দক্ষিণী সুপারস্টার রজনীকান্তের পর্দার জাদু যেন থামছেই না। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিসে দাপট দেখাচ্ছে তাঁর অভিনীত 'জেলার ২'। চার দিনেই বিশ্বজুড়ে ৪২৪ কোটি ২৫ লাখ রুপি আয় করেছে সিনেমাটি। আজ সোমবার, পঞ্চম দিনের আয় দিয়েই ৫০০ কোটি রুপির মাইলফলক ছোঁয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ছবিটি। ভারতীয় বক্স অফিসের ইতিহাসে এটি হবে অন্যতম দ্রুততম অর্জন।
গত ১৫ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় 'জেলার ২'। প্রথম দিনেই ভারতে ছবিটির নিট আয় ছিল ৫৯ কোটি ৭০ লাখ রুপি। দ্বিতীয় দিনে আয় কিছুটা কমে ৩৭ কোটি ১০ লাখ রুপিতে দাঁড়ালেও সপ্তাহান্তে আবারও ঘুরে দাঁড়ায় সিনেমাটি। শনিবার আয় করে ৪৭ কোটি ২৫ লাখ রুপি। আর রোববার, মুক্তির চতুর্থ দিনে ছবিটির আয় ছিল ৫৫ কোটি ৮৫ লাখ রুপি। চার দিনের এই ধারাবাহিকতাই ছবিটিকে ৫০০ কোটির দোরগোড়ায় নিয়ে এসেছে।
শিল্পভিত্তিক বক্স অফিস হিসাব পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে চার দিনে ছবিটির মোট নিট আয় ১৯৯ কোটি ৯০ লাখ রুপি। দেশটিতে মোট আয় বা গ্রস কালেকশন ২৩৪ কোটি ২৫ লাখ রুপি। বিদেশের বাজারে আয় যোগ করে বিশ্বব্যাপী মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৪২৪ কোটি ২৫ লাখ রুপি। বিদেশের বাজার থেকে আসা প্রায় ১৯০ কোটি রুপি প্রমাণ করে, রজনীকান্তের আবেদন এখন আর শুধু দক্ষিণ ভারতে সীমাবদ্ধ নেই।
কী আছে এই সিনেমায়, যা দর্শকদের এতটা আকৃষ্ট করছে? ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ব্যবসাসফল সিনেমা 'জেলার'-এর সিক্যুয়েল এটি। প্রথম ছবিতে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা টাইগার মুথুভেল পান্ডিয়ান চরিত্রে আবারও ফিরেছেন রজনীকান্ত। গল্পের কেন্দ্রেও রয়েছেন এই অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা। অ্যাকশন, উত্তেজনা, অপরাধজগতের সংঘাত এবং রজনীকান্তের নিজস্ব পর্দা-ব্যক্তিত্ব, সব মিলিয়ে নির্মিত হয়েছে ছবিটি। বিশেষ করে সিনেমার অ্যাকশন দৃশ্যগুলো মুগ্ধ করছে দর্শককে। সেইসঙ্গে মারকাটারি সংলাপ ও গল্পের টুইস্টও মুগ্ধ করে যাচ্ছে।
প্রথম 'জেলার'-এর সাফল্যের ভিত্তিতেই সিক্যুয়েলের প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া। পরিচালক নেলসন দিলীপকুমার সেই প্রত্যাশা পূরণ করেছেন বড় ক্যানভাসে। ছবির প্রতিটি ফ্রেমে রজনীকান্তের স্টার-পাওয়ার ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু গল্পের টানটান উত্তেজনাও ধরে রাখা হয়েছে। এই ভারসাম্যই দর্শককে হলে টানছে বারবার। দ্বিতীয় দিনের তুলনামূলক কম আয়ের পর শনি ও রোববারের লাফ প্রমাণ করে, মুখের কথাতেই ছবি চলছে।
বক্স অফিস বিশ্লেষকদের চোখ এখন সোমবারের অর্থাৎ পঞ্চম দিনের আয়ের দিকে। সপ্তাহান্তের গতি ধরে রাখতে পারলে ৫০০ কোটির মাইলফলক ছোঁয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এরপর ছবির সামনে থাকবে রজনীকান্তের নিজের আগের রেকর্ডগুলো ভাঙার চ্যালেঞ্জ। 'জেলার ২' ইতিমধ্যে প্রমাণ করেছে, সঠিক গল্প আর তারকা-শক্তির মিশেলে বক্স অফিসে এখনো ঝড় তোলা সম্ভব।
এই সাফল্য কেন গুরুত্বপূর্ণ, তার ব্যাখ্যা দিচ্ছেন বাণিজ্য-বিশ্লেষকরা। সিক্যুয়েল-নির্ভর সিনেমার যুগে দর্শক এখন গল্পের ধারাবাহিকতা চায়, শুধু তারকার নামে হলে যায় না। 'জেলার ২' দেখিয়েছে, প্রথম ছবির জনপ্রিয় চরিত্রকে বড় ক্যানভাসে ফিরিয়ে আনলে দর্শক সাড়া দেয়। চার দিনে ৪২৪ কোটির এই গতি ভারতীয় বক্স অফিসে চলতি বছরের অন্যতম সেরা ওপেনিং-উইকেন্ড পারফরম্যান্স।
এরপর কী? সবার নজর এখন সোমবার অর্থাৎ পঞ্চম দিনের আয়ের দিকে। সপ্তাহান্তের গতি ধরে রাখতে পারলেই ৫০০ কোটির মাইলফলক ছোঁয়া হবে। তারপর শুরু হবে সপ্তাহের দিনগুলোর পরীক্ষা। ছবির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে রজনীকান্তের ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক সাফল্য হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নেবে 'জেলার ২'।
