কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তারকাদের ছবি বিকৃত করার ঘটনায় এবার সরাসরি মুখ খুললেন দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রিয়া সরণ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এআই ব্যবহার করে তারও একাধিক বিকৃত ছবি তৈরি করা হয়েছে। তার ভাষায়, এ ধরনের অশ্লীল ঘটনার সবচেয়ে বেশি শিকার হন নারীরা।
এর আগে জাহ্নবী কাপুরের একটি ছবি এআই দিয়ে রোমান্টিক গানের দৃশ্যে বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই একই ধরনের অভিযোগ তুললেন দৃশ্যমখ্যাত এই অভিনেত্রী। ফলে তারকাদের ডিপফেক ছবি নিয়ে বিতর্ক আবার নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।
যুগান্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্ল্যামার দুনিয়ার তারকারা এখন ডিপফেকের শিকার হচ্ছেন। তাদের ছবি ও ভিডিও নিয়ে যত্রতত্র যৌনতা সংক্রান্ত কনটেন্টে ব্যবহার করা হচ্ছে, ফলে ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে তারকাদের। শ্রিয়ার অভিযোগ সেই চিত্রকেই আরও স্পষ্ট করল।
সাক্ষাৎকারে শ্রিয়া জানান, বিষয়টা কখনো কখনো তার কাছে হাস্যকর মনে হয়। অনেক সময় তিনি নিজেই বুঝতে পারেন না ছবিটা আসলেই তার কিনা। শরীরের বিভিন্ন অংশ বিকৃত করে দেওয়া হচ্ছে: কখনো শরীরের আকার পাল্টে দেওয়া হচ্ছে, কখনো ছবি থেকে অন্তর্বাস সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, আবার কখনো শরীরের অন্য অংশ বড় করে দেখানো হচ্ছে। তিনি বলেন, বিষয়গুলোকে হালকাভাবে নেওয়াই ভালো, তবে এটা অত্যন্ত বিরক্তিকর।
তার অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ায় নারীদের শরীরের বিভিন্ন অংশ নিয়ে কুরুচিকর চর্চা চলে। এ ধরনের বিকৃত কনটেন্ট সেই চর্চাকেই আরও উসকে দিচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। নারী তারকাদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নটা তাই এখন আরও জোরালো।
তবে প্রযুক্তির বিরুদ্ধে একতরফা অবস্থান নেননি শ্রিয়া। তার মতে, এআইয়ের অনেক ভালো দিক ও উপকারিতা রয়েছে, আবার এই প্রযুক্তির অনেক কিছু বদলে দেওয়ার ক্ষমতাও আছে। ফলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে যা বিপজ্জনক। তার ভাষায়, যেকোনো প্রযুক্তির ক্ষেত্রেই এই কথা প্রযোজ্য: সময়ের সঙ্গে হয় এর সঙ্গে মানিয়ে চলতে হবে, নয়তো এর মোকাবিলা করতে হবে।
তারকাদের ডিপফেক ছবি নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়, কিন্তু শ্রিয়ার মতো প্রথম সারির অভিনেত্রীর সরাসরি অভিযোগ বিষয়টিকে আবার সামনে এনেছে। প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে কার্যকর নিয়ম আর সচেতনতা, দুটোরই দাবি এখন আরও জোরালো হচ্ছে।
