বিনোদন ঝলক
ওয়েব সিরিজ

বিয়ের পরের গল্প 'হ্যাপিলি ম্যারিড': চরকিতে জুটি বাঁধলেন শুভ ও কেয়া পায়েল

বিনোদন ঝলক ডেস্ক১৪ অক্টোবর ২০২৬4 মিনিটে পড়ুন
বিয়ের পরের গল্প 'হ্যাপিলি ম্যারিড': চরকিতে জুটি বাঁধলেন শুভ ও কেয়া পায়েল

প্রেমের গল্প পর্দায় নতুন নয়, কিন্তু বিয়ের পরের গল্প? 'হ্যাপিলি ম্যারিড' হওয়ার পরের অধ্যায়টা আসলে কেমন, সেই প্রশ্ন নিয়েই হাজির হয়েছে নতুন ওয়েব ফিল্ম 'হ্যাপিলি ম্যারিড'। চরকির 'মিনিস্ট্রি অব লাভ' প্রকল্পের এই অরিজিনাল ওয়েব ফিল্মে প্রথমবার জুটি বাঁধলেন আরিফিন শুভ ও কেয়া পায়েল। পরিচালনায় আছেন তরুণ নির্মাতা জাহিদ প্রীতম।

ওয়েব ফিল্মটির মূল ভাবনা আবর্তিত হয়েছে দাম্পত্য জীবনের সেই অংশকে ঘিরে, যা নিয়ে পর্দায় কথা হয় তুলনামূলক কম। প্রেম, বিরহ কিংবা ত্রিকোণ প্রেমের গল্পে নাটক, সিনেমা ও ওয়েব ফিল্মে কমতি নেই। কিন্তু বিয়ের পর একটি দম্পতির জীবনে আসলে কী ঘটে, সেই গল্প খুব একটা দেখা যায় না। এই ভাবনা থেকেই নির্মিত হয়েছে 'হ্যাপিলি ম্যারিড'। ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র আনিস, যেখানে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ। মফস্বলের ছেলেটি স্বাধীন, আত্মনির্ভর ও দায়িত্বশীল জীবনযাপন করে, তার পুরো পৃথিবী জুড়ে আছে পরিবার, ছোট ভাইবোন ও প্রিয় মানুষেরা। অন্যদিকে উচ্চবিত্ত ও আধুনিক শহুরে সংস্কৃতির চাদরে মোড়ানো তরুণী অনামিকা চরিত্রে অভিনয় করেছেন কেয়া পায়েল, যার জগৎ আবর্তিত হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার রোমাঞ্চ, সেলিব্রিটি ফ্যান্টাসি আর ভার্চুয়াল জগতের রঙিন স্বপ্নকে ঘিরে। দুই ভিন্ন জগতের এই দুটি মানুষের দাম্পত্যের টানাপোড়েনই রোমান্টিক-কমেডি ঘরানার এই ফিল্মের প্রাণ।

মুক্তির আগে গত ৫ অক্টোবর, সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় 'হ্যাপিলি ম্যারিড'-এর বিশেষ প্রদর্শনী। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় দুই শিল্পী আরিফিন শুভ ও কেয়া পায়েল। এরপর ৮ অক্টোবর রাত ১২টা থেকে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে দেখা যাচ্ছে ওয়েব ফিল্মটি। বিশেষ প্রদর্শনীতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দাম্পত্য জীবনে সুখে থাকার 'রেসিপি' জানতে চাওয়া হলে হাসতে হাসতে শুভ বলেন, 'ম্যারিড লাইফে হ্যাপি থাকার রেসিপি হচ্ছে, প্রত্যেক সপ্তাহে একবার করে হ্যাপিলি ম্যারিড দেখতে হবে।' তবে রসিকতার পাশাপাশি পর্দার বাইরের বাস্তবতাও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষায়, পর্দার বাইরে বিয়ের বিষয়টা আকাশ-পাতাল পার্থক্যের, বাস্তব জীবন পুরো আলাদা। ছবির একটি সংলাপ উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, 'হ্যাপিলি ম্যারিড বা দাম্পত্যজীবন শুরু হয় হ্যাপি শব্দটি ফুরিয়ে গেলে।' তার বিশ্বাস, দাম্পত্যজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয় উঠে এসেছে এই সিনেমায়।

'হ্যাপিলি ম্যারিড'-এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ওয়েব ফিল্মে অভিনয় করেছেন কেয়া পায়েল। নিজের প্রথম ওয়েব ফিল্ম নিয়ে উচ্ছ্বসিত এই অভিনেত্রী জানান, এটি তার কাছে স্বপ্নের মতো একটি প্রজেক্ট, যার জন্য তিনি দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছেন। অসাধারণ একজন পরিচালক পাওয়ার পাশাপাশি সহশিল্পী হিসেবে আরিফিন শুভকে পাওয়াটাও তার জন্য বড় আনন্দের। তার দাবি, এই সিনেমায় দর্শক তাকে আগের চেয়ে ভিন্নভাবে দেখতে পাবেন। নিজের চরিত্রটিকে তিনি বর্ণনা করেছেন 'প্রেমে পড়ার মতো' হিসেবে, যার অনেকগুলো স্তর আছে।

মজার ব্যাপার হলো, এই ওয়েব ফিল্ম ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছিল মুক্তির অনেক আগেই। গত জুলাইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরিফিন শুভ ও কেয়া পায়েলের 'হ্যাপিলি ম্যারিড' লেখা একটি পোস্ট ঘিরে জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে, অনেকেই ধারণা করেছিলেন গোপনে বিয়ে করেছেন এই দুই তারকা। পরে জানা যায়, বাস্তব জীবনের কোনো ঘোষণা নয়, বরং নতুন ওয়েব ফিল্মের প্রচারণারই অংশ ছিল সেই পোস্ট। গুঞ্জন থেকে খোলাসা, এই পুরো পর্বটাই ছবিটির প্রতি দর্শকের আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে।

'ঘুমপরী'র পর চরকিতে 'হ্যাপিলি ম্যারিড' হচ্ছে নির্মাতা জাহিদ প্রীতমের দ্বিতীয় ফিল্ম। তার ভাষায়, সমকালীন জীবনের জটিলতা, পারিবারিক সম্পর্কের চিরন্তন বন্ধন এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহারকে এক সুতোয় বাঁধা হয়েছে এই ওয়েব ফিল্মে। দুটি কাছাকাছি সময়ের মানুষের গল্প এটি, যারা নিজেদের ব্যক্তিসত্তা, পরিবার, সমাজ ও সম্পর্ক নিয়ে কী ভাবেন, তারই প্রতিফলন পাওয়া যাবে পর্দায়। এদিকে 'ঊনিশ২০' (২০২৩) মুক্তির দীর্ঘদিন পর আবারও চরকির কোনো কনটেন্টে ফিরলেন আরিফিন শুভ, আর কেয়া পায়েলের জন্য এটি চরকির সঙ্গে প্রথম কাজ।

বিয়ের পরের জীবন নিয়ে পর্দায় খুব বেশি গল্প না হওয়ায় 'হ্যাপিলি ম্যারিড' দর্শকের কাছে একটু ভিন্ন অভিজ্ঞতা দেবে বলেই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। চরকির 'মিনিস্ট্রি অব লাভ' প্রকল্পের অংশ হিসেবে নির্মিত এই ফিল্ম এখন দর্শকের বিচারের মুখে। দাম্পত্যের হাসি-কান্না, ভুল বোঝাবুঝি আর নতুন করে ভালোবাসা খুঁজে পাওয়ার গল্প দর্শকের মনে কতটা দাগ কাটে, সেটাই এখন দেখার।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার