বিনোদন ঝলক
তারকা

লাইভ ডিলিট করে পরীমনির স্ট্যাটাস: ‘ওপস সরি, ডিলেট করে দিয়েছি। শুভ সকাল।’

বিনোদন ঝলক ডেস্ক১৮ অক্টোবর ২০২৬3 মিনিটে পড়ুন
লাইভ ডিলিট করে পরীমনির স্ট্যাটাস: ‘ওপস সরি, ডিলেট করে দিয়েছি। শুভ সকাল।’

এআই-নির্মিত বিকৃত ভিডিও নিয়ে শুক্রবার রাতে ফেসবুক লাইভে ক্ষোভ প্রকাশের পর নিজের পেজ থেকে লাইভটি মুছে দিয়েছেন ঢাকাই সিনেমার নায়িকা পরীমনি। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত স্ট্যাটাস দেন তিনি। সেখানে লেখেন, ‘ওপস সরি, ডিলেট করে দিয়েছি। শুভ সকাল।’ লাইভ মুছে ফেলার পেছনে তার নির্দিষ্ট কারণ কী, তা স্ট্যাটাসে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেননি তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত একটি টেলিভিশন চ্যানেলের ইনস্টাগ্রাম পেজ হ্যাকের ঘটনায়। হ্যাকড হওয়া পেজ থেকে এআই দিয়ে তৈরি দুই জনপ্রিয় অভিনেত্রীর বিকৃত ও আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরীমনি। চ্যানেল কর্তৃপক্ষের দুঃখপ্রকাশ ও ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেননি তিনি। লাইভে তিনি বলেন, ‘এর বিপরীতে আপনি মোটেও বলতে পারেন না, পেজ হ্যাক হয়েছে। তাহলে আমিও বলি, আমার পেজ হ্যাক হয়েছে!’

চ্যানেলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন পরীমনি। তার ভাষ্য, এত বড় পাওয়ারফুল একটি মিডিয়ার পেজ প্রায় ১১ ঘণ্টা হ্যাকড হয়ে ঝুলে ছিল, অথচ তারা সেটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। তার বক্তব্য, শুধু পেজ হ্যাক হয়েছে বলে দায় এড়ানো যায় না। ভিডিওটি অনেক পুরোনো হলেও এবার একটি মূলধারার গণমাধ্যমের ভেরিফায়েড পেজের মাধ্যমে তা মুহূর্তের মধ্যে দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা তিনি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অপরাধমূলক বলে মনে করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি নিয়ে মাতামাতি করা নেটিজেনদেরও একহাত নেন এই নায়িকা। তিনি বলেন, ‘তোমরা যখন এই ভুয়া ভিডিও নিয়ে এতটা উন্মাদনায় মেতেছিলে, তখন আমার ইচ্ছা হচ্ছিল নিজেই একটা খোলামেলা ফটোশুট করে ফেলি।’ তার মতে, বিবেকবোধসম্পন্ন মানুষ ভিডিওটি দেখার পর এড়িয়ে গেছেন, কিন্তু যারা এটি নিয়ে নেতিবাচক চর্চা করেছেন, তারাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে বেশি আলোচনা করেছেন।

লাইভে আরও একটি ক্ষোভের জায়গা ছিল অপ্রাসঙ্গিক পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ভুয়া ভিডিওর লিংক খোঁজার প্রবণতা। পরীমনি বলেন, ‘দিনশেষে ভিডিওটা আমিও দেখলাম, সকলেই দেখল। দেখার পর যারা এভয়েড করার দরকার, তারা স্কিপ করেছে। আর যারা এই ভিডিওকে নিজেদের জীবন, যৌবন, নিঃশ্বাস বানিয়ে ফেলেছে, তারা অনলাইনে এসেই এটা নিয়ে কথা বলছে।’ তার ভাষ্য, কেউ হজের পোস্ট করলে তার কমেন্টেও গিয়ে লেখা হচ্ছে, ‘পরীমনির লিংক আছে আমার কাছে’; ভুয়া একটি জিনিস নিয়ে মানুষের এমন উন্মাদনা দেখে তিনি হতাশ।

এই ঘটনার পেছনের গল্পটাও পুরনো। ভিডিওটি অনেক আগে থেকেই ইন্টারনেটে ছিল; এবার একটি মূলধারার গণমাধ্যমের ভেরিফায়েড পেজের মাধ্যমে তা নতুন করে আলোড়ন তোলে। এ নিয়ে আগেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন আরেক অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। তবে পরীমনির এই লাইভ এবং তারপর লাইভ মুছে দিয়ে স্ট্যাটাস দেওয়ার ঘটনা পুরো বিতর্ককে নতুন মোড় দিয়েছে।

কেন এই খবর গুরুত্বপূর্ণ, তা শুধু এক তারকার ক্ষোভের গল্পে সীমাবদ্ধ নয়। এআই প্রযুক্তি সহজলভ্য হওয়ায় কারও মুখাবয়ব ব্যবহার করে ভুয়া ও আপত্তিকর কনটেন্ট বানানো এখন অনেক সহজ; এ ধরনের কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়লে ভুক্তভোগীর সম্মতি, ব্যক্তিগত মর্যাদা ও সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তথ্য যাচাই না করে শেয়ার করার প্রবণতা এবং প্ল্যাটফর্মগুলোর দ্রুত পদক্ষেপের অভাব, এই দুটোই এ ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে।

এরপর কী হবে, সেদিকে নজর থাকছে। কাজের ফ্রন্টে পরীমনি সম্প্রতি নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিমের নতুন ওয়েব চলচ্চিত্র ‘সেপারেশন’-এর কাজ শেষ করেছেন; এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন অভিনেতা ইমতিয়াজ বর্ষণ। আর এই ভিডিও-বিতর্কের জেরে তিনি কোনো আইনি পদক্ষেপ নেন কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার