দক্ষিণী সিনেমার তারকা দম্পতি বিজয় দেবরকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানার নতুন সিনেমা ‘রণবলী’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর। তেলুগু, তামিল, হিন্দি, মালয়ালম ও কন্নড়, পাঁচ ভাষায় একযোগে মুক্তি পাওয়া এই ছবি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। কারণ এটি শুধু একটি নতুন সিনেমার মুক্তি নয়; ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে উদয়পুরে বিয়ের পর এই প্রথম বড়পর্দায় একসঙ্গে হাজির হলেন এই তারকা দম্পতি। বাস্তব জীবনের স্বামী-স্ত্রীর পর্দার রসায়ন দেখতেই প্রেক্ষাগৃহে ভিড় করছেন দর্শকরা।
বিয়ের আগে ‘গীত গোবিন্দম’ ও ‘ডিয়ার কমরেড’ সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করেছিলেন বিজয় ও রাশমিকা। দর্শকদের কাছে তাদের জুটি তখন থেকেই প্রিয়। ‘রণবলী’ তাদের ক্যারিয়ারে তৃতীয় জুটির কাজ। পর্দার বাইরে বাস্তব জীবনেও তারা এখন দম্পতি, আর সেই বাস্তব-সম্পর্ক পর্দায় কেমন রসায়ন তৈরি করে, তা নিয়ে মুক্তির আগেই চলছিল জোর আলোচনা। দুটি আগের ছবিতেই তাদের জুটি দর্শকদের মন জয় করেছিল, এবার বিবাহিত দম্পতি হিসেবে তাদের প্রথম ছবি ঘিরে প্রত্যাশা আরও বেশি।
মুক্তির আগে মঙ্গলবার এক প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানে স্ত্রীকে নিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন বিজয়। রাশমিকাকে নিজের সবচেয়ে প্রিয় সহ-অভিনেত্রী বলে উল্লেখ করেন এই দক্ষিণী তারকা। ছবিতে রাশমিকার ‘জয়াম্মা’ চরিত্র প্রসঙ্গে বিজয় বলেন, এই চরিত্রের জন্য রাশমিকাই ছিলেন একমাত্র ও নিশ্চিত পছন্দ। তার ভাষায়, এই চরিত্রে রাশমিকার মতো আর কেউ প্রাণ ঢালতে পারত না। চরিত্র নির্বাচনে কোনো সংশয় ছিল না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
বিজয় আরও বলেন, ‘এটা আমাদের একসঙ্গে করা তৃতীয় সিনেমা। এই তিন নম্বর সিনেমায় এসে অভিনেত্রী এবং মানুষ হিসেবে তুমি অনেকটা এগিয়ে গেছ। তোমার মধ্যে বরাবরই অদ্ভুত জেদ আর কাজ করার ক্ষমতা রয়েছে। মনে হয়, কোনো মানুষ যেন রোবটের মতো কাজ করে চলেছে। তোমার এই উন্নতি দেখে আমার সত্যিই খুব গর্ব হয়।’ স্ত্রীর কাজের প্রতি একাগ্রতা ও অদম্য জেদকে তিনি এভাবেই প্রশংসায় ভরিয়ে দেন।
বিজয় আরও জানান, রাশমিকার সঙ্গে কাজ করা তার কাছে নিজের ঘরে থাকার মতো স্বাচ্ছন্দ্যের। স্বামী হিসেবে স্ত্রীর এই পেশাদারিত্ব ও সাফল্য দেখে তিনি অত্যন্ত গর্বিত। প্রচারণা অনুষ্ঠানে বিজয়ের এই আবেগঘন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা তৈরি করেছে। ভক্তরা এই দম্পতির পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রশংসা করছেন।
‘রণবলী’র মুক্তি দক্ষিণী সিনেমার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত। পর্দার জনপ্রিয় জুটির বাস্তব জীবনের দম্পতি হিসেবে প্রথম ছবি, পাঁচ ভাষায় একযোগে মুক্তি, আর দুর্গাপূজা-দশেরার উৎসব মৌসুম, সব মিলিয়ে ছবিটির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। বিজয়-রাশমিকার ভক্তরা ছবিটিকে তাদের সম্পর্কের উদ্যাপন হিসেবেও দেখছেন। উৎসবের মৌসুমে বড় তারকাদের ছবি মুক্তির এই ধারা দক্ষিণী বক্স অফিসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
পাঁচ ভাষায় একযোগে মুক্তির সিদ্ধান্তও ‘রণবলী’কে আলাদা করেছে। তেলুগু মূল ভাষা হলেও তামিল, হিন্দি, মালয়ালম ও কন্নড় সংস্করণ একসঙ্গে আসায় ছবিটি প্যান-ইন্ডিয়া দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পাচ্ছে। দক্ষিণী তারকাদের হিন্দি-ভাষী দর্শকের মধ্যে জনপ্রিয়তা বাড়ার এই সময়ে এমন বহুভাষিক মুক্তি বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কৌশল।
বিজয় ও রাশমিকার সম্পর্ক পর্দার বাইরেও ভক্তদের কাছে আদর্শ জুটি হিসেবে পরিচিত। বাস্তব জীবনের দম্পতির পর্দার রসায়ন কেমন হয়, তা নিয়ে দর্শকদের কৌতূহল ছিল আগে থেকেই। ‘গীত গোবিন্দম’ ও ‘ডিয়ার কমরেড’-এ তাদের জুটি যে রসায়ন তৈরি করেছিল, বিবাহিত জীবনের পর সেই রসায়ন আরও গভীর হয়েছে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
মুক্তির আগের প্রচারণা অনুষ্ঠানে বিজয়ের আবেগঘন মুহূর্তটি গণমাধ্যমেও জায়গা করে নিয়েছে। স্ত্রীর প্রশংসায় ভাসিয়ে দেওয়া এই বক্তব্যে তিনি শুধু সহ-অভিনেত্রী হিসেবেই নয়, মানুষ হিসেবেও রাশমিকার প্রশংসা করেন। এমন প্রকাশ্য ভালোবাসার প্রকাশ ভক্তদের কাছে এই দম্পতিকে আরও প্রিয় করে তুলেছে।
মুক্তির প্রথম দিনের দর্শক-প্রতিক্রিয়া এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসতে শুরু করেছে। বক্স অফিসের প্রাথমিক সংখ্যা এলে বোঝা যাবে, এই তারকা-দম্পতির প্রথম যৌথ ছবি বাণিজ্যিকভাবেও কতটা সফল হয়। আপাতত বিজয়ের আবেগঘন প্রশংসা আর রাশমিকার ‘জয়াম্মা’ চরিত্রই আলোচনার কেন্দ্রে।
