স্ত্রী মৌসুমী ও ছেলে ফারদিনকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর প্রতিবাদে অবশেষে সরব হলেন চিত্রনায়ক ওমর সানী। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৪ অক্টোবর বুধবার বিকেল সাড়ে চারটায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) মাঠে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নব্বই দশকের জনপ্রিয় এই নায়ক। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, এসব পোস্টের মাধ্যমে তাঁর পরিবারকে নিয়ে ব্যবসা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চলচ্চিত্রের শিল্পীদের নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা, নারী শিল্পীদের অসম্মান এবং তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অযাচিত চর্চার সমালোচনা করেন তিনি। পরিবারকে নিয়ে ছড়ানো মিথ্যা তথ্যের পোস্ট ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে না নিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ওমর সানী।
সংবাদ সম্মেলনে ওমর সানী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাঁদের ‘ক্যাশ করে’ কত টাকা কামানো হবে, সেই টাকা কে খাবে। তাঁর অভিযোগ, পরিবারকে একটা ব্যবসার জিনিস বানিয়ে ফেলা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মনগড়া তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ করে তিনি জানান, মিথ্যা তথ্য ছড়ানো পোস্টগুলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে না নিলে মামলা করবেন। তাঁর অভিযোগ, কিছু পেজ ও ব্যক্তি তাঁকে, মৌসুমী, তাঁদের ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে ভিত্তিহীন কথা প্রচার করছেন।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে যে গুঞ্জন ছড়ায়, তাতে দাবি করা হয়, ওমর সানী ও মৌসুমীর একমাত্র ছেলে ফারদিন পরিবারের সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাসা থেকে মাকে বের করে দিয়েছেন। তবে এই খবরকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলেছেন ওমর সানী। তাঁর ভাষায়, ফারদিন বর্তমানে দুবাইয়ে এবং মৌসুমী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। যুক্তরাষ্ট্রে তাঁদের কোনো সম্পত্তি নেই বলেও দাবি করেন তিনি। পরিবারকে নিয়ে এসব প্রচারণার কারণে সামাজিকভাবে বিব্রত হতে হচ্ছে বলে জানান ওমর সানী। তাঁর ছেলে ফারদিনও বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। ওমর সানী জানান, কিছুক্ষণ আগেও ফোনে ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছে তাঁর, ছেলে তাঁকে বলেছেন অ্যাকশনে যেতে, কারণ এগুলো আর পারছেন না তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর ছেলেমেয়েকে কথা বলতে হয়, সমাজে তাঁদের বসবাস করতে হয়।
চিত্রনায়িকা স্ত্রী মৌসুমীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অযাচিত আলোচনারও প্রতিবাদ জানান ওমর সানী। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমার বউ আমার টেনশন না, আপনাদের টেনশন।’ তাঁর যুক্তি, স্বামী, স্ত্রী আলাদা দেশে থাকতেই পারেন, কিন্তু তা নিয়ে ভিত্তিহীন গল্প তৈরি করে প্রচার চালানোর কোনো অর্থ নেই। নিজের ও মৌসুমীর বয়স এবং শারীরিক গঠন নিয়ে অযাচিত আলোচনার প্রসঙ্গেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। দীর্ঘদিনের কাজের মধ্য দিয়ে তাঁরা দর্শকের ভালোবাসা অর্জন করেছেন উল্লেখ করে ওমর সানী বলেন, শিল্পীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মনগড়া তথ্য ছড়িয়ে তাঁদের হেয় করা উচিত নয়।
পরিবারের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের শিল্পীদের নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণারও সমালোচনা করেন ওমর সানী। তাঁর অভিযোগ, সামাজিক মাধ্যমে শিল্পীদের এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যাতে পুরো চলচ্চিত্র অঙ্গন সম্পর্কে মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। নারী শিল্পীদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত বা শারীরিক গঠন নিয়ে অশালীন কনটেন্ট তৈরিরও সমালোচনা করেন তিনি। ওমর সানীর প্রশ্ন ছিল, মিডিয়ার সব শিল্পীকে পচা হিসেবে দেখানো হয় কেন, অথচ অন্য জগতের মানুষের আরও খারাপ দিকগুলো কেউ তুলে ধরে না। চলচ্চিত্রে নিজের দীর্ঘ অভিনয়জীবনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, চলচ্চিত্রে এসে কি তাঁরা পাপ করেছেন? তাঁর দাবি, তিনি তাঁর পরিবার ও নিজের কাজ নিয়ে ভালো আছেন, তিনি চুরি করেন না, আর তাঁরা এখনো চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে চান।
এফডিসিতে শিল্পীদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওমর সানী। তাঁর প্রশ্ন ছিল, কেন এমন করা হয়, তাঁরা কি মানুষ নন? নারী শিল্পীদের অসম্মান করা বন্ধেরও আহ্বান জানান এই অভিনেতা। চলচ্চিত্রের শিল্পীদের সুরক্ষা ও সম্মান নিশ্চিত করতে তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থের প্রতি আহ্বান জানান ওমর সানী। তাঁর ভাষায়, শুধু চলচ্চিত্রকে বাঁচালেই হবে না, চলচ্চিত্রের শিল্পীদেরও বাঁচাতে হবে। তাঁর মতে, শিল্পীদের নিয়ে মিথ্যা তথ্য ও নেতিবাচক প্রচারণা চলতে থাকলে নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা এই অঙ্গনে আসতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে এমন প্রচারণা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে ওমর সানী বলেন, কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা চাইতে তাঁর আপত্তি নেই। তবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে কাউকে হেয় করার কোনো যুক্তি নেই। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমাজের পরিবেশও নষ্ট করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, এর আগের দিন ওমর সানীর সংবাদ সম্মেলন ডাকার খবরই বিনোদন অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল, আর সেই সম্মেলনে তিনি যা যা বললেন, তা এখন নতুন করে আলোচনায়। ওমর সানী ও মৌসুমী ঢালিউডের সবচেয়ে পরিচিত তারকা দম্পতিদের একজন: ১৯৯৬ সালে বিয়ে করেন তাঁরা, তাঁদের ছেলে ফারদিন ও মেয়ে ফাইজা। এখন সবাই দেখছে, ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটামের পর পোস্টগুলো সরে কি না, আর সত্যিই কোনো আইনি পদক্ষেপ আসে কি না।
