বিনোদন ঝলক
তারকা

মাত্র ৩৪ বছর বয়সে চলে গেলেন মডেল সাহারা রে: মেয়েকে নিয়ে শেষ পোস্ট ছিল তিন মাস আগে

বিনোদন ঝলক ডেস্ক২০ অক্টোবর ২০২৬4 মিনিটে পড়ুন
মাত্র ৩৪ বছর বয়সে চলে গেলেন মডেল সাহারা রে: মেয়েকে নিয়ে শেষ পোস্ট ছিল তিন মাস আগে

মাত্র ৩৪ বছর বয়সে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন অস্ট্রেলীয় মডেল, ফ্যাশন ডিজাইনার ও ইনফ্লুয়েন্সার সাহারা রে। গত রোববার (১৮ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। সোমবার মৃত্যুর খবরটি প্রথম প্রকাশ করে মার্কিন বিনোদনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টিএমজেড। চলতি বছরের শুরুতেই মা হয়েছিলেন সাহারা, মেয়ের নাম রেখেছিলেন স্নো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সবশেষ পোস্টটিও ছিল মেয়েকে ঘিরেই।

টিএমজেডকে দেওয়া বিবৃতিতে সাহারার পরিবার জানিয়েছে, মৃত্যুর সময় হাসপাতালে তাঁর পাশে ছিলেন স্বজনেরা। পরিবারের ভাষায়, শেষ মুহূর্তে পরিবারের সবাই তাঁর পাশে ছিলেন, সবাই তাঁকে খুব ভালোবাসতেন।

মৃত্যুর কারণ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু জানায়নি পরিবার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাতে দাবি করেছে, ফেন্টানিল নামের শক্তিশালী মাদকজাতীয় ব্যথানাশকের অতিরিক্ত মাত্রা গ্রহণের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ডেইলি মেইলের বরাতে পেজ সিক্সও একই তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে সাহারাকে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় এবং রোববার জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয় পরিবারকে। অতিরিক্ত মাত্রার ওষুধ গ্রহণের ঘটনাটি দুর্ঘটনাবশত ঘটেছিল কি না, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন সাহারা, নাম রাখেন স্নো। সন্তান জন্মের আগে ২৫ জানুয়ারি তিনি জানিয়েছিলেন, সেদিন রাতেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে। মা হওয়ার আনন্দের পাশাপাশি নিজের উদ্বেগের কথাও অনুসারীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন তিনি। মা হওয়ার পর মেয়েকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্ট দেন সাহারা। গত ১৯ জুলাই ইনস্টাগ্রামে মেয়ের কয়েকটি ছবি পোস্ট করে ভালোবাসার কথা জানান তিনি, লিখেছিলেন, আমার পুরো হৃদয়জুড়ে ছোট্ট স্নো। সেটিই ছিল তাঁর ইনস্টাগ্রাম গ্রিডের শেষ পোস্ট। মৃত্যুর পর সেই ছবিগুলোর নিচে আবেগঘন মন্তব্য করছেন অনুসারীরা।

অস্ট্রেলিয়ার পরিচিত সার্ফার টনি রের মেয়ে সাহারা। শৈশবের বড় একটি সময় তিনি কাটিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া ও হাওয়াইয়ে। বাবার সূত্রে ছোটবেলা থেকেই সমুদ্র ও সার্ফিংয়ের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয় তাঁর, তবে কৈশোর পেরোনোর পর মডেলিং ও ফ্যাশন ডিজাইনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ২০১৪ সালে নিজের সাঁতারের পোশাকের ব্র্যান্ড সাহারা রে সুইম চালু করেন তিনি। মডেলিংয়ের পাশাপাশি ব্যবসা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তার মাধ্যমে তাঁর পরিচিতি বাড়তে থাকে।

২০১৬ সালে হাওয়াইয়ে কানাডীয় পপতারকা জাস্টিন বিবারের সঙ্গে ছুটি কাটানোর ছবি প্রকাশ্যে আসার পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজরে পড়েন সাহারা। দুজনের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে তখন ব্যাপক আলোচনা হলেও কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। এর আগে অস্ট্রেলীয় সংগীতশিল্পী কোডি সিম্পসনের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্কের গুঞ্জন উঠেছিল।

মৃত্যুর আগের কয়েক বছর ধরে শারীরিক নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন সাহারা। ২০২৪ সালে তিনি জানান, গিয়াঁ-বারে সিনড্রোম নামে বিরল এক স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ওই বছরের এপ্রিলে একটি গাড়ি দুর্ঘটনার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। মদ্যপ এক গাড়িচালক তাঁকে ধাক্কা দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি। দুর্ঘটনার পর ঊরুর ওপরের অংশ থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত অনুভূতি ও চলাচলের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন তিনি, তখন হুইলচেয়ার ও হাঁটার সহায়ক সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হতো। ২০২৪ সালের মে মাসে অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যম সেভেন নিউজ তাঁর অসুস্থতা ও পুনর্বাসনের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে সাহারা বলেছিলেন, মুহূর্তেই তাঁর জীবন বদলে গেছে, তবু সুস্থ হওয়ার আশা ছাড়তে চাননি তিনি। পরে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতিও হয়েছিল।

শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনের সংকট নিয়েও প্রকাশ্যে কথা বলেছিলেন সাহারা। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তিনি জানান, মাদক ও অ্যালকোহলনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং এ জন্য ৩০ দিনের একটি পুনর্বাসন কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন। মানসিক স্বাস্থ্য ও আসক্তির চিকিৎসার অভিজ্ঞতা অনুসারীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন তিনি। তবে অতীতে আসক্তির চিকিৎসা নেওয়ার সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক মৃত্যুর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, এমন কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

সাহারার মৃত্যুর পর তাঁর মা গ্রেচেন বাখ ডেইলি মেইলকে বলেছেন, মেয়ে ছিলেন অত্যন্ত আবেগপ্রবণ, ভালোবাসায় পরিপূর্ণ ও সদয় একজন মানুষ। মায়ের ভাষায়, পরিবার, ফ্যাশন, ছোট্ট মেয়ে স্নো আর সার্ফিং, এসব নিয়েই ছিল তাঁর ভালোবাসার পৃথিবী। মাত্র কয়েক মাস আগে মা হওয়া এক তরুণীর এমন অকালমৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাঁর অনুসারীদের মধ্যে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে এখন আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনের অপেক্ষা।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার