অভিনেত্রী হওয়ার সিদ্ধান্তটা মোটেও সহজ ছিল না সারা আলি খানের জন্য। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের স্বপ্ন দেখলেও একসময় সেই স্বপ্নকে মনের বাইরে সরিয়ে রেখে আইন নিয়ে পড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। সম্প্রতি অভিনেতা অনিল কাপুরের অনুষ্ঠানে সেই টার্নিং পয়েন্টের গল্পই শোনালেন বলিউডের এই তারকা। জানালেন, যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় মঞ্চে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েই শৈশবের সেই চাপা পড়া ইচ্ছা আবার জেগে ওঠে। আর সেই মুহূর্তে তাঁর ওজন ছিল প্রায় ১০০ কেজি।
যুগান্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানটির নাম 'ইন্ডিয়া কে টপ ওয়ান পার্সেন্ট'। সেখানে সারার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা আয়ুষ্মান খুরানাও। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে যুগান্তর। অনিল কাপুরের প্রশ্নের জবাবেই নিজের জীবনের এই অজানা অধ্যায় তুলে ধরেন সারা।
সারা জানান, ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ ছিল। তবে পড়াশোনাও তিনি খুব উপভোগ করতেন। সেই টানাপোড়েন থেকেই কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করেন তিনি, এমনকি আইন বিষয়ে ডিগ্রি নেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল তাঁর। পড়াশোনার পথেই জীবন গড়ার সিদ্ধান্ত প্রায় পাকা হয়ে গিয়েছিল, অভিনয়ের স্বপ্ন তখন পেছনের সারিতে।
কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থিয়েটারের একটি কোর্সে ভর্তি হন সারা, আর সেখানেই বদলে যায় সবকিছু। মঞ্চে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে বহুদিন ধরে চাপা পড়ে থাকা অভিনয়ের আকাঙ্ক্ষা আবারও জেগে ওঠে। সারার ভাষায়, ‘মঞ্চে উঠে অভিনয় করার পর আমার শৈশবের সেই ইচ্ছা আবার জেগে ওঠে, তখন মনে হলো, আমাকে এটা করতেই হবে। অন্তত চেষ্টা করে দেখতে হবে।’ তিনি আরও জানান, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সেই মুহূর্তে তাঁর ওজন ছিল প্রায় ১০০ কেজি।
ওজন নিয়ে সারার এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি নতুন কিছু নয়। ওজন কমানোর কঠিন লড়াই নিয়ে তিনি আগেও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন। তাঁর ভক্তদের কাছে এই গল্প পরিচিত হলেও এবার তিনি যেভাবে ওজন, স্বপ্ন আর সিদ্ধান্তের মুহূর্তটিকে একসঙ্গে বেঁধে বললেন, সেটিই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শরীরী ভাবমূর্তি নিয়ে সামাজিক চাপের মুখে দাঁড়িয়েও নিজের স্বপ্নের পথে হাঁটার এই গল্প অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার।
একই অনুষ্ঠানে অনিল কাপুর আয়ুষ্মান খুরানার কাছেও জানতে চান, তিনি কখন অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। জবাবে আয়ুষ্মান বলেন, অনিল কাপুরকে অভিনয় করতে দেখেই তিনি এই পেশার প্রতি আকৃষ্ট হন। অভিনয়ে আসার ক্ষেত্রে কে তাঁকে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দিয়েছেন, এমন প্রশ্নে আয়ুষ্মান তাঁর বাবার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই তাঁর বাবা শিল্প ও অভিনয়চর্চার প্রতি তাঁকে উৎসাহিত করেছেন।
আয়ুষ্মানের ভাষ্য, ছোট শহরের একটি ঐতিহ্যবাহী পরিবার থেকে এসে বিনোদনজগতে কাজ করার স্বপ্ন দেখা সে সময় সহজ ছিল না। স্কুলে পড়ার সময় হাতে গোনা কয়েকজন সহপাঠীর মধ্যে তিনি একজন ছিলেন, যাদের অভিভাবকেরা শিল্পচর্চায় এগিয়ে যেতে উৎসাহ দিতেন। নিজের শিল্পীসত্তার পেছনে দাদিরও অবদান রয়েছে বলে জানান আয়ুষ্মান। তাঁর দাদি একসময় গুরুদুয়ারায় গান গাইতেন এবং মানুষের অনুকরণও করতেন। দাদির কাছ থেকে শিল্পীসত্তা পেলেও এগিয়ে যাওয়ার সাহস ও সমর্থন পেয়েছেন বাবার কাছ থেকে।
প্রসঙ্গত, সারা আলি খান বলিউড অভিনেতা সাইফ আলি খান ও অভিনেত্রী অমৃতা সিংহের কন্যা। ২০১৮ সালে ‘কেদারনাথ’ সিনেমা দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর, যেখানে তাঁর বিপরীতে ছিলেন প্রয়াত সুশান্ত সিং রাজপুত। এরপর একের পর এক বাণিজ্যিক সিনেমায় অভিনয় করে বলিউডে নিজের জায়গা পাকা করেছেন তিনি। পড়াশোনা ও অভিনয়, দুই জগতের সেরাটা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া সারার এই গল্প আবারও প্রমাণ করল, স্বপ্নের পথে ফেরা কখনোই দেরি নয়।
