়ে দেখার সুযোগ পাননি।
কেন এই সিনেমা গুরুত্বপূর্ণ? প্রথমত, এটি নারীকেন্দ্রিক গল্প বলার এক সাহসী প্রয়াস, যেখানে চারজন নারীই গল্পের চালিকাশক্তি। দ্বিতীয়ত, হাইপারলিংক ন্যারেটিভের মতো জটিল কাঠামো বাংলা বাণিজ্যিক সিনেমায় এখনো বিরল। তৃতীয়ত, ঢাকার নাগরিক জীবনের চাপ, সামাজিক দ্বন্দ্ব ও ব্যক্তিগত সংগ্রামকে যেভাবে বাস্তবতার সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে, তা দর্শকের নিজের জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার সুযোগ করে দেয়।
রায়হান রাফীর ক্যারিয়ারের দিক থেকেও ছবিটি তাৎপর্যপূর্ণ। বাণিজ্যিক ধারার বাইরে গিয়ে এমন বিষয়ভিত্তিক সিনেমা নির্মাণ তাঁর নির্মাতা-পরিচয়ের নতুন দিক উন্মোচন করেছে। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর বিভিন্ন মহলে ছবিটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, আর এখন হইচইতে আসার ফলে সেই আলোচনা আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পেল।
এরপর কী? আপাতত হইচইতেই চলবে ‘প্রেশার কুকার’-এর স্ট্রিমিং যাত্রা। দর্শক প্রতিক্রিয়া কেমন হয়, ওটিটিতে ছবিটি নতুন করে কতটা সাড়া ফেলে, সেটাই এখন দেখার। যাঁরা এখনো দেখেননি, তাঁদের জন্য সুযোগটা এখন হাতের মুঠোয়।
একই দিনে ওটিটিতে আরও একটি আলোচিত কনটেন্ট এসেছে। প্রথম আলোর অক্টোবর-স্লেট অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর চরকিতে মুক্তি পেয়েছে ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’, যেখানে প্রথমবার জুটি বেঁধেছেন আরিফিন শুভ ও কেয়া পায়েল। অর্থাৎ অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে দেশি ওটিটি দর্শক একসঙ্গে পেয়েছেন দুটি বড় শিরোনাম, একটি হইচইতে, একটি চরকিতে।
প্রবাসী দর্শকদের জন্যও এই ওটিটি-মুক্তি বড় খবর। ঈদে দেশে থাকতে না পারায় যাঁরা হলে গিয়ে ‘প্রেশার কুকার’ দেখতে পারেননি, হইচইয়ের মাধ্যমে এখন তাঁদের কাছেও পৌঁছে গেল ছবিটি। ঢাকার চার নারীর গল্প, শহুরে চাপ আর অদৃশ্য লড়াইয়ের এই বয়ান প্রবাসে বসেও দর্শককে নিজের শহরের কাছে ফিরিয়ে নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা।
