বিনোদন ঝলক
তারকা

বিয়েবাড়ির ৫০০ রুপির গান থেকে ৩০ কোটি: ৩৬-এ অনিরুদ্ধ রবিচন্দর

বিনোদন ঝলক ডেস্ক১৬ অক্টোবর ২০২৬4 মিনিটে পড়ুন
বিয়েবাড়ির ৫০০ রুপির গান থেকে ৩০ কোটি: ৩৬-এ অনিরুদ্ধ রবিচন্দর

বড় তারকাদের আস্থার নাম এখন অনিরুদ্ধ রবিচন্দর। অথচ ক্যারিয়ারের একদম শুরুর দিকে বিয়েবাড়িতে গান গেয়ে কখনো পেয়েছেন মাত্র ৫০০ রুপি, কখনো পারিশ্রমিকের বদলে জুটেছে শুধু পান। আজ ১৬ অক্টোবর সেই সুরকারের জন্মদিন। ১৯৯০ সালের এই দিনে চেন্নাইয়ে জন্ম নেওয়া ভারতের অন্যতম আলোচিত সংগীত পরিচালক আজ ৩৬ বছরে পা দিলেন।

অবশ্য অনিরুদ্ধের পথচলাকে একেবারে শূন্য থেকে উঠে আসার গল্প বললে পুরো বাস্তবতা ধরা পড়ে না। তাঁর বাবা রবি রাঘবেন্দ্র অভিনেতা, আর সুপারস্টার রজনীকান্ত তাঁর মামা। ফলে চলচ্চিত্র ও বিনোদনের জগতের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তাঁর ছিল। কিন্তু সেই পরিচিত পরিবেশে বেড়ে ওঠা আর নিজের সংগীত দিয়ে আলাদা জায়গা তৈরি করা এক বিষয় নয়। অনিরুদ্ধকে নিজের প্রতিভা দিয়েই শ্রোতাদের মন জয় করতে হয়েছে।

শুরুর দিনগুলোর স্মৃতি বলতে গিয়ে অনিরুদ্ধ জানিয়েছেন, বিয়েবাড়িতে গান গেয়ে কখনো পেয়েছেন ৫০০ রুপি, কখনো আবার পারিশ্রমিকের বদলে শুধু পান পেয়েছেন। অর্থের চেয়ে তখন বড় ছিল গান গাওয়ার আনন্দ, মঞ্চে ওঠার উত্তেজনা আর মানুষের সামনে নিজের সংগীত তুলে ধরার সুযোগ। সেই মঞ্চ থেকেই শুরু হয়েছিল আজকের প্যান-ইন্ডিয়ান সুরকারের যাত্রা।

অনিরুদ্ধের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া গান ‘হোয়াই দিস কোলাভেরি ডি’। ধনুশ অভিনীত তামিল সিনেমা ‘থ্রি’র জন্য গানটি তৈরি হয়েছিল। ধনুশের কণ্ঠ, অনিরুদ্ধের সুর ও সংগীত আয়োজন মিলে গানটি হয়ে ওঠে ব্যাপক আলোচিত। ইংরেজি ও তামিলের মিশ্র ভাষা, ইচ্ছাকৃতভাবে ভাঙা ইংরেজি উচ্চারণ, আকর্ষণীয় সুর আর সহজে মনে থাকার মতো ছন্দ, সব মিলিয়ে গানটি তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গানটি ছড়িয়ে পড়ে, তৈরি হয় অসংখ্য অনুকরণ ও সংস্করণ। তখনকার সময়ের হিসেবে এটি ছিল ইন্টারনেটে ভারতীয় গানের অন্যতম বড় ভাইরাল সাফল্য। ২০১২ সালে ‘থ্রি’ মুক্তির আগেই গানটির জনপ্রিয়তা অনিরুদ্ধকে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়। তবে একটি ভাইরাল গান দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রাকে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পরিণত করাই ছিল আসল চ্যালেঞ্জ।

