বিনোদন ঝলক
তারকা

৫০ বছরের পথচলা উৎসবের আগেই শোক: মা হারালেন তপন চৌধুরী

বিনোদন ঝলক ডেস্ক১৭ অক্টোবর ২০২৬3 মিনিটে পড়ুন
৫০ বছরের পথচলা উৎসবের আগেই শোক: মা হারালেন তপন চৌধুরী

আশি ও নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় অসংখ্য গানে কণ্ঠ দিয়ে শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া সংগীতশিল্পী তপন চৌধুরীর জীবনে নেমে এসেছে শোক। মা হারিয়েছেন তিনি। তপন চৌধুরী নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মায়ের মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন। তবে তাঁর মা জিন্দুপ্রভা দেবীর মৃত্যুর কারণ কিংবা কখন তিনি মারা গেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

এই শোকের খবরটি আরও বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে সময়ের প্রেক্ষাপটে। আগামী ১২ ডিসেম্বর কানাডার টরন্টোতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা 'তপন চৌধুরীর সংগীতজীবনের ৫০ বছরের পথচলা উৎসব'। আয়োজন করছে রূপতনু মিউজিক একাডেমি ও টরন্টো ঢাকা ক্লাব। সংগীতজীবনের অর্ধশতক পূর্তির এই আয়োজন নিয়ে ভীষণ উচ্ছ্বসিত ও আনন্দিত ছিলেন তপন চৌধুরী, চলছিল তারই প্রস্তুতি। এরই মাঝে এলো মাকে হারানোর খবর, যা ৫০ বছরের উদযাপনের আগের আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছে।

পাঁচ দশকের এই পথচলার শুরু হয়েছিল ১৯৭৩ সালে। রাইজিংবিডির রিপোর্ট বলছে, সেবছরই সংগীতজগতে যাত্রা শুরু করেন তপন চৌধুরী। দীর্ঘ পাঁচ দশকে স্বতন্ত্র গায়কী আর দরদমাখা কণ্ঠে তিনি তৈরি করেছেন নিজস্ব পরিচিতি, আর তাঁর গানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য শ্রোতার আবেগ ও স্মৃতি। দীর্ঘদিন ধরে কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন এই শিল্পী, প্রবাস থেকেই বাংলা গানের চর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন। টরন্টোর আয়োজনের পর বাংলাদেশেও সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে রাইজিংবিডি।

উৎসবের আয়োজন প্রসঙ্গে তপন চৌধুরী বলেছিলেন, 'সংগীত জীবনের দীর্ঘদিনের পথচলায় আমি অনেক কিছু পেয়েছি। অনেক অর্জন, অনেক প্রাপ্তি। গুণিজনদের স্নেহ ভালোবাসা, কোটি কোটি দর্শক-শ্রোতার অপরিসীম ভালোবাসা আর সবার দোয়া।' তিনি আরও জানিয়েছিলেন, অনুষ্ঠানে ১৫টি বা তার বেশি গান পরিবেশন করবেন। উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৭ সালের ৭ জানুয়ারি ঢাকার ঢাকা ক্লাবে তাঁর সংগীতজীবনের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান হয়েছিল, যেখানে উপস্থিত ছিলেন রুনা লায়লা, সৈয়দ আব্দুল হাদী, আলাউদ্দিন আলী ও আইয়ুব বাচ্চুর মতো প্রথিতযশা শিল্পীরা।

তপন চৌধুরীর কণ্ঠে যেসব গান শ্রোতাদের কাছে আজও সমানভাবে পরিচিত, সেগুলোর তালিকা বেশ দীর্ঘ। 'মন শুধু মন ছুঁয়েছে', 'নদী এসে পথ', 'কান্দো কেনে মন', 'ভুলে গেছ তুমি' কিংবা 'এ এমন পরিচয়', এই গানগুলো আশি ও নব্বইয়ের দশকে তাঁকে শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন দিয়েছে। সেই সময়ের বাংলা গানের সোনালি যুগের অন্যতম কণ্ঠশিল্পী হিসেবে তিনি এখনো স্মরণীয়, আর প্রবাসে বসেও নিয়মিত সংগীতচর্চা ও অনুষ্ঠানে যুক্ত তিনি।

চট্টগ্রামে জন্ম ও বেড়ে ওঠা তপন চৌধুরী ছোটবেলা থেকেই শিল্পচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর বাবা ভুবনমোহন চৌধুরী ছিলেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং মা জিন্দুপ্রভা দেবী ছিলেন গৃহিণী। একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে সংগীতকে জীবনের সাধনা বানানোর এই যাত্রায় মায়ের ভূমিকা যে কতটা গভীর ছিল, তা শিল্পীর জীবনী জানা অনেকেরই অনুমান। মাকে হারানোর এই শোক তাই শুধু ব্যক্তিগত নয়, তাঁর দীর্ঘ সংগীতজীবনের এক আবেগঘন অধ্যায়েরও সমাপ্তি।

তপন চৌধুরীর মায়ের মৃত্যুর খবরে তাঁর ভক্ত ও সংগীতাঙ্গনের অনুরাগীদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই শোকবার্তা জানাচ্ছেন, স্মরণ করছেন তাঁর গানগুলো। দেশে ও প্রবাসে ছড়িয়ে থাকা বাংলা গানের শ্রোতাদের কাছে তপন চৌধুরী শুধু একজন শিল্পী নন, একটি প্রজন্মের স্মৃতির অংশ।

এখন সবার মনে প্রশ্ন, ডিসেম্বরের ৫০ বছর পূর্তির উৎসবের কী হবে। শোকের এই সময়ে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত বা ঘোষণার খবর এখনো জানা যায়নি। মাকে হারানোর বেদনা কাটিয়ে উঠে শিল্পী কীভাবে সামনের দিনগুলো সাজাবেন, সেটাই এখন দেখার। নতুন তথ্য এলে জানানো হবে।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার