বিনোদন ঝলক
তারকা

টাইগার শ্রফ হত্যাচেষ্টা: কোটা রেলস্টেশন থেকে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের ৩ সদস্য গ্রেফতার

বিনোদন ঝলক ডেস্ক১৯ অক্টোবর ২০২৬5 মিনিটে পড়ুন
টাইগার শ্রফ হত্যাচেষ্টা: কোটা রেলস্টেশন থেকে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের ৩ সদস্য গ্রেফতার

বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজস্থানের কোটা রেলওয়ে স্টেশন থেকে তাদের গ্রেফতারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটকদের মধ্যে দুজনের বাড়ি হরিয়ানায় এবং একজনের বাড়ি মহারাষ্ট্রে। তিনজনই কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রাথমিক গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার এড়াতে সন্দেহভাজনরা মহারাষ্ট্রের সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী গুজরাটে প্রবেশ করেছিল। সেখান থেকে রাজস্থানের দিকে যাওয়ার পথেই তাদের ধরা হয়। এর আগে মুম্বাই পুলিশ অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি জোরদার করার পর দুই সন্দেহভাজন বন্দুকধারীর ছবি প্রকাশ্যে আনে। হামলার ঘটনায় তিন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে জুহু থানায় মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায়। মুম্বাইয়ের জুহু এলাকার পুষ্পা পার্কের একটি ফুটবল ক্লাব থেকে গাড়িতে করে ফিরছিলেন টাইগার শ্রফ। সন্ধ্যা সাতটার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা তার গাড়ি লক্ষ্য করে মোট পাঁচটি গুলি ছোড়ে। গুলির আঘাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পান এই অভিনেতা, তবে তার গাড়িচালক ও এক অটোরিকশাচালক আহত হন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গাড়িচালক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

হামলার পর ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, ফুটবল মাঠ থেকে বের হওয়ার সময় টাইগার শ্রফের গাড়ির খুব কাছ থেকে গুলি চালায় দুই বন্দুকধারী। আরেকটি ভিডিওতে গুলিবর্ষণের পরপরই টাইগারকে নিজের বিএমডব্লিউ সেডানের চালকের আসনে বসে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিতে দেখা যায়। পরে আহত চালককে চিকিৎসার জন্য নানাবতী হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি। এই দৃশ্য দেখে অনেকেই অভিনেতার উপস্থিত বুদ্ধি ও দায়িত্ববোধের প্রশংসা করেছেন।

হত্যাচেষ্টার দায় স্বীকারের দাবি নিয়ে ইতিমধ্যে নতুন তথ্য এসেছে। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনিল পণ্ডিত নামে এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে হামলার দায় স্বীকার করেছেন, সেখানে হারমান সন্ধুর নামও এসেছে। ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও বার্তায় নিজেকে অনিল পণ্ডিত পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ঘনিষ্ঠের মতো। দায় তিনি ও হারমান সন্ধু নিচ্ছেন বলেও ওই বার্তায় বলা হয়। বার্তায় আরও দাবি করা হয়, আগে ফোন করে টাইগারকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি কথা না শোনায় হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই বার্তায় হুমকি দিয়ে বলা হয়, মুম্বাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির যারা তাদের কথা শুনবেন না এবং সালমান খানের সঙ্গে কাজ করবেন, তারাও পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারেন।

সূত্রের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, অনিল পণ্ডিত, হারমান সন্ধু ও শুভম লঙ্কার বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় রয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারা লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। বাবা সিদ্দিকি হত্যা মামলার সঙ্গেও তাদের নাম আলোচনায় এসেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব তথ্যের বিষয়ে পুলিশের চূড়ান্ত বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি, তাই দায় স্বীকারের দাবি এখনো যাচাইয়ের অপেক্ষায়।

এদিকে গুলিবর্ষণের পর টাইগার শ্রফের প্রথম ছবি প্রকাশ্যে এসেছে সোমবার। ছবিতে তার হাতে ব্যান্ডেজ এবং কাঁধ ও বুকে ড্রেসিং দেখা গেছে। গুলিবর্ষণের ঘটনার পর মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে টাইগার শ্রফের বাসায় গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন, এ সময় অভিনেতার মা আয়েশা শ্রফও উপস্থিত ছিলেন। শিন্ডে জানান, গুলিবর্ষণের সময় বারুদ ও ভাঙা কাচের টুকরার আঘাতে টাইগারের হাতে ক্ষত হয়েছে, তবে তিনি গুলিবিদ্ধ হননি।

টাইগারের সঙ্গে দেখা করার পর শিন্ডে এই ঘটনাকে গুরুতর উল্লেখ করে বলেন, মুম্বাইয়ে কারও দাদাগিরি চলবে না, হুমকি বা সহিংসতার মাধ্যমে কাউকে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হবে না। নব্বইয়ের দশকে মুম্বাইয়ে এ ধরনের গ্যাং সংঘাত প্রায়ই ঘটত, কিন্তু ১৯৯৫ সালে মুম্বাই পুলিশ এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছিল। শহরে আবারও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে দেওয়া হবে না বলে আশ্বাস দেন তিনি।

মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশও এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় যে গ্যাং বা ব্যক্তি জড়িত থাকুক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীরা যেখানেই লুকিয়ে থাকুক, মুম্বাই পুলিশ তাদের খুঁজে বের করবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এই ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন (এআইসিডব্লিউএ)। সংগঠনটির ভাষায়, চলচ্চিত্র অঙ্গনের ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে বারবার হামলার ঘটনা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। বিবৃতিতে তারা সালমান খানের বান্দ্রার বাসভবনের বাইরে গুলিবর্ষণ, সাইফ আলী খানের বাসায় ছুরিকাঘাত, নির্মাতা রোহিত শেঠির বাসভবনের বাইরে গুলিবর্ষণ এবং কৌতুক অভিনেতা কপিল শর্মার ক্যাফেতে হামলার ঘটনাগুলোও উল্লেখ করে। মুম্বাইয়ের মতো শহরে একজন তারকা নিরাপদ না থাকলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেছে সংগঠনটি।

মুখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের কাছে হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার, হামলার নির্দেশদাতাদের শনাক্ত, চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং চলচ্চিত্র অঙ্গনের ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে এআইসিডব্লিউএ। সংগঠনটির প্রশ্ন, আজ টাইগার শ্রফ, এরপর পরবর্তী লক্ষ্য কে হবেন?

পুলিশের উপকমিশনার মোহিত গার্গের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, গুলিবর্ষণের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে মুম্বাই পুলিশ। ফুটবল ক্লাব থেকে গাড়িতে করে বের হওয়ার সময় টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। তবে হামলাকারীদের পরিচয় ও ঘটনার পেছনের কারণ সম্পর্কে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এখন গ্রেফতার তিন সন্দেহভাজনের জিজ্ঞাসাবাদে হামলার পরিকল্পনা, নির্দেশদাতা ও চক্রের হদিস পাওয়ার আশা করছে পুলিশ।

বলিউড তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে এই ঘটনা আবারও বড় প্রশ্ন তুলল। সালমান খানের সঙ্গে কাজের জেরে টাইগারকে টার্গেট করার দাবি আগেই এসেছিল, যদিও সেই দাবি যাচাই হয়নি। এখন গ্রেফতারের পর পুলিশের তদন্তে হামলার আসল কারণ, নির্দেশদাতা ও গ্যাংয়ের নেটওয়ার্ক স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতির দিকেই এখন নজর রাখছে সবাই।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার