বলিউডে যখন ‘দৃশ্যম ৩’-এর সাফল্য নিয়ে আলোচনায় অজয় দেবগন, ঠিক তখনই ব্যক্তিগত সম্পত্তি নিয়ে বিতর্কে জড়ালেন এই অভিনেতা। মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় অজয় দেবগন ও তার মায়ের মালিকানাধীন একটি বাংলোর অবৈধ অংশ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বৃহৎ মুম্বাই পৌরসংস্থা (বিএমসি)।
বিএমসির অভিযোগ, কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন ছাড়াই বাংলোটিতে নির্মাণ কাজ চালানো হচ্ছিল। সেই অভিযোগে গত ১২ অক্টোবর উচ্ছেদ অভিযান চালায় নগর কর্তৃপক্ষ। যুগান্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির সূত্রে এই খবর জানা গেছে।
জুহুর কাপোল কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটিতে অবস্থিত বাংলোটির আয়তন প্রায় ৭,৮০২ বর্গফুট। পুরসভার দাবি, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই বাড়ির ভেতরে একাধিক পরিবর্তন করা হচ্ছিল। এর মধ্যে ছিল ঘরের অভ্যন্তরীণ কাঠামোয় বদল, পার্টিশন দেওয়াল তৈরি, জানলার পরিবর্তনসহ নানা নির্মাণ সংক্রান্ত কাজ।
ঘটনার টাইমলাইন বলছে, পুরসভা হঠাৎ করে এই পদক্ষেপ নেয়নি। গত সেপ্টেম্বরে বিএমসি কর্তৃপক্ষ কাজ বন্ধ রাখতে এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনের কাগজ দেখাতে নির্দেশ দিয়ে নোটিশ পাঠিয়েছিল। অর্থাৎ, মালিকপক্ষকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি মালিকপক্ষ। জবাব দিলেও বৈধ নথিপত্র দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় গত ৬ অক্টোবর বিএমসি সেই জবাব খারিজ করে দেয়। আর শেষ পর্যন্ত ১২ অক্টোবর অবৈধ অংশটুকু ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত কার্যকর করে পুরসভা।
বাংলোটির আরেকটি দিকও সামনে এসেছে এই ঘটনায়। জানা গেছে, প্রায় ৭,৮০২ বর্গফুটের এই বিলাসবহুল বাংলো সম্প্রতি একটি সেলুন সংস্থাকে পাঁচ বছরের চুক্তিতে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। হাউজিং সোসাইটি সেলুন খোলার অনুমতি দিলেও বাড়িটির ভেতরের কাঠামোগত কোনো পরিবর্তন করার বা বাণিজ্যিক রূপ দেওয়ার অনুমতি দেয়নি।
অর্থাৎ, বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য ভেতরে যে পরিবর্তন আনা হচ্ছিল, সেটাই ছিল বিতর্কের কেন্দ্রে। আবাসিক বাংলোকে বাণিজ্যিক কাজে লাগাতে গিয়ে অনুমতি ছাড়া কাঠামোগত বদল আনা হয়, আর সেটাই পুরসভার নজরে আসে।
এদিকে পেশাগত জীবনে ব্যস্ত সময় পার করছেন অজয় দেবগন। যুগান্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর তার বহুল প্রতীক্ষিত ‘দৃশ্যম ৩’ বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য পেয়েছে, আর সামনে তার আরও কয়েকটি নতুন সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
একদিকে বক্স অফিসে সাফল্য, অন্যদিকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি নিয়ে বিতর্ক, এই দুই কারণেই এখন আলোচনার কেন্দ্রে অজয় দেবগন। তারকাদের সম্পত্তি নিয়ে পুরসভার এমন কঠোর পদক্ষেপ মুম্বাইয়ে নতুন নয়, তবে প্রথম সারির তারকার ক্ষেত্রে এটি সবসময়ই বাড়তি নজর কাড়ে।
কেন এই খবর গুরুত্বপূর্ণ, তার উত্তর লুকিয়ে আছে অনুমতি আর বাণিজ্যিক ব্যবহারের ফারাকে। আবাসিক এলাকায় বাড়ি ভাড়া দিয়ে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান চালানো, আর সেজন্য ভেতরে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা, এই দুটোর জন্য আলাদা অনুমতি লাগে। সেই নিয়ম না মানার পরিণতিই দেখল এই বাংলো।
এরপর কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। উচ্ছেদের পর মালিকপক্ষ নতুন করে অনুমোদনের আবেদন করবে কি না, নাকি আইনি পথে হাঁটবে, সেটা সময়ই বলবে। তবে এই ঘটনা মুম্বাইয়ের তারকাদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা: নিয়মের বাইরে গিয়ে নির্মাণ করলে ছাড় পাবেন না কেউই।
বাণিজ্যিক ভাড়া আর আবাসিক অনুমতির এই ফারাকটা বোঝা জরুরি। হাউজিং সোসাইটি সেলুন খোলার অনুমতি দিলেও সেটা ছিল ব্যবহারের অনুমতি, কাঠামোগত পরিবর্তনের নয়। আর পুরসভার অনুমতি ছাড়া ভেতরে বড় ধরনের বদল আনা আইনত অপরাধ। এই দুই অনুমতিকে গুলিয়ে ফেলার খেসারতই দিতে হলো বাংলোটিকে।
সাফল্যের শিখরে থাকা অবস্থায় এমন বিতর্ক যে কোনো তারকার জন্যই অস্বস্তিকর। ‘দৃশ্যম ৩’-এর দারুণ সাফল্যের পর অজয়ের ক্যারিয়ার যখন ঊর্ধ্বমুখী, তখন এই উচ্ছেদ অভিযান তার ভাবমূর্তিতে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
