বিনোদন ঝলক
তারকা

টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে শিশুসহ ১০ জনের প্রাণহানি: 'হৃদয় ভেঙে গেছে' তৌসিফের, ক্ষোভ ঝাড়লেন ইরফান

বিনোদন ঝলক ডেস্ক১৭ অক্টোবর ২০২৬3 মিনিটে পড়ুন
টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে শিশুসহ ১০ জনের প্রাণহানি: 'হৃদয় ভেঙে গেছে' তৌসিফের, ক্ষোভ ঝাড়লেন ইরফান

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ ১০ জনের প্রাণহানির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শোবিজ অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শনিবারের এই মর্মান্তিক ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব, আর রিসোর্ট ব্যবসার অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ঝেড়েছেন অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ। দুই অভিনেতার ফেসবুক পোস্ট ঘিরেই এখন আলোচনার কেন্দ্রে কক্সবাজারের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা।

নিজের ফেসবুক পোস্টে তৌসিফ মাহবুব লিখেছেন, 'এটা আমার হৃদয় ভেঙে দিয়েছে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন।' তাঁর এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু আবেগঘন পোস্টে ফুটে উঠেছে দুর্ঘটনাটি কতটা নাড়া দিয়েছে তাঁকে। শিশুসহ প্রাণহানির খবর সামনে আসার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শোবিজের অনেক তারকাই ঘটনাটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন, আর তৌসিফের এই পোস্ট সেই শোকের স্রোতেরই অংশ।

অন্যদিকে, ইরফান সাজ্জাদ শুধু শোকেই থেমে থাকেননি, তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন যত্রতত্র গজিয়ে ওঠা রিসোর্ট ব্যবসার নিরাপত্তা নিয়ে। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, 'ন্যূনতম অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা না থাকা এসব নাম সর্বস্ব রিসোর্ট গুলো কিভাবে ব্যবসা করে যায়! বাচ্চাকে খুঁজে বেড়ানো ওই মায়ের আর্তনাদ সহ্য করতে পারছি না।' তাঁর ভাষায়, যাদের জন্য ব্যবসা, সেই পর্যটকদের জীবনের নিরাপত্তার কথা না ভেবে শুধু টাকা আয়ই যেন কারো কারো কাছে মুখ্য হয়ে উঠেছে। পোস্টের শেষে তিনি স্থান হিসেবে উল্লেখ করেছেন, 'ইনানী, কক্সবাজার'।

জাগো নিউজ ও রাইজিংবিডির রিপোর্ট বলছে, শিশুসহ ১০ জনের প্রাণহানির খবর সামনে আসার পর থেকেই শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেকে। ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতে অবস্থিত এই রিসোর্টে আগুনের ঘটনাটি শনিবারই ঘটে, আর ঘটনার ভিডিও ও ছবি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সারাদিন ধরেই ঘটনাটি ছিল দেশের অনলাইন আলোচনার অন্যতম বড় বিষয়, যার প্রতিফলন দেখা গেছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও থ্রেডসের অসংখ্য পোস্টে।

কেন এই ঘটনা এত আলোড়ন তুলল, তার পেছনে আছে সময় ও স্থানের প্রেক্ষাপট। দুর্গাপূজার লম্বা ছুটি চলছে, আর এই সময়ে কক্সবাজারসহ দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের ভিড় স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকে। ইনানী ও পাটুয়ারটেক এলাকা কক্সবাজারের সমুদ্রতীর ঘেঁষা জনপ্রিয় পর্যটন স্পট, যেখানে ছুটির মৌসুমে রিসোর্টগুলো প্রায় ভরাই থাকে। এমন একটি ব্যস্ত সময়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও প্রাণহানি তাই শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, গোটা পর্যটন শিল্পের নিরাপত্তা কাঠামো নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে।

ইরফান সাজ্জাদের পোস্টে উঠে আসা এক মায়ের সন্তানকে খুঁজে বেড়ানোর হৃদয়বিদারক প্রসঙ্গও অনেককে নাড়া দিয়েছে। রাইজিংবিডির রিপোর্টে বলা হয়েছে, তাঁর বক্তব্যে অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি নিয়ে ক্ষোভের পাশাপাশি সেই মায়ের কষ্টের কথাও উঠে এসেছে। শোবিজের মানুষ হিসেবে তিনি শুধু শিল্পীর চোখে নয়, একজন সাধারণ নাগরিকের ক্ষোভ ও উদ্বেগের ভাষাতেই কথা বলেছেন, আর সেই ভাষাই সাধারণ পাঠকের মনে দাগ কেটেছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনা পর্যটনকেন্দ্রের আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং অতিথিদের জীবন সুরক্ষার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে বলে মন্তব্য করেছে রাইজিংবিডি। আগুন লাগার কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এবং দায়ীদের বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে নতুন তথ্য এলে তা জানানো হবে। আপাতত শোকস্তব্ধ পুরো দেশ, আর শোবিজ অঙ্গনের এই প্রতিক্রিয়া সেই শোকেরই প্রতিচ্ছবি।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার