বলিউডের প্রবীণ কৌতুকশিল্পী জনি লিভার মারা গেছেন, এমন দাবি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে একটি ফটো কার্ড। কার্ডটির মাঝখানে বড় করে রাখা জনি লিভারের ছবি, দুই পাশে তার দুটি সাদা কালো ছবি, তার সঙ্গে জ্বলন্ত মোমবাতি, ফুলের সাজসজ্জা আর শোকজ্ঞাপনের বার্তা। পোস্টারটিতে হিন্দি ভাষায় লেখা বক্তব্যের বাংলা অর্থ দাঁড়ায়, "জনি লিভারের প্রয়াণ, হৃদয় নিংড়ানো শ্রদ্ধাঞ্জলি"। প্রিয় তারকার এমন খবরে মুহূর্তের মধ্যেই হতবাক হয়ে পড়েন তার ভক্ত ও অনুরাগীরা। কিন্তু যাচাই শেষে দেখা গেল, এই খবরের কোনো ভিত্তি নেই, এটি নিছক একটি গুজব।
ফটো কার্ডটি নজরে আসার পর প্রথমে ভারতীয় মূল ধারার কোনো গণমাধ্যমে জনি লিভারের মৃত্যুসংক্রান্ত কোনো প্রতিবেদন আছে কিনা তা খোঁজে রাইজিংবিডির টিম। কোথাও এমন খবরের হদিস মেলেনি। এরপর যাচাই করা হয় অভিনেতার মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্স (টুইটার) ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট। সেখানেও তার অসুস্থতা বা মৃত্যু নিয়ে কোনো পোস্ট নেই। নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্র না থাকায় সোশ্যাল মিডিয়াতেই অনেক নেটিজেন এই দাবির পাল্টা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। বিষয়টি নিয়ে জোর চর্চা চলার একপর্যায়ে সত্যতা জানতে ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া সরাসরি যোগাযোগ করে কৌতুকশিল্পীর কন্যা জেমি লিভারের সঙ্গে। তিনি বলেন, "এটা বারবার ঘটে। আমি এসবকে গুরুত্ব দিতে চাই না।"
জনি লিভারের মৃত্যুর গুজব অবশ্য এবারই প্রথম ছড়ায়নি। ২০২২ সালেও একই ধরনের খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল। চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল তো জনি লিভারের পাশাপাশি নানা পাটেকরের মৃত্যুর গুজবও ছড়িয়ে পড়েছিল। সেবারও বিরক্তি প্রকাশ করেছিল অভিনেতার পরিবার। অর্থাৎ প্রায়ই এ ধরনের ভুয়া খবরের শিকার হচ্ছেন এই প্রবীণ তারকা।
হিন্দি সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় কমেডিয়ান জন প্রকাশ রাও জানুমালা, সিনেমাপ্রেমীরা যাকে জনি লিভার নামেই চেনেন। দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে অসংখ্য দর্শকপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি। ১৯৮০ সালে তার প্রথম কমেডি অ্যালবাম 'হাসি কে হাঙ্গামে' ভারতে বেশ জনপ্রিয়তা পায়। সুনীল দত্তের 'দর্দ কা রিস্তা' সিনেমা দিয়ে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। আর সাফল্য আসে শাহরুখ খান ও কাজল অভিনীত 'বাজিগর' দিয়ে। ১৯৯৩ সালের শেষ দিকে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমায় 'বাবুলাল' চরিত্রে অভিনয় করেন জনি লিভার, যাকে তার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট বলা হয়।
কখনো কখনো জনি লিভারের অভিনয়কে অনেকের কাছে ভাঁড়ামি মনে হতে পারে। কিন্তু এ কথা স্বীকার করতেই হবে যে নব্বইয়ের পর থেকে দীর্ঘ সময় বলিউডে কৌতুকের জায়গাটি একা হাতে ধরে রেখেছিলেন তিনিই। কমেডিয়ানদের ভিড়ে জনি বরাবরই ছিলেন একটু 'অন্য রকম'। তার পর্দার হাস্যরস কোটি কোটি ভক্তের হৃদয় জয় করেছে, আর সেই ভালোবাসাই ভুয়া খবরে এত তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।
উনসত্তর বছর বয়সে জনি লিভার এখনো অভিনয়ে বেশ সরব। তার অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা 'ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল', যা গত ২৬ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। মুক্তির অপেক্ষায় আছে তার অভিনীত 'গোলমাল ৫'। ফলে যিনি এখনো শুটিংয়ে ব্যস্ত, তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়া যে কতটা অবিবেচক, তা বলাই বাহুল্য।
মৃত্যুর ভুয়া খবর ছড়িয়ে দেওয়া সোশ্যাল মিডিয়ার পুরনো রোগ। এতে শুধু ভক্তদের আতঙ্কই তৈরি হয় না, তারকার পরিবারকেও পড়তে হয় চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে। কোনো ফটো কার্ড বা পোস্ট দেখেই শেয়ার করার আগে মূল ধারার সংবাদমাধ্যমে কিংবা তারকার নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে একবার যাচাই করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। একটি শেয়ার কখনো কারো পরিবারের কান্নার কারণ হতে পারে, এই সত্যটা ভুলে গেলেই চলে না।
