মুক্তির দ্বিতীয় দিনেও বক্স অফিসে দাপট ধরে রেখেছে রজনীকান্তের 'জেলার ২'। ১৬ অক্টোবর সকাল ৯টা ৩ মিনিট পর্যন্ত বক্স অফিস ট্র্যাকার স্যাকনিল্কের হিসাবে, ভারতের বাজারে দ্বিতীয় দিনের নিট আয় ২ কোটি ৩২ লাখ রুপি। এ নিয়ে ভারতে সিনেমাটির মোট নিট আয় দাঁড়াল ৬২ কোটি ২ লাখ রুপি। তবে দ্বিতীয় দিনের এই হিসাব এখনো প্রাথমিক; দিনের শেষে বাকি শোগুলোর আয় যোগ হলে অঙ্ক আরও বাড়তে পারে।
এর আগে ১৫ অক্টোবর মুক্তির প্রথম দিনে বিশ্বব্যাপী ১২৫ কোটি ২৫ লাখ রুপি আয় করেছিল সিনেমাটি। এর মধ্যে ভারতের বাজার থেকে এসেছিল ৭০ কোটি ২৫ লাখ আর বিদেশের বাজার থেকে ৫৫ কোটি রুপি। ভারতের প্রেক্ষাগৃহে প্রথম দিনের নিট আয় ছিল ৫৯ কোটি ৭০ লাখ রুপি। ওভারসিজে ৫৫ কোটি রুপির প্রথম দিনের আয়কে ট্রেড মহলে তামিল সিনেমার জন্য বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রথম দিনের এই আয়েই 'জেলার ২' ২০২৬ সালের সবচেয়ে বড় তামিল ওপেনার হয়ে ওঠে। বিজয়ের 'জন নায়গান'-এর ৪২ কোটি ৭০ লাখ রুপির ওপেনিংকে ছাড়িয়ে যায় রজনীকান্তের সিনেমা। তবে রজনীকান্তের নিজের আগের রেকর্ড, 'কুলি'-র ৬৫ কোটি রুপির প্রথম দিনের আয়, এবার ভাঙেনি। দ্বিতীয় দিনের ধারা বলছে, সপ্তাহান্তে বড় অঙ্কের দিকেই এগোচ্ছে সিনেমাটি।
ভাষাভিত্তিক হিসাবে প্রথম দিনে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল তামিল সংস্করণের, ৪৩ কোটি ৩৫ লাখ রুপি। তেলুগু সংস্করণ থেকে এসেছে ১২ কোটি ৫০ লাখ, হিন্দি সংস্করণ থেকে ৩ কোটি ৫০ লাখ আর কন্নড় সংস্করণ থেকে ৩৫ লাখ রুপি। হিন্দি বেল্টে তুলনামূলক দুর্বল পারফরম্যান্সের পেছনে পিভিআর-আইনক্সের সঙ্গে ওটিটি-উইন্ডো নিয়ে বিরোধের প্রভাব রয়েছে বলে মনে করছেন ট্রেড পর্যবেক্ষকরা; এই বিরোধের কারণে হিন্দি ভার্সনের প্রদর্শন সীমিত ছিল।
মুক্তির দিন থেকেই ভক্তদের উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন হলে 'জেলার ২'-এর পোস্টারে দুধ ঢেলে আরতি করতে দেখা গেছে রজনীকান্তের ভক্তদের, যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশেষ করে হৃতিক রোশনের ক্যামিও নিয়েও তোলপাড় চলছে। এই উন্মাদনাই দ্বিতীয় দিনের সকালের শোগুলোতেও দর্শক টানছে বলে মনে করা হচ্ছে।
নেলসন দিলীপকুমার পরিচালিত অ্যাকশন সিনেমাটিতে রজনীকান্তের সঙ্গে অভিনয় করেছেন রম্যা কৃষ্ণন, বিদ্যা বালান, মোহনলাল, শিবরাজকুমার, জ্যাকি শ্রফ ও বিজয় সেতুপতিসহ অনেকে। ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া 'জেলার'-এর সিক্যুয়েল হিসেবে নির্মিত এই সিনেমার প্রযোজনা করেছে সান পিকচার্স। বড় কাস্ট আর রজনীকান্তের স্টার-পাওয়ারের সমন্বয় প্রথম দিন থেকেই সিনেমাটিকে ট্রেড মহলের আলোচনার কেন্দ্রে রেখেছে।
ট্রেড বিশ্লেষকদের কাছে বড় ওপেনিংয়ের পর দ্বিতীয় দিনের ধরে-রাখা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি। প্রথম দিনের রেকর্ডের পর অনেক সিনেমার আয়েই দ্বিতীয় দিনে বড় পতন দেখা যায়; সেই তুলনায় 'জেলার ২'-এর সকালের প্রাথমিক হিসাব ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে। সন্ধ্যা ও রাতের শোতে দর্শক-সমাগম বাড়লে দিনের মোট অঙ্ক আরও উল্লেখযোগ্য হতে পারে।
২০২৩-এর 'জেলার'-এর সিক্যুয়েল হিসেবে এই সিনেমা নিয়ে প্রত্যাশা আগে থেকেই তুঙ্গে ছিল, আর প্রথম দিনের রেকর্ড-ওপেনিং সেই প্রত্যাশারই প্রতিফলন। সান পিকচার্সের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি এখন তাকিয়ে সপ্তাহান্তের দিকে; শনি-রবিবারের ট্রেন্ডই নির্ধারণ করবে প্রথম সপ্তাহান্তের চূড়ান্ত অঙ্ক।
এই সাফল্য আরও একবার প্রমাণ করছে রজনীকান্তের বক্স অফিস-টান। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়েও তাঁর নামে প্রথম দিনেই শতকোটির ঘরে আয়, আর তামিলের পাশাপাশি তেলুগু, হিন্দি ও কন্নড় ভার্সনের সম্মিলিত অবদান, দক্ষিণী সিনেমার প্যান-ইন্ডিয়া পৌঁছনোরই ইঙ্গিত দেয়।
এখন সবার নজর সপ্তাহান্তের দিকে। প্রথম দুই দিনের গতি ধরে রাখতে পারলে 'জেলার ২' প্রথম সপ্তাহান্তেই বড় অঙ্কের মাইলফলক ছুঁতে পারে। তবে দ্বিতীয় দিনের পূর্ণাঙ্গ হিসাব ও সপ্তাহান্তের ট্রেন্ড স্পষ্ট হলেই বোঝা যাবে সিনেমাটি শেষ পর্যন্ত কোন উচ্চতায় পৌঁছায়। উল্লেখ্য, এখানে উল্লেখিত সব সংখ্যাই বক্স অফিস ট্র্যাকার স্যাকনিল্কের ট্রেড-এস্টিমেট; এগুলো প্রযোজক বা পরিবেশকের ঘোষিত আনুষ্ঠানিক অঙ্ক নয়, চূড়ান্ত হিসাবে সংখ্যা কিছুটা বদলাতে পারে।
