বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের জন্য গর্বের খবর। বিশ্বের ৫০টি দেশের প্রভাবশালী তারকাদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান। ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতি ও সংবাদভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ওয়ার্তা ইকোনোমিতে প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে বিশ্বের ৫০টি ভিন্ন দেশের জনপ্রিয় অভিনেতাদের স্টারডম, বাণিজ্যিক সাফল্য ও দর্শকপ্রিয়তা নিয়ে পরিচালিত এক জরিপের ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সেই তালিকায় ২৫তম স্থানে রয়েছেন শাকিব খান।
তালিকায় শুরুর দিকে স্থান পেয়েছেন হলিউডের টম হ্যাঙ্কস, বলিউডের কিং খান খ্যাত শাহরুখ খান, হংকংয়ের ব্রুস লি, চীনের জ্যাকি চ্যান, পাকিস্তানের ফাওয়াদ খান এবং তুরস্কের বুরাক ওজচিভিতের মতো আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিমান অভিনেতারা। কিয়ানু রিভসের মতো তারকারাও রয়েছেন একই তালিকায়। সংবাদমাধ্যমটির পর্যালোচনায় বলা হয়, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ঢাকাই চলচ্চিত্রে নিজের একক আধিপত্য ও জনপ্রিয়তা অক্ষুণ্ণ রেখেছেন শাকিব খান।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, শাকিব খানের অভিনীত সিনেমাগুলো কেবল দেশেই সাফল্য পাচ্ছে না, বরং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারেও উল্লেখযোগ্য ব্যবসায়িক সফলতা অর্জন করছে। শাহরুখ খান কিংবা কিয়ানু রিভসের মতো বিশ্বের বাঘা বাঘা অভিনেতাদের পাশাপাশি শাকিব খানের নাম থাকা বাংলা বিনোদন জগতের জন্য বড় ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।
তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি। প্রতিবেদনটিতে নিজেই উল্লেখ করা হয়েছে, এই মূল্যায়ন বিশ্ব চলচ্চিত্রের কোনো দাপ্তরিক র্যাঙ্কিং নয়। এটি ওয়ার্তা ইকোনোমির নিজস্ব জরিপভিত্তিক একটি তালিকা। তবুও একটি বিদেশি প্রভাবশালী গণমাধ্যমের জরিপে বাংলাদেশের একক প্রতিনিধি হিসেবে শাকিব খানের নাম স্থান পাওয়া ঢালিউড শিল্পের জন্য অত্যন্ত গর্বের ও অনুপ্রেরণাদায়ক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শাকিব খানের এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হঠাৎ করে আসেনি। দুই দশকের বেশি সময় ধরে তিনি ঢালিউডের একচ্ছত্র তারকা। তার অভিনীত সিনেমা দেশের বাইরে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে, নিয়মিত ভালো ব্যবসা করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার সিনেমার আন্তর্জাতিক মুক্তি ও বাণিজ্যিক সাফল্য তাকে এই তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্য এটি একটি বড় মুহূর্ত। হলিউড ও বলিউডের শক্তিশালী বলয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের শীর্ষ তারকারা যখন আন্তর্জাতিক বিনোদন অঙ্গনে জায়গা করে নিচ্ছেন, সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে শাকিব খানের নাম ওঠা দেশের চলচ্চিত্রশিল্পের সম্ভাবনারই প্রমাণ। তরুণ অভিনেতাদের জন্যও এটি অনুপ্রেরণা, যে দেশীয় চলচ্চিত্র থেকেও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সম্ভব।
খবরটি প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে শাকিব খানের ভক্তদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। অনেকেই একে ঢালিউডের জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে অভিহিত করছেন। ইন্দোনেশিয়ার সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় শুক্রবার (১৬ অক্টোবর), আর বাংলাদেশের গণমাধ্যমে খবরটি আসে রোববার (১৮ অক্টোবর)। দুই দিনের ব্যবধানে সামাজিক মাধ্যমে খবরটি ভাইরাল হয়ে যায়।
এখন দেখার বিষয়, এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি শাকিব খানের আসন্ন সিনেমাগুলোর আন্তর্জাতিক বাজারে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ নজরে থাকবে বহুল আলোচিত 'সোলজার'। জাগো নিউজ ২৪-এর ১৬ অক্টোবরের প্রতিবেদনমতে ছবিটির এখনো ৯ দিনের শুটিং বাকি, ফলে ডিসেম্বরে মুক্তি নিয়ে সংশয় রয়েছে। শুটিং শেষ করে মুক্তির তারিখ চূড়ান্ত হলে এই আন্তর্জাতিক তালিকায় জায়গা পাওয়ার খবরটি ছবিটির প্রচারণায় বাড়তি মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