সেই চ্যালেঞ্জে অনিরুদ্ধ উতরে গেছেন দারুণভাবে। ‘কোলাভেরি ডি’র পর তাঁর সামনে খুলে যায় তামিল চলচ্চিত্রের বড় দরজা। ‘কাত্থি’, ‘ভিআইপি’, ‘ভেদালাম’, ‘পেট্টা’, ‘মাস্টার’, ‘বিস্ট’, ‘বিক্রম’ ও ‘জেলার’র মতো সিনেমায় তাঁর সংগীত ও ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর জনপ্রিয়তা পায়। বিশেষ করে আবহসংগীতে অনিরুদ্ধের কাজ তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। নায়ক পর্দায় প্রবেশ করছেন, কোনো গুরুত্বপূর্ণ সংঘাতের দৃশ্য কিংবা উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত, এসব দৃশ্যে তাঁর সংগীত দর্শকের আবেগকে আরও তীব্র করে তোলে।

অনিরুদ্ধ বুঝেছিলেন, প্রথম সাফল্যের পুনরাবৃত্তি নয়, বরং প্রতিটি সিনেমার জন্য নতুন সুর ও নতুন সংগীতভাষা তৈরি করতে হবে। এই চিন্তা থেকেই তাঁর সংগীতে এসেছে বৈচিত্র্য। কখনো দ্রুতগতির বিট, কখনো ইলেকট্রনিক সংগীতের ব্যবহার, কখনো আবার আবেগঘন সুর, সিনেমার চরিত্র ও গল্প অনুযায়ী নিজের সংগীতের ধরন বদলে নেন তিনি। গানকে শুধু সিনেমার একটি অংশ হিসেবে না দেখে পুরো ছবির আবহ তৈরির উপাদান হিসেবে ব্যবহার করাই তাঁর বড় শক্তি।

এই কারণেই দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায় রজনীকান্ত, বিজয়, অজিত কুমার ও কমল হাসানের মতো তারকাদের ছবিতে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। তারকাদের জনপ্রিয়তা যেমন তাঁর সংগীতকে বড় দর্শকের কাছে পৌঁছে দিয়েছে, তেমনি তাঁর সংগীতও সিনেমার প্রচারে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে।

তামিল সিনেমায় প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর অনিরুদ্ধের সামনে আসে আরও বড় বাজারের সুযোগ। শাহরুখ খান অভিনীত অ্যাটলি পরিচালিত ‘জওয়ান’ দিয়ে হিন্দি চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালক হিসেবে অভিষেক হয় তাঁর। ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি বাণিজ্যিক সাফল্য অর্জন করে। ‘জওয়ান’র সংগীত ও আবহসংগীত অনিরুদ্ধকে দক্ষিণ ভারতের বাইরের দর্শকদের মধ্যেও পরিচিত করে তোলে। এরপর তেলুগু সিনেমা ‘দেবারা’র সংগীত নিয়েও আলোচনায় আসেন তিনি।

জনপ্রিয়তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অনিরুদ্ধের পারিশ্রমিকও। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, একটি সিনেমার সংগীত অ্যালবামের জন্য তিনি প্রায় ১০ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিচ্ছেন। এরপর ২০২৫ সালের জুলাইয়ে এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, হিন্দি সিনেমার জন্য তাঁর পারিশ্রমিক ১০ কোটি রুপির বেশি হতে পারে এবং তেলুগু সিনেমার ক্ষেত্রে তা ১৫ কোটি রুপি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ২০২৬ সালের আগস্টে স্যাকনিল্কের প্রতিবেদনে আল্লু অর্জুন ও লোকেশ কানাগরাজের আসন্ন সিনেমা ‘এএ২৩’র জন্য তাঁর পারিশ্রমিক ২৩ কোটি রুপি (প্রায় ৩০ কোটি টাকা) বলে দাবি করা হয়।

অনিরুদ্ধের কাজের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের সংগীতচর্চা ও একটি নির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি। ২০২৬ সালে বিলবোর্ড ইন্ডিয়ার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তাঁর স্টুডিওতে একই সংগীতশিল্পীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেন। আরও বলেন, তাঁদের তৈরি সংগীতের বড় একটি অংশ শুরুতে কোনো নির্দিষ্ট সিনেমার জন্য তৈরি করা হয় না। এই চর্চাই তাঁর সংগীতে বৈচিত্র্য এনেছে।

বিয়েবাড়ির ৫০০ রুপির গান থেকে আজকের ৩০ কোটি রুপির পারিশ্রমিক, অনিরুদ্ধের এই যাত্রা প্রমাণ করে, ভাইরাল সাফল্য শুধু শুরু, টিকে থাকতে লাগে নিরন্তর নতুন সুরের সন্ধান। ৩৬তম জন্মদিনে তাঁর পরের যাত্রা কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার