বিনোদন ঝলক
তারকা

টাইগার-হামলার দায় স্বীকারের পর নতুন হুমকি: 'সালমানের সঙ্গে কাজ করলেই মরতে হবে', বাড়ানো হলো ভাইজানের নিরাপত্তা

বিনোদন ঝলক ডেস্ক২০ অক্টোবর ২০২৬4 মিনিটে পড়ুন
টাইগার-হামলার দায় স্বীকারের পর নতুন হুমকি: 'সালমানের সঙ্গে কাজ করলেই মরতে হবে', বাড়ানো হলো ভাইজানের নিরাপত্তা

টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার পর এবার সরাসরি সালমান খানের সঙ্গে কাজ করা সবাইকে নিশানা করল লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং-পরিচয়ে দেওয়া একটি নতুন হুমকি-পোস্ট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টে হামলার দায় স্বীকার করে অনিল পণ্ডিত ও হারমান সান্ধু নামে দুজন দাবি করেছেন, তারা ওই গ্যাংয়ের সদস্য। পোস্টে বলা হয়, গ্যাংয়ের কথা না মেনে যারা সালমান খানের সঙ্গে কাজ করবে, তাদের মরতে হবে। সবারই টাইগার শ্রফের মতো পরিণতি হবে। তবে পোস্টটির সত্যতা এখনো যাচাই করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

জাগো নিউজ ২৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত রোববার মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার পর ওই পোস্ট দেওয়া হয়। পোস্টে দাবি করা হয়, ঘটনার আগে ফোন করে টাইগারকে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি বিষয়টি গুরুত্ব দেননি বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়। এরপরই তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করে পোস্টদাতা দুজন। পাশাপাশি হামলার দায় নিজেদের বলে দাবি করতে পারে, এমন প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাংগুলোকেও সতর্ক করা হয়েছে পোস্টে।

রোববার মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় একটি ফুটবল মাঠের বাইরে টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে। মাত্র ৭ সেকেন্ডে হামলাকারীরা ৫ রাউন্ড গুলি ছুড়েছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ঘটনায় অল্পের জন্য রক্ষা পান টাইগার, আহত হন তার গাড়িচালকসহ দুজন। গুলিবিদ্ধ চালককে নিয়ে টাইগার নিজেই গাড়ি চালিয়ে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছান বলে এর আগে জানা গেছে, যার জন্য তার সাহসিকতার প্রশংসাও হয়েছে।

হামলার তদন্তে নেমেছে মুম্বাই পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, সন্দেহভাজন শনাক্তকরণ এবং ঘটনার ধারাবাহিকতা খতিয়ে দেখতে ১২টি বিশেষ দল মোতায়েন করা হয়েছে। এরই মধ্যে রাজস্থানের কোটা রেলস্টেশন থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজস্থান পুলিশের সন্ত্রাসদমন বাহিনী স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় তাদের গ্রেফতার করে। ধৃতদের একজন মহারাষ্ট্রের এবং অন্য দুজন হরিয়ানার বাসিন্দা। তদন্তকারীরা মনে করছেন, হামলাকারীরা আগে থেকেই পরিকল্পনা করে থাকতে পারে। গুলি চালানোর আগে টাইগার শ্রফের গতিবিধির ওপর নজর রাখা হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন তারা।

এই হামলার পর অভিনেতা সালমান খানের নিরাপত্তা জোরদার করেছে মুম্বাই পুলিশ। তার বান্দ্রার গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের সামনে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ওই এলাকার গাড়িগুলোতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। হুমকি-পোস্টে সরাসরি সালমান খানের নাম আসায় তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভয়েস বার্তা ও পোস্ট ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ, ভয়েস বার্তায় লরেন্স বিষ্ণোইয়ের গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে টাইগারকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সেখানে সালমান খানের সঙ্গে টাইগারের সম্পর্কের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। অনমোল বিষ্ণোই নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়িয়ে পড়া পোস্টে হামলার দায় স্বীকারের দাবি করা হয়েছে। তবে পোস্টটির সত্যতা এবং হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রকৃত যোগসূত্র এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

কারাগারে থাকা গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সঙ্গে সালমান খানের বিরোধের সূত্রপাত ১৯৯৮ সালে রাজস্থানে কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনা থেকে। বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে এই হরিণ পবিত্র বলে বিবেচিত। এ ঘটনায় সালমানকে ক্ষমা চাইতে বলে ২০১৮ সালে প্রকাশ্যে তাকে হত্যার হুমকি দেন লরেন্স বিষ্ণোই। ২০২৪ সালে সালমানের ঘনিষ্ঠজনদের লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনায় সেই বিরোধ আরও আলোচনায় আসে। ওই বছরের এপ্রিলে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় সালমানের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে মোটরবাইকে চেপে এসে দুজন পাঁচ রাউন্ড গুলি চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। একই বছরের অক্টোবরে রাজনীতিবিদ বাবা সিদ্দিকিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এরপর বলিউডের অন্য ব্যক্তিদেরও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে। সালমানের সঙ্গে ব্যক্তিগত বা পেশাগত সম্পর্ক রয়েছে, এমন ব্যক্তিদের কাছে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।

টাইগার শ্রফের ওপর হামলা ও নতুন হুমকি-পোস্টের ঘটনা বলিউডের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। সালমান খান থেকে টাইগার শ্রফ পর্যন্ত একই গ্যাংয়ের নিশানায় একাধিক তারকা আসায় হিন্দি চলচ্চিত্রশিল্পের অনেকেই উদ্বিগ্ন। তারকাদের সুরক্ষায় পুলিশের বাড়তি পদক্ষেপ ইতিমধ্যে দৃশ্যমান, কিন্তু গ্যাং-পরিচয়ে আসা হুমকি-পোস্টগুলোর সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত আতঙ্ক কাটছে না।

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পোস্টের সত্যতা যাচাইয়ের ফল। গ্রেফতার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ, সেখান থেকে হামলার পরিকল্পনা ও নেপথ্যের নির্দেশনার বিষয়ে নতুন তথ্য মিলতে পারে। সালমান খানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির দিকেও নজর রাখছে মুম্বাই পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ হবে।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার