বিনোদন ঝলক
তারকা

গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী খালেদা আক্তার কল্পনা, অবস্থার উন্নতি

বিনোদন ঝলক ডেস্ক১৫ অক্টোবর ২০২৬3 মিনিটে পড়ুন
গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী খালেদা আক্তার কল্পনা, অবস্থার উন্নতি

ভাইরাসজনিত গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে রাজধানীর মগবাজারের একটি হাসপাতালে গত দুই সপ্তাহ ধরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন দেশের প্রখ্যাত বর্ষীয়ান অভিনেত্রী খালেদা আক্তার কল্পনা। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যার কারণে এমনিতেই তিনি প্রায়ই অসুস্থ থাকেন। চোখে কম দেখেন, কানেও কম শোনেন। সর্বশেষ চার থেকে পাঁচ দিন ধরে তিনি কথা বলতেই পারছিলেন না, ফলে জরুরিভাবে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, অভিনেত্রী ভাইরাসজনিত সমস্যায় ভুগছেন, সঙ্গে রয়েছে নিউরোর সমস্যাও। তবে স্বস্তির খবর হলো, বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে অনেকটাই উন্নতির পথে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি বাসায় ফিরতে পারবেন। তবে বাসায় গেলেও তাঁকে বেশ কিছুদিন সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে।

খালেদা আক্তার কল্পনার অসুস্থতার খবর জানাজানি হতেই শোবিজ অঙ্গনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিনয় শিল্পী সংঘের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যে হাসপাতালে গিয়ে তাঁকে দেখে এসেছে। সংগঠনের আইন ও কল্যাণ সম্পাদক সূচনা সিকদার জানিয়েছেন, “সবার প্রিয় কিংবদন্তি অভিনেত্রী খালেদা আক্তার কল্পনা আন্টি গুরুতর অসুস্থ। গত ১৩ দিন ধরে ইনসাফ বারাকা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে বর্তমানে আগের চেয়ে অনেকটা ভালো আছেন তিনি।”

সংগঠনের কার্যনির্বাহী সদস্য ইমরান হাসোও তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন। তিনি বলেন, “ভাইরাসজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন কল্পনা আপা। এখন অনেকটাই সুস্থ তিনি। ডাক্তার জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের মধ্যে বাসায় ফিরতে পারবেন তিনি।” পাশাপাশি দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন খালেদা আক্তার কল্পনা নিজে।

কয়েক মাস আগেই শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য সনি রহমান তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর ভাষায়, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দেওয়াই স্বাভাবিক, আর কল্পনা আপুও সেই বাস্তবতার মধ্য দিয়েই যাচ্ছেন। বার্ধক্যজনিত কারণে অভিনয়েও এখন আর আগের মতো নিয়মিত নন এই অভিনেত্রী, তবে মাঝেমধ্যে নাটকে তাঁকে দেখা যায়। সর্বশেষ তাঁকে ‘তছনছ’ নামের একটি সিনেমায় অভিনয় করতে দেখা গেছে।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে খালেদা আক্তার কল্পনা এক অনন্য নাম। সাদাকালো সিনেমার যুগে নায়িকা হিসেবে অভিনয়জীবন শুরু করেছিলেন তিনি। তাঁর অভিনয়ে আসার গল্পটা প্রায় সিনেমার মতোই: পেশায় ছিলেন শিক্ষক, একদিন লন্ড্রি থেকে আনা কাপড়ের ভাঁজে হঠাৎ চোখে পড়ে ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ বিজ্ঞাপনটি। কৌতূহল থেকে আবেদন করেছিলেন, তারপর ভুলেও গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ছোট্ট কাগজটিই বদলে দেয় তাঁর পুরো জীবন। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ কার্যক্রমের মাধ্যমে ১৯৮৪ সালে চলচ্চিত্রে পথচলা শুরু করেন তিনি।

মিজানুর রহমানের ‘হনুমানের পাতাল বিজয়’ দিয়ে অভিনয়ে অভিষেক হলেও তাঁর প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ছিল মতিন রহমান পরিচালিত ‘রাধাকৃষ্ণ’। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি: দীর্ঘ ৩৭ বছরের ক্যারিয়ারে পাঁচ শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। বিশেষ করে বড় বোন, ভাবি ও মায়ের চরিত্রে এমনভাবে প্রাণ ফুটিয়ে তুলেছেন যে, দর্শকের মনে তিনি আজও জীবন্ত। নায়করাজ রাজ্জাকের পরিচালনায় নির্মিত ‘জিনের বাদশা’ সিনেমায় দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন।

দেশের এই কিংবদন্তি অভিনেত্রীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন সহশিল্পী, ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা। চিকিৎসকদের আশ্বাস আর শরীরের উন্নতির ধারা বজায় থাকলে চলতি সপ্তাহেই তিনি বাসায় ফিরবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন অভিনয় শিল্পী সংঘের নেতারা। এদিকে শোবিজের অনেকেই মনে করছেন, সোনালি যুগের এই শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানোই এখন সবার দায়িত্ব।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার