বিনোদন ঝলক
তারকা

সালমান খান থেকে টাইগার শ্রফ: কেন বারবার গুলির নিশানায় বলিউড তারকারা

বিনোদন ঝলক ডেস্ক১৯ অক্টোবর ২০২৬4 মিনিটে পড়ুন
সালমান খান থেকে টাইগার শ্রফ: কেন বারবার গুলির নিশানায় বলিউড তারকারা

টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে বলিউডে। রোববার সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় অভিনেতার গাড়ি লক্ষ্য করে মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন দুষ্কৃতকারী গুলি চালায় বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় টাইগার নিরাপদ থাকলেও তাঁর গাড়িচালক ও ঘটনাস্থলে থাকা আরেক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। কিন্তু তারকাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা নতুন নয়। গত কয়েক বছরে বলিউড ও বিনোদনজগতের একাধিক পরিচিত মুখ এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ঘিরে এমন ঘটনা ঘটেছে। সালমান খান থেকে রোহিত শেঠি, দিশা পাটানি থেকে এলভিশ যাদব, তালিকাটি দীর্ঘ হচ্ছে।

তালিকার শুরুটা সালমান খানকে দিয়ে। ২০২৪ সালের এপ্রিলে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় সালমান খানের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি একাধিক রাউন্ড গুলি চালায়। এ ঘটনায় লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের যোগ থাকার অভিযোগ সামনে আসে। এরপরও অভিনেতাকে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়। বিষ্ণোই গ্যাংয়ের টার্গেট-তালিকায় সালমানই সবচেয়ে পুরনো ও সবচেয়ে বড় নাম। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গ্যাংয়ের হত্যা-পরিকল্পনার তালিকার শীর্ষে ছিলেন সালমান। এই বৈরিতার শিকড় ১৯৯৮ সালে। রাজস্থানে 'হাম সাথ সাথ হ্যায়' ছবির শুটিংয়ের সময় সালমানের বিরুদ্ধে দুটি কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার অভিযোগ ওঠে। বন্য প্রাণী রক্ষায় পরিচিত বিষ্ণোই সম্প্রদায় এই প্রাণীকে পবিত্র মনে করে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালমানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার কথা বলে আসছেন লরেন্স বিষ্ণোই।

পরিচালক রোহিত শেঠিও এই তালিকায়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে পরিচালক রোহিত শেঠির মুম্বাইয়ের জুহুতে অবস্থিত শেঠি টাওয়ারের বাইরে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, হামলাকারীরা পাঁচ রাউন্ড গুলি চালায়। এতে কেউ হতাহত না হলেও ভবনের প্রথম তলায় অবস্থিত একটি জিমের কাচ ভেঙে যায়। এ ঘটনায় লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত শুভম লোনকার হামলার দায় নিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়। বলিউডের অন্যতম সফল বাণিজ্যিক পরিচালকের বাড়ির সামনে গুলি, এই ঘটনা তখন শিল্পজগতে বড় আলোড়ন তোলে।

অভিনেত্রী দিশা পাটানির পরিবারও রেহাই পায়নি। ২০২৫ সালের আগস্টে উত্তরপ্রদেশের বরেলিতে অভিনেত্রী দিশা পাটানির পরিবারের বাড়ির সামনে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে বলে খবর প্রকাশিত হয়। এই হামলার দায় রোহিত গোদারা ও গোল্ডি বরার গ্যাং নিয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছিল। তারকার পরিবারের সদস্যদেরও টার্গেট করা হচ্ছে, এই বার্তাটি তখন উদ্বেগ বাড়ায়।

২০২৫ সালে বিগ বসজয়ী ও ইউটিউবার এলভিশ যাদবের বাড়ির বাইরেও গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। হামলার দায় হিমাংশু ভাউ গ্যাং স্বীকার করেছিল বলে দাবি করা হয়। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। টেলিভিশন-তারকা থেকে সোশ্যাল মিডিয়া-তারকা, গ্যাং-হুমকির নেটওয়ার্ক এখন সর্বত্র বিস্তৃত।

কমেডিয়ান কপিল শর্মার কানাডায় অবস্থিত 'ক্যাপস ক্যাফে'ও গুলি চালানোর ঘটনায় আলোচনায় আসে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনটি পৃথক ঘটনায় ক্যাফেটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল। কপিলের অনুষ্ঠানে এক বিতর্কিত অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানোর সঙ্গে এসব ঘটনার যোগ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছিল। দেশের বাইরে, কানাডার মাটিতেও বলিউড-তারকাদের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান টার্গেট হচ্ছে, এটি নতুন মাত্রা।

পাঞ্জাবি সংগীতজগতের দুই পরিচিত মুখ এপি ঢিলো ও গিপ্পি গ্রেওয়ালও গুলি চালানোর ঘটনায় আলোচনায় আসেন। কানাডায় এপি ঢিলোর বাড়ির বাইরে গুলি চালানোর ঘটনায় লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের যোগ থাকার অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে, সালমান খানের সঙ্গে বন্ধুত্বের কারণে গিপ্পি গ্রেওয়ালকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। অর্থাৎ সালমানের সঙ্গে সম্পর্কই এখন অনেকের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। টাইগার শ্রফের ক্ষেত্রেও দায় স্বীকারের পোস্টে একই যুক্তি দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনাগুলোর পেছনে একটি সাধারণ সূত্র আছে। লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং বর্তমানে গুজরাটের কারাগারে বন্দি নেতার নামে পরিচালিত হলেও এর নেটওয়ার্ক ভারত ও কানাডা জুড়ে সক্রিয়। সালমানের সঙ্গে পুরনো বৈরিতা, গ্যাং-সংস্কৃতির প্রচার, এবং তারকাদের ভয় দেখিয়ে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা, এই তিনটি কারণে বলিউড এখন গ্যাংগুলোর নিশানায়। পুলিশের তদন্তে বারবার এই চক্রের নাম উঠে এলেও দায় স্বীকারের পোস্ট বা অডিও বার্তার সত্যতা অনেক ক্ষেত্রেই স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয় না। টাইগারের ঘটনাতেও মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, বিষ্ণোই চক্রের সঙ্গে হামলার যোগসূত্র এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

তবে সত্যতা যাই হোক, প্রভাব বাস্তব। সালমান খানের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বহু আগেই। এখন টাইগারের ঘটনার পর বলিউডের তারকা-নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে টাইগারের বাড়িতে গিয়ে বলেছেন, মুম্বাইয়ে হুমকি বা সহিংসতার মাধ্যমে কাউকে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হবে না। কোনো ধরনের হুমকিই সরকার সহ্য করবে না। পুলিশের ১৫টি দল এখন হামলাকারীদের খুঁজছে। তদন্তের ফলাফলের দিকেই এখন সবার নজর।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার