বিনোদন ঝলক
তারকা

‘ব্রেকিং ব্যাড’ অভিনেতা আরজে মিটের মৃত্যুর কারণ নিয়ে যা জানা গেল

বিনোদন ঝলক ডেস্ক১৪ অক্টোবর ২০২৬2 মিনিটে পড়ুন
‘ব্রেকিং ব্যাড’ অভিনেতা আরজে মিটের মৃত্যুর কারণ নিয়ে যা জানা গেল

‘ব্রেকিং ব্যাড’ খ্যাত অভিনেতা আরজে মিটের মৃত্যুর কারণ নিয়ে নতুন তথ্য এসেছে। সোমবার ১২ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ব্রাউনসভিলে ৩৪ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। শুরুতে শুধু মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছিল। পরে তাঁর প্রতিনিধির বরাতে আত্মহত্যার খবর প্রকাশিত হয়। তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। প্রতিবেদনগুলোতে মৃত্যুর কোনো পদ্ধতির উল্লেখ নেই।

এই খবরের সূত্র নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদনে আত্মহত্যার দাবিটি ভ্যারাইটির প্রতিবেদনের বরাতে দেওয়া হয়েছে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিটের প্রতিনিধি বিবিসিকে জানিয়েছেন, তাঁরা এই প্রিয় অভিনেতা, মানবহিতৈষী ও প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকারের সোচ্চার পক্ষের মানুষের আকস্মিক মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত।

অন্যদিকে স্থানীয় পুলিশের অবস্থান ছিল আলাদা। ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১২ অক্টোবর দুপুর প্রায় ১২টা ৫০ মিনিটে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। পুলিশ প্রথমে জানিয়েছিল, মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি এবং তদন্ত চলছে। অর্থাৎ প্রতিনিধির দাবি আর পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যের মধ্যে ফারাক ছিল। প্রতিবেদনগুলোতে চূড়ান্ত ময়নাতদন্তের ফলেরও উল্লেখ নেই। তাই এই খবরকে এখনো প্রতিনিধির বরাতে আসা দাবি হিসেবেই পড়তে হবে, চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়।

আরজে মিটে দর্শকের কাছে পরিচিত ‘ব্রেকিং ব্যাড’ সিরিজে ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র, অর্থাৎ ফ্লিন চরিত্রে অভিনয় করে। ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত চলা এই সিরিজে তিনি ছিলেন। পাইলট পর্বের শুটিং শুরুর সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। সিরিজটি ১৬টি এমি পুরস্কার জিতেছিল। ২০১৪ সালে ‘ব্রেকিং ব্যাড’ এর জন্য স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড পুরস্কারও জেতেন তিনি।

তাঁর জীবনের গল্পটা ছিল লড়াইয়ের। ১৯৯২ সালের ২১ আগস্ট মিসিসিপির জ্যাকসনে জন্ম নেওয়া তাঁর পুরো নাম রয় ফ্রাঙ্ক মিটে দ্য থার্ড। জন্মের পর কিছুক্ষণ শ্বাস বন্ধ থাকায় তাঁর মস্তিষ্কে ক্ষতি হয়। দত্তক পরিবারে বড় হওয়া মিটের তিন বছর বয়সে সেরিব্রাল পালসি ধরা পড়ে। ১৩ বছর বয়সে তাঁর মা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হলে পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর কাঁধে। অসুস্থ মা আর দুই বছর বয়সী বোনের দেখভাল করতে হয়েছিল তাঁকে।

পর্দার বাইরে তিনি ছিলেন প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতিনিধিত্বের সোচ্চার পক্ষের মানুষ। ইউনাইটেড সেরিব্রাল পালসি আর শ্রাইনার্স চিলড্রেনসের মতো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য কাজ করত মিটে ফাউন্ডেশন, যা তিনি নিজেই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। অভিনয়শিল্পীদের সংগঠনে প্রতিবন্ধী শিল্পীদের প্রতিনিধিত্বের পক্ষেও কাজ করেছিলেন তিনি। পরের কাজগুলোর মধ্যে ছিল ‘স্ট্যান্ডিং আপ ফর সানি’ (২০১৯) আর ‘ট্রায়াম্ফ’ (২০২১)।

ব্যক্তিজীবনে ২০১৮ সাল থেকে সম্পর্কে থাকা দীর্ঘদিনের সঙ্গী কেনেডি সুয়ারেজের সঙ্গে ২০২৫ সালে বাগদান হয় তাঁর। সম্প্রতি ‘টকিং টু স্ট্রেঞ্জার্স’ সিনেমার প্রচারে ছিলেন তিনি, অক্টোবরের শুরুতে আলবুকার্কিতে তাঁকে দেখা গিয়েছিল। তাঁর চলে যাওয়ার খবরে সহশিল্পীদের শোকবার্তা এসেছে, যার মধ্যে ব্রায়ান ক্র্যানস্টনের শ্রদ্ধাঞ্জলিও আছে। প্রতিবন্ধী এক কিশোরের চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেতার চলে যাওয়া শুধু একটি সিরিজের ভক্তদের নয়, প্রতিনিধিত্বের লড়াইয়েরও ক্ষতি।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার