বিনোদন ঝলক
ভ্রমণ

কক্সবাজার ভ্রমণ গাইড ২০২৬: কেন যাবেন, কী কী দেখবেন, খরচ কত

বিনোদন ঝলক ডেস্ক১৫ অক্টোবর ২০২৬3 মিনিটে পড়ুন
কক্সবাজার ভ্রমণ গাইড ২০২৬: কেন যাবেন, কী কী দেখবেন, খরচ কত

বাংলাদেশের মানুষের কাছে সমুদ্র মানেই কক্সবাজার। প্রায় ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সমুদ্রসৈকত বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকতগুলোর একটি, আর দেশের ভেতরে ঘুরতে যাওয়ার জায়গার তালিকায় এর নাম সবার আগে আসে। পরিবার নিয়ে ছুটি কাটানো হোক, বন্ধুদের সঙ্গে অ্যাডভেঞ্চার, বা হানিমুন, সব ধরনের ভ্রমণকারীর জন্য কক্সবাজারে কিছু না কিছু আছে। এই গাইডে জানুন কেন যাবেন, কখন যাবেন, কী কী দেখবেন, কীভাবে যাবেন এবং মোটামুটি কত খরচ পড়বে।

কক্সবাজার যাওয়ার সেরা সময় অক্টোবর থেকে মার্চ। এই সময় আকাশ পরিষ্কার থাকে, সমুদ্র শান্ত থাকে এবং বৃষ্টির ঝামেলা কম। অক্টোবর-নভেম্বরে ভিড় তুলনামূলক কম থাকে, তাই হোটেল ভাড়ায় ছাড় পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে পিক সিজন, তখন হোটেলের দাম বেড়ে যায় এবং আগে থেকে বুকিং না করলে ভালো রুম পাওয়া কঠিন হয়। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর বর্ষা ও গরমের সময়, সমুদ্র উত্তাল থাকে, এই সময় সাঁতার কাটা ঝুঁকিপূর্ণ।

ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় উপায় বাস। সায়েদাবাদ, কলাবাগান, ফকিরাপুলসহ বিভিন্ন টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন অসংখ্য বাস ছাড়ে। নন-এসি বাসের ভাড়া সাধারণত ৯০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে, আর এসি বাসের ভাড়া ১৬০০ থেকে ২২০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে, অপারেটর ও সিটের ধরনভেদে দাম বদলায়। সময় লাগে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা। দ্রুত যেতে চাইলে বিমান আছে, ঢাকা থেকে কক্সবাজার সরাসরি ফ্লাইটে সময় লাগে প্রায় দেড় ঘণ্টা, ভাড়া মৌসুম ও বুকিংয়ের সময়ভেদে ৫ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকার মধ্যে ওঠানামা করে। চট্টগ্রাম থেকে বাসে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টায় পৌঁছানো যায়।

কক্সবাজারে দেখার জায়গার তালিকা বেশ লম্বা। মূল আকর্ষণ অবশ্যই সমুদ্রসৈকত: লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে সকাল-বিকেল ভিড় থাকে, সূর্যাস্ত দেখার জন্য এগুলো সেরা। হিমছড়ি ঝরনা ও পাহাড় সমুদ্রের পাশেই, বর্ষার পর ঝরনায় পানি থাকে। ইনানী সৈকতের প্রবাল পাথর আর স্বচ্ছ পানি ছবি তোলার জন্য দারুণ। কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিলোমিটারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে যাওয়ার পথটাই একটা অভিজ্ঞতা, একপাশে পাহাড় অন্যপাশে সমুদ্র। মহেশখালী দ্বীপে আদিনাথ মন্দির ও শুঁটকিপল্লি, রামুতে বৌদ্ধ মন্দির ও বিহার, আর ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক একদিনের ভ্রমণে ঘুরে আসা যায়।

থাকার জায়গার কোনো অভাব নেই। কলাতলী ও সুগন্ধা এলাকায় বাজেট হোটেল পাওয়া যায় ১২০০ থেকে ২৫০০ টাকায়। মাঝারি মানের হোটেল ও রিসোর্ট ৩৫০০ থেকে ৭০০০ টাকার মধ্যে। সমুদ্রমুখী বিলাসবহুল রিসোর্ট ও ফাইভ-স্টার হোটেলের ভাড়া ৯০০০ টাকা থেকে শুরু করে আরও অনেক বেশি। পিক সিজনে দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে, তাই ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে গেলে আগে থেকে বুকিং করা বুদ্ধিমানের কাজ।

খাওয়ার খরচ নির্ভর করে রুচির ওপর। সৈকতের পাশের রেস্তোরাঁয় সামুদ্রিক মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া ও লইট্টা ফ্রাই বেশ জনপ্রিয়। স্থানীয় হোটেলে ভাত-মাছ-ডালের সেট মিল পাওয়া যায় ১৫০ থেকে ২৫০ টাকায়। মাঝারি রেস্তোরাঁয় প্রতিবেলা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা বাজেট রাখলেই চলে। শুঁটকি কিনতে চাইলে মহেশখালী বা স্থানীয় বাজার থেকে কেনা ভালো, দামাদামি করতে ভুলবেন না।

দুই দিন এক রাতের বাজেট ট্রিপে জনপ্রতি খরচ পড়তে পারে ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা (নন-এসি বাস, বাজেট হোটেলে শেয়ারিং রুম, স্থানীয় খাবার)। মাঝারি বাজেটে এসি বাস, ভালো হোটেল ও রেস্তোরাঁর খাবারসহ জনপ্রতি ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা লাগতে পারে। পরিবার নিয়ে তিন দিনের আরামদায়ক ট্রিপে খরচ আরও বাড়বে। এগুলো আনুমানিক ধারণা, মৌসুম ও পছন্দভেদে কমবেশি হবে।

কিছু জরুরি টিপস। সমুদ্রে নামার আগে লাল পতাকা বা সতর্কবার্তা আছে কিনা দেখুন, উত্তাল সমুদ্রে সাঁতার কাটবেন না। মূল্যবান জিনিস হোটেলের লকারে রাখুন। অটোরিকশা বা টমটমে ওঠার আগে ভাড়া ঠিক করে নিন। সৈকতে প্লাস্টিক বা ময়লা ফেলবেন না। কেনাকাটায় দামাদামি করা স্বাভাবিক, প্রথম দামেই কিনবেন না। আর ভ্রমণের আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে নিন, বিশেষ করে বর্ষাকালে।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার