বলিউডের প্রয়াত শক্তিমান অভিনেতা নানা পাটেকরকে ঘিরে বিতর্ক থামছেই না। তার মৃত্যুর পরও পুরোনো যৌন হেনস্থার অভিযোগ নিয়ে সরব হয়েছেন অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত। এবার তিনি অভিনেতার মৃত্যু নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন, এমনকি মৃত্যুকে ‘নাটক’ বলে দাবি করেছেন। পাল্টা জবাব দিয়েছেন নানার ছেলে মলহার পটেকর।
এক সাক্ষাৎকারে মলহার বলেন, যে মামলা নিয়ে এত আলোচনা হচ্ছে, সেটি ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে। আদালত থেকেও মামলার সমাপ্তির কথা স্পষ্ট করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। কারও নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও তার বক্তব্যে উঠে এসেছে পুরোনো মামলার প্রসঙ্গ।
এরপরও যারা এ নিয়ে কথা বলে যাচ্ছেন, তাদের উদ্দেশে বিশেষ কিছু বলতে চান না মলহার। তার কথায়, “সত্যিটা যা, তা-ই থাকবে। ঈশ্বর তাদের মঙ্গল করুন। এটাই আমার বলার আছে।” সংক্ষিপ্ত এই বক্তব্যেই পরিবারের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন তিনি।
পটভূমিটা পুরোনো। ‘হর্ন ওকে প্লিজ়’ ছবির শুটিংয়ের সময় নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনেছিলেন তনুশ্রী। ২০১৮ সালে তার এই অভিযোগ ভারতের মি-টু আন্দোলনের অন্যতম বড় অধ্যায় হয়ে ওঠে, বলিউডে নারী নির্যাতন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
কিন্তু আইনি পথে অভিযোগ টেকেনি। ২০১৯ সালের জুনে মুম্বাই পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে জানায়, নানার বিরুদ্ধে মামলা চালানোর মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ মেলেনি। আর ২০২৫ সালে এই আইনি বিবাদেরও কার্যত অবসান ঘটে।
সেই আইনি লড়াইয়ের অবসানের পর সম্প্রতি ৭৫ বছর বয়সে মারা যান নানা পাটেকর। কিন্তু মৃত্যুর পরও থামেননি তনুশ্রী। বরং এবার তিনি অভিনেতার মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়েই প্রশ্ন তুললেন।
তনুশ্রীর দাবি, মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন আছে। শেষকৃত্য ও প্রার্থনাসভার আয়োজন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তনুশ্রীর অভিযোগ, চলচ্চিত্রজগতের সদস্য ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের নানাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়নি।
এমনকি তনুশ্রী দাবি করেন, আইনি প্রক্রিয়া এড়াতেই নানা নিজের মৃত্যুর ‘নাটক’ করেছেন। এটি তার একান্ত দাবি, এর পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো স্বতন্ত্র যাচাইকৃত প্রমাণ সামনে আসেনি।
নিজের মন্তব্যের পক্ষে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন তনুশ্রী। সেখানে তিনি বলেন, কারও মৃত্যু হলেই অতীতে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মুছে যায় না। নানা সম্পর্কে কঠোর মন্তব্য করে অভিনেত্রী দাবি করেন, দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা থেকে যেন অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন তিনি।
কেন এই বিতর্ক গুরুত্বপূর্ণ, তার উত্তর লুকিয়ে আছে মি-টু আন্দোলনের ইতিহাসে। তনুশ্রীর অভিযোগ ছিল ভারতে এই আন্দোলনের সূচনালগ্নের অন্যতম প্রধান ঘটনা। অভিযুক্তের মৃত্যুর পরও অভিযোগকারীর সরব থাকা, আর পরিবারের পাল্টা জবাব, দুটোই সেই পুরোনো ক্ষতকে নতুন করে উসকে দিয়েছে।
তবে ভারসাম্যের খাতিরে দুটো দিকই দেখা জরুরি। একদিকে তনুশ্রীর ‘নাটক’ দাবি, যার পক্ষে যাচাইকৃত প্রমাণ নেই; অন্যদিকে মলহারের বক্তব্য, যা আইনি সমাপ্তির দিকেই ইঙ্গিত করে। অর্থাৎ, একপক্ষের দাবি আর অন্যপক্ষের নাকচ, এই জায়গাতেই এখন দাঁড়িয়ে বিতর্কটি।
এরপর কী হবে, তা সময়ই বলবে। এই বিতর্ক আদালতের দরজায় ফিরবে কি না, নাকি বক্তব্য আর পাল্টা বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, সেটা এখনো অনিশ্চিত। তবে নানার পরিবারের অবস্থান স্পষ্ট: মামলা শেষ, আর এ নিয়ে নতুন করে কথা বলার কিছু নেই বলে মনে করেন তারা।
২০১৮ সালে তনুশ্রীর অভিযোগের পর বলিউডে একের পর এক তারকার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠে। ভারতীয় মি-টু আন্দোলনের সূচনালগ্নের অন্যতম প্রধান ঘটনা হিসেবে ধরা হয় তনুশ্রীর এই পদক্ষেপকে। সেই আন্দোলন বলিউডের ক্ষমতার কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল, যার রেশ আজও রয়ে গেছে।
নানার মৃত্যুতে বলিউডে শোকের ছায়া নেমেছিল, ৭৫ বছরের জীবনে তিনি রেখে গেছেন অসংখ্য স্মরণীয় চরিত্র। কিন্তু তার প্রয়াণের পরও এই পুরোনো বিতর্ক যেভাবে ফিরে এলো, তা দেখিয়ে দিল, মি-টু যুগের ক্ষত এত সহজে শুকায় না। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ আর আইনি লড়াইয়ের এই অধ্যায় এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
