প্রায় তিন দশক আগের একটি চরিত্র, কিন্তু দর্শকের মনে আজও তরতাজা। ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ (১৯৯৮)-এর ২৮তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সেই অঞ্জলি শর্মার বিখ্যাত লুক আবার ফিরিয়ে আনলেন কাজল। লাল জ্যাকেট আর সিগনেচার ববকাট চুলে নতুন ছবি শেয়ার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি ক্যাপশনে লিখেছেন, “Can magic ever be recreated? Here's Anjali a couple of years later”। অর্থাৎ, জাদু কি আবার তৈরি করা যায়? এই যে অঞ্জলি, কয়েক বছর পর।
ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ২৮ বছর আগে মুক্তি পাওয়া ছবিটি আজও বলিউডের সবচেয়ে প্রিয় রোমান্টিক ড্রামাগুলোর একটি। করণ জোহরের পরিচালনায় শাহরুখ খান (রাহুল), কাজল (অঞ্জলি) আর রানি মুখার্জি (টিনা), এই তিনটি চরিত্রের ভালোবাসার ত্রিভুজ দর্শকের হৃদয় জয় করেছিল। কিন্তু সব চরিত্রের ভিড়ে টমবয় কিন্তু স্নেহশীল অঞ্জলির চরিত্রটি বিশেষভাবে মনে রয়ে গেছে। লাল জার্সি আর ছোট ববকাট চুল, সেই লুক আজও চোখে ভাসে।
অঞ্জলির আকর্ষণ ছিল তার সহজাত সত্যতায়। কলেজ ক্যাম্পাসের চঞ্চল মেয়ে, যার সবচেয়ে কাছের বন্ধু রাহুল। বন্ধুত্ব থেকে অপ্রকাশিত ভালোবাসা, তারপর হৃদয়ভাঙা আর মা হিসেবে পরিণত রূপ, এই যাত্রা প্রজন্মের পর প্রজন্মের দর্শককে ছুঁয়ে গেছে। ছবির স্মরণীয় সংলাপ, জনপ্রিয় গান আর আবেগঘন গল্প দর্শককে প্রেম ও বন্ধুত্বের জাদুতে টেনে নিয়েছিল, যা আজও বলিউড নস্টালজিয়ার অংশ।
১৯৯৮ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটি ছিল করণ জোহরের পরিচালক হিসেবে অভিষেক। সালমান খান এতে একটি বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। বাণিজ্যিকভাবে ছবিটি বড় সাফল্য পায়, আর এর সংলাপ, সাউন্ডট্র্যাক ও স্থায়ী প্রেমের গল্প দর্শকের মধ্যে কাল্ট মর্যাদা পায়। এমনকি কয়েক দশক পরও ছবিটি ভক্তদের মধ্যে সাড়া জাগায়, আর এর চরিত্র, ফ্যাশন ও সংগীত বলিউড নস্টালজিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে।
কাজলের এই পোস্ট ভক্তদের নস্টালজিয়ায় ভাসিয়ে দিয়েছে। অঞ্জলির মতো সহজ, সাহসী ও হৃদয়বান নারীচরিত্র আজকের বাণিজ্যিক সিনেমায় কমই দেখা যায় বলে মনে করেন অনেক দর্শক। এই ছবি শেয়ার করে কাজল যেন সেই সময়ের জাদুকে নতুন করে ছুঁয়ে দিলেন। আর এই প্রতিক্রিয়াই বলে দেয়, ২৮ বছর পরও ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’-এর জাদু এখনও শেষ হয়নি।
নস্টালজিয়া ফিরিয়ে আনা তারকাদের জন্য এখন এক ধরনের ধারাই হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু অঞ্জলির ক্ষেত্রে বিষয়টা একটু আলাদা। কারণ এই চরিত্র শুধু একটি লুক নয়, একটি প্রজন্মের ভালোবাসা আর বন্ধুত্বের স্মৃতি। বড় সিনেমা মানে শুধু বক্স অফিস নয়, মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া, অঞ্জলি ঠিক সেটাই পেরেছিল।
অঞ্জলি চরিত্রের আরেকটি দিক হলো তার ফ্যাশন। নব্বইয়ের দশকে বলিউড নায়িকাদের যেখানে প্রায় সবাই একই ধরনের ঝলমলে পোশাকে দেখা যেত, সেখানে অঞ্জলির জার্সি, হেডব্যান্ড আর ছোট চুলের লুক ছিল একেবারে আলাদা। এই টমবয় স্টাইল তখনকার তরুণীদের মধ্যে দারুণ জনপ্রিয় হয়েছিল, আর আজও ‘অঞ্জলি লুক’ বললেই সেই লাল জার্সির ছবিটাই চোখে ভাসে। কাজলের এই নতুন ছবিতে সেই জার্সির জায়গায় লাল জ্যাকেট, কিন্তু স্মৃতিটা একই।
ভক্তদের প্রতিক্রিয়া থেকেই বোঝা যায়, এই নস্টালজিয়া কতটা গভীর। ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’-এর সংলাপ আজও মুখে মুখে ফেরে, গানগুলো আজও অনুষ্ঠানে বাজে। তিন দশক ধরে একটি সিনেমা যখন প্রজন্মের পর প্রজন্মের মনে একইভাবে বেঁচে থাকে, তখন বোঝা যায় এর জাদু শুধু পর্দায় সীমাবদ্ধ ছিল না। কাজলের এই ছবি সেই জাদুকেই আবার ছুঁয়ে দিল, আর ভক্তরা যেন ফিরে গেলেন সেই কলেজ ক্যাম্পাসের দিনগুলোতে।
