রোববার সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওবার্তায় এক ব্যক্তি এই ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। ওই ভিডিওবার্তায় বলা হয়েছে, সালমান খানের সঙ্গে কাজ করার কারণেই টাইগার শ্রফকে নিশানা করা হয়েছে।
নিজেকে অনিল পণ্ডিত পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তি ভিডিওবার্তায় লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দাবি করেছেন। তবে ভিডিওবার্তার দাবি ও হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। অর্থাৎ, এই দাবি এখনো যাচাই-অপেক্ষ; একে নিশ্চিত সত্য হিসেবে ধরা যাচ্ছে না।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ফুটবল খেলা শেষে গাড়িতে করে ফেরার সময় টাইগারকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। তিন বাইকআরোহী এই হামলা চালিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিনেতা অক্ষত থাকলেও আহত হয়েছেন তার গাড়িচালক ও এক অটোরিকশাচালক। তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এর আগে কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে জানা গিয়েছিল, টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার দায় স্বীকার করেছে বিষ্ণোই গ্যাং। সন্ধ্যা ৭টা ৩৮ মিনিটে কালের কণ্ঠের সেই ব্রেকিং খবর আসার পর থেকেই বলিউডে তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে আবার বড় আলোচনা শুরু হয়। এবার ভিডিওবার্তার মাধ্যমে দায় স্বীকারের দাবি সেই আলোচনাকে নতুন দিকে নিয়ে গেল।
খবরের সময়রেখাটিও লক্ষণীয়। রোববার সন্ধ্যায় ঘটনার পর সন্ধ্যা ৭টা ৩৮ মিনিটে কালের কণ্ঠ প্রথম ব্রেকিং আকারে খবরটি দেয়, যেখানে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের দায় স্বীকারের কথা জানানো হয়। এরপর রাত ৯টা ৫০ মিনিটে জাগো নিউজের ফলোআপ প্রতিবেদনে ভিডিওবার্তার নতুন দাবিটি সামনে আসে। অর্থাৎ, ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই খবরটি একাধিক ধাপে নতুন মোড় নিয়েছে।
এই ঘটনার পর বলিউডে তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে আবার বড় আলোচনা শুরু হয়েছে। তারকাদের ওপর হামলা বা হুমকির ঘটনা নতুন নয়, আর প্রতিবারই প্রশ্ন ওঠে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে। ভিডিওবার্তার নতুন দাবি সেই চলমান আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যদিও দাবির সত্যতা এখনো যাচাই-অপেক্ষ।
জাগো নিউজের শিরোনামেই প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সালমান খানের সঙ্গে কাজ করার কারণেই কি এই হামলা। ভিডিওবার্তার এই দাবি যাচাই না হলেও ভক্ত ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা তৈরি করেছে। টাইগার শ্রফের ভক্তরা তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, আর বলিউডে তারকা-নিরাপত্তার প্রশ্নটি আবার সামনে চলে এসেছে।
এখন সবার নজর তদন্তের দিকে। ভিডিওবার্তাটি আসলেই হামলাকারীদের কিনা, আর সালমান খানের সঙ্গে কাজের যোগসূত্রের দাবির পেছনে কতটা সত্যতা আছে, তা যাচাইয়ের অপেক্ষায়। আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফল না আসা পর্যন্ত এই দাবিকে গুঞ্জন হিসেবেই দেখতে হবে।
এ ধরনের ভিডিওবার্তার দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, কিন্তু জাগো নিউজ নিজেই স্পষ্ট করেছে যে দাবিটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। তাই সালমান খানের সঙ্গে কাজের যোগসূত্রের দাবিকে এখনই নিশ্চিত সত্য হিসেবে নেওয়া যাচ্ছে না। আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফলই এই প্রশ্নের চূড়ান্ত জবাব দেবে।
