বলিউড অভিনেত্রী রাখি সাওয়ান্তের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ভারতের উত্তর প্রদেশের ঝাঁসির একটি আদালত। ২০১০ সালের একটি মৃত্যুর মামলায় এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আত্মহত্যায় প্ররোচনা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালত এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১০ সালে। ঝাঁসির প্রেমনগর এলাকার বাসিন্দা লক্ষ্মণ নামের এক যুবক স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের জেরে রাখি সাওয়ান্তের সঞ্চালনায় একটি জনপ্রিয় টেলিভিশন রিয়েলিটি শোতে অংশ নেন। অভিযোগ, ওই অনুষ্ঠানের মঞ্চে রাখি তার বিরুদ্ধে অবমাননাকর ও আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারের পর লক্ষ্মণ মানসিক অবসাদ ও সামাজিক হেনস্তার শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই বছরই তাঁর মৃত্যু হয়। ছেলের মৃত্যুর পর লক্ষ্মণের মা রাখিসহ চারজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে মামলায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান করার অভিযোগও যুক্ত হয়।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও অভিযোগপত্র দাখিলের পর আদালত রাখি সাওয়ান্তের বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ঝাঁসির জেলা সরকারি আইনজীবী মৃদুলকান্ত শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রাখি সাওয়ান্তকে দ্রুত আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করতে হবে।
পটভূমি হিসেবে জানা দরকার, রাখি সাওয়ান্ত বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত টেলিভিশন ব্যক্তিত্বদের একজন। রিয়েলিটি শো সঞ্চালনা, আইটেম গান আর খোলামেলা মন্তব্যের জন্য তিনি বারবার সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে এসেছেন। কখনো বিয়ে, কখনো বিচ্ছেদ, আবার কখনো ক্যামেরার সামনে অদ্ভুত কাণ্ডকারখানা, বিতর্ক যেন তাঁর সঙ্গী। এবার ১৬ বছর পুরনো এই মামলার পরোয়ানা তাঁর সামনে নতুন আইনি জটিলতা তৈরি করেছে।
এরপর কী হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে রাখির পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর। জামিন অযোগ্য পরোয়ানা জারির অর্থ হলো, পুলিশ চাইলে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করতে পারবে। এখন তাঁর সামনে পথ একটাই: দ্রুত আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করা। আদালতের পরবর্তী শুনানিতেই এই পুরনো মামলার ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারিত হবে।
সময়ের হিসাবে মামলাটি এখন ১৬ বছরের পুরনো। ২০১০ সালের ঘটনার পর মামলা, তদন্ত, অভিযোগপত্র দাখিল পেরিয়ে আদালত এখন পরোয়ানার পর্যায়ে পৌঁছেছে। মামলায় রাখিসহ মোট চারজন আসামি। ঝাঁসির জেলা সরকারি আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, রাখিকে এখন সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করতে হবে, এটাই পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ।
কেন এই খবর গুরুত্বপূর্ণ, তার একটি কারণ টেলিভিশন রিয়েলিটি শোর দায়বদ্ধতার প্রশ্ন। একটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠানের মঞ্চে করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মতো গুরুতর অভিযোগে মামলা, দীর্ঘ তদন্ত এবং শেষে জামিন অযোগ্য পরোয়ানা, এই পুরো প্রক্রিয়া বিনোদন জগতের জন্য একটি সতর্কবার্তা। রাখি সাওয়ান্ত বিতর্কের সঙ্গে যাঁর নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে, তাঁর ক্যারিয়ারে এই আইনি মোড় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
