বিনোদন ঝলক
ভাইরাল

'পেজ হ্যাক হয়েছে বললেই হলো': ফেক ভিডিও নিয়ে ফেসবুক লাইভে ক্ষোভ ঝাড়লেন পরীমনি

বিনোদন ঝলক ডেস্ক১৭ অক্টোবর ২০২৬4 মিনিটে পড়ুন
'পেজ হ্যাক হয়েছে বললেই হলো': ফেক ভিডিও নিয়ে ফেসবুক লাইভে ক্ষোভ ঝাড়লেন পরীমনি

এআই দিয়ে তৈরি আপত্তিকর বিকৃত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় এবার সরাসরি ক্ষোভ ঝাড়লেন অভিনেত্রী পরীমনি। গতকাল শুক্রবার রাতে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি ওই টেলিভিশন চ্যানেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে কঠোর প্রশ্ন তোলেন। পরে শনিবার দুপুরে চ্যানেলটিকে উদ্দেশ করে একটি খোলা পোস্টও দেন এই অভিনেত্রী।

মাছরাঙা টেলিভিশন চ্যানেলের ইনস্টাগ্রাম পেজ থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করলেও তাতে সন্তুষ্ট নন পরীমনি। তাঁর অভিযোগ, শুধু ক্ষমা চেয়ে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। এই ঘটনায় তাঁর স্বাভাবিক জীবন, কাজ ও মানসিক শান্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ফেসবুক লাইভে পরীমনি বলেন, 'ওরা এতবড় পাওয়ারফুল একটা মিডিয়া, ১১ ঘণ্টা তো ঝুলেই ছিল। তো প্রমাণ করতে পারল না? নিজেদের কন্ট্রোলে নিতে পারল না? আইন, এত প্রশাসন এগুলো দিয়ে কি সম্ভব ছিল না? এর বিপরীতে আপনি মোটেও বলতে পারেন না, পেজ হ্যাক হয়েছে। তাহলে আমিও বলি, আমার পেজ হ্যাক হয়েছে!'

ভিডিওটি নিয়ে যারা নেতিবাচক আলোচনা করেছেন, তাদেরও কটাক্ষ করেন পরীমনি। ক্ষোভের সুরে তিনি বলেন, ভিডিও নিয়ে এত মাতামাতি দেখে তাঁর ইচ্ছে হচ্ছিল একটি খোলামেলা ফটোশুট করে ফেলতে।

অভিনেত্রীর মতে, যাদের মধ্যে বোধবুদ্ধি রয়েছে, তারা ভিডিওটি দেখেও এড়িয়ে গেছেন। অন্যদিকে, যারা বিষয়টি নিয়ে নেতিবাচক চর্চা করেছেন, তারাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা নিয়ে বেশি আলোচনা করেছেন। তিনি জানান, দিনশেষে ভিডিওটা সবাই দেখেছে; যাদের এড়ানোর দরকার ছিল, তারা স্কিপ করেছে। আর যারা এই ভিডিওকে নিজেদের জীবন বানিয়ে ফেলেছে, তারাই অনলাইনে এসে এটা নিয়ে কথা বলছে। এমনকি কারও হজের পোস্টের কমেন্ট বক্সেও গিয়ে লেখা হয়েছে, পরীমনির ভিডিওর লিংক আছে বলে।

ফেসবুক লাইভে আরও নানা বিষয়ে কথা বলেন পরীমনি। পরে অবশ্য নিজের পেজ থেকে লাইভটি সরিয়ে নেন তিনি। এরপর শনিবার দুপুরে ওই টেলিভিশন চ্যানেলকে উদ্দেশ করে একটি পোস্ট দেন অভিনেত্রী। সেখানে নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও কাজের ওপর এ ঘটনার প্রভাব তুলে ধরেন তিনি।

পোস্টে পরীমনি লেখেন, চ্যানেলের ফটো কার্ডের দুঃখ প্রকাশ কোনো কাজে দিচ্ছে না। তাঁর ভাষায়, তাঁর স্বাভাবিক জীবন এভাবে দুর্বিষহ করে দেওয়ার সম্পূর্ণ দায়ভার চ্যানেলের। তিনি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো পোস্ট করতে পারছেন না, এমনকি তাঁর বাচ্চাদের ছবিও হাজার হাজার হেটিং কমেন্ট থেকে বাদ যাচ্ছে না। তাঁর মানসিক শান্তি ও কাজ নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, অপরাধী এখন চ্যানেল কর্তৃপক্ষই।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) চ্যানেলটির ইনস্টাগ্রাম পেজে দুই তারকা অভিনেত্রীর আপত্তিকর বিকৃত ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি বলে ধারণা করা হয়। পরে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের ইনস্টাগ্রাম পেজটি হ্যাক হয়েছিল এবং হ্যাকাররাই ভিডিওগুলো প্রকাশ করেছে। পরীমনির দাবি, ভিডিওটি অনেক আগে তৈরি হলেও ওই চ্যানেলের পেজের মাধ্যমে তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মেহজাবীন চৌধুরীও ফেসবুক পোস্টে এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তারকাদের নামে এআই-ভুয়া কনটেন্ট ছড়ানোর ঘটনায় এতদিন মূলত ভুক্তভোগীর নীরবতা বা সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়াই দেখা গেছে। পরীমনির এই সরাসরি অভিযোগ সেই ধারায় ব্যতিক্রম। চ্যানেলের মতো শক্তিশালী মাধ্যমের জবাবদিহির প্রশ্ন তুলে তিনি পুরো ঘটনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছেন।

পোস্টে চ্যানেল কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহি দাবি করেছেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্য, অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন। চ্যানেল কর্তৃপক্ষ সেই আশ্বাস কবে পূরণ করে, আর এই ঘটনার আইনি পরিণতি কী হয়, সেদিকেই এখন সবার নজর।

'স্বপ্নজাল' সিনেমার এই অভিনেত্রীর এবারের প্রতিক্রিয়ার ভাষা ছিল ব্যতিক্রমী রকমের সরাসরি। নাম ধরে চ্যানেল কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি দাবি করে তিনি পুরো ঘটনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছেন। ভুয়া ভিডিওর শিকার হওয়া তারকাদের এতদিন মূলত নীরব থাকতে বা সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া জানাতেই দেখা গেছে, সেই ধারায় পরীমনির এই অবস্থান আলাদা।

কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয় শনিবার দুপুর ২টা ৫৯ মিনিটে। এর আগের রাতের ফেসবুক লাইভ ও দুপুরের খোলা পোস্ট মিলিয়ে একদিনের মধ্যে পরীমনির দুই দফা প্রতিক্রিয়া পুরো ঘটনাকে আবার আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, চ্যানেল কর্তৃপক্ষ এই খোলা অভিযোগের জবাবে কী বলে।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার