বিনোদন ঝলক
তারকা

ভেপিংয়ে বদলে গেছে কণ্ঠস্বর: ভক্তদের সতর্কবার্তা দিলেন সেলেনা গোমেজ

বিনোদন ঝলক ডেস্ক২০ অক্টোবর ২০২৬3 মিনিটে পড়ুন
ভেপিংয়ে বদলে গেছে কণ্ঠস্বর: ভক্তদের সতর্কবার্তা দিলেন সেলেনা গোমেজ

ই-সিগারেট বা ভেপিংয়ের অভ্যাসের কারণে নিজের কণ্ঠস্বরের ধরন বদলে গেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন সংগীতশিল্পী ও অভিনেত্রী সেলেনা গোমেজ। অতিরিক্ত নিকোটিন গ্রহণের প্রভাব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ভক্তদের সতর্কও করেছেন তিনি। তার মতে, নিকোটিনের আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসা বেশ কঠিন।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা গত রবিবার (১৮ অক্টোবর) ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে নিজের কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন নিয়ে কথা বলেন। ভিডিওতে সেলেনা বলেন, 'আমার গলার স্বর আর আগের মতো ঠিক করতে পারব না। আমি প্রচুর নিকোটিন ভেপ করেছি।' নিজের এই স্বীকারোক্তি দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দেন, ভেপিং কেবল তার অভ্যাসই ছিল না, এর প্রভাব এখন তার পেশাজীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ কণ্ঠস্বরের ওপর পড়েছে।

ভেপিংয়ের অভ্যাস ছেড়ে দেওয়া যে সহজ নয়, সে কথাও জানিয়েছেন এই সংগীতশিল্পী। যারা নতুন করে ভেপিং শুরু করার কথা ভাবছেন, তাদের এই অভ্যাস থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সেলেনার কথায়, 'নিকোটিন ছেড়ে দেওয়া খুবই কঠিন। যারা নতুন ভেপ করার কথা ভাবছেন তাদের বলব, এটা মোটেও ভালো জিনিস নয়। এটা ভীষণ বোকামির কাজ, এর কারণে আমার গলাটাই বদলে গেছে।' নিজের কণ্ঠস্বর নিয়ে সমালোচনা হলেও তাতে তার আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন সেলেনা। যাদের তার এই বদলে যাওয়া গলা শুনতে ভালো লাগে না, তাদের জন্য বিষয়টি স্বাভাবিক বলেই তিনি মনে করেন। এমনকি তারা চাইলে তার গান বা কথা না-ই শুনতে পারেন, সেটাও তার কাছে গ্রহণযোগ্য।

একজন সংগীতশিল্পী যখন নিজের কণ্ঠস্বর নিয়ে এই ধরনের স্বীকারোক্তি দেন, তখন তার বার্তার ভার আলাদা। গায়কের কাছে কণ্ঠস্বরই সবচেয়ে বড় পুঁজি। সেই জায়গা থেকে সেলেনার এই সতর্কবার্তা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। তরুণ ভক্তদের মধ্যে ভেপিংয়ের যে প্রবণতা বাড়ছে, সে প্রেক্ষাপটে একজন বিশ্ববিখ্যাত তারকার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দেওয়া সতর্কবার্তা অনেকের জন্য সত্যিকারের সতর্ক সংকেত হয়ে উঠতে পারে।

প্রসঙ্গত, সেলেনা গোমেজ দীর্ঘদিন ধরে লুপাস নামের একটি জটিল রোগে ভুগছেন। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগেও নিজের কণ্ঠস্বরের পরিবর্তনের সঙ্গে এই রোগের সম্ভাব্য প্রভাবের কথা ইঙ্গিত করেছিলেন তিনি। গত ডিসেম্বরে ইনস্টাগ্রামে ভক্তদের প্রশ্নের জবাবে সেলেনা জানিয়েছিলেন, মাঝেমধ্যে তার কিছু অস্বাভাবিক শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। কখনো কখনো গলার ভেতরের অংশ ফুলে যায় বলেও তিনি উল্লেখ করেছিলেন।

২০১৭ সালে লুপাসের জটিলতার কারণে সেলেনার কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হয়। সে সময় তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ফ্রান্সিয়া রাইসা নিজের একটি কিডনি দান করেছিলেন। এরপর ২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া তথ্যচিত্র 'সেলেনা গোমেজ: মাই মাইন্ড অ্যান্ড মি'-তে অভিনেত্রী জানান, ২০২০ সাল থেকে রোগটি আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। তখন নিজের অসুস্থতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সেলেনা বলেছিলেন, তার লুপাস ধরা পড়েছিল এবং কেমোথেরাপিও নিতে হয়েছিল।

কী এই লুপাস? লুপাস একটি দীর্ঘমেয়াদি অটোইমিউন রোগ। এ রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা ভুলবশত নিজের সুস্থ কোষ ও টিস্যুর ওপর আক্রমণ করে। এর ফলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে প্রদাহ ও নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। লুপাসের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে হাত-পায়ের গিঁটে ব্যথা, জ্বর, ত্বকে ফুসকুড়ি, বুকে ব্যথা, চুল পড়া, কিডনির সমস্যা ও অতিরিক্ত ক্লান্তি। তবে সেলেনার কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন ভেপিংয়ের কারণে হয়েছে বলে তিনি নিজেই জানিয়েছেন; তার লুপাসের সঙ্গে এই পরিবর্তনের কোনো নির্দিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে সবসময়ই খোলামেলা সেলেনা গোমেজ এবারও নিজের অভিজ্ঞতা সামনে এনেই নিকোটিনের আসক্তি নিয়ে সতর্কবার্তা দিলেন। লুপাসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের সঙ্গে লড়াই করা একজন তারকার এই স্বীকারোক্তি অনেকের কাছেই নতুন করে ভেপিংয়ের ক্ষতিকর দিক ভেবে দেখার সুযোগ এনে দিয়েছে। ভক্তরা এখন তার সুস্থতার পাশাপাশি এই সতর্কবার্তার প্রতিও সমর্থন জানাচ্ছেন।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার