ভারতের রিয়েলিটি শো 'স্প্লিটসভিলা এক্স৬'-খ্যাত মডেল আকাঙ্ক্ষা চৌধুরীর বিস্ফোরক অভিযোগে তোলপাড়। নবরাত্রির একটি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে আয়োজকেরা তাকে চরম অব্যবস্থার মধ্যে ফেলেছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, তার অভিযোগ, অনুষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত পারিশ্রমিকও মেটানো হয়নি, আর প্রচারের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে তার ছবি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে আয়োজকদের আচরণকে একপ্রকার অপহরণ বলেও বর্ণনা করেছেন এই মডেল।
পুনের পেডকর গ্রাউন্ডসে নবরাত্রির ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। আকাঙ্ক্ষার অভিযোগ, আয়োজক দলের মাত্র তিনজন সদস্যের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। তাদের প্রত্যেকের বয়স ১৮ বছরের কাছাকাছি। অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
আকাঙ্ক্ষার দাবি, রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তাকে আনতে আসেননি আয়োজকেরা। অথচ ততক্ষণে তার অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার কথা ছিল। তার অভিযোগ, শিল্পীর জন্য প্রয়োজনীয় কোনো ব্যবস্থাপনাই রাখেননি আয়োজকেরা। পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ আকাঙ্ক্ষার। তার দাবি, জোর করে তাকে গাড়িতে বসিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। সঙ্গে নিজের দলের সদস্যরা না থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন তিনি। এ অবস্থায় অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকতে পারবেন না বলে জানালেও আয়োজকেরা তার কথায় গুরুত্ব দেননি। উল্টো তাকে নিয়ে হাসাহাসি করতে থাকেন বলে অভিযোগ এই মডেলের।
ঘটনাটিকে একপ্রকার অপহরণ হিসেবে বর্ণনা করে আকাঙ্ক্ষা জানান, বাধ্য হয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চড় মারার পর গাড়ি থামে। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করে রাখা জরুরি: ওপরে উল্লিখিত সব ঘটনাই আকাঙ্ক্ষা চৌধুরীর নিজের দাবি ও অভিযোগ হিসেবে কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে এসেছে। আয়োজক পক্ষের কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনে আসেনি। আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের হয়েছে কিনা কিংবা মামলা হয়েছে কিনা, তাও এখনো নিশ্চিত নয়। ফলে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আয়োজকদের বক্তব্য ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়ার দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।
ভারতের বিনোদন অঙ্গনে এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। বিভিন্ন সময়েই অনুষ্ঠান আয়োজকদের বিরুদ্ধে পারিশ্রমিক না মেটানো বা দুর্ব্যবস্থার অভিযোগ তুলেছেন শিল্পীরা। তবে একজন পরিচিত মডেল যখন সরাসরি 'অপহরণ' শব্দটি ব্যবহার করেন, তখন তা নিয়ে আলোচনা হওয়াই স্বাভাবিক। এই ঘটনায় পরবর্তীতে কী পদক্ষেপ নেন আকাঙ্ক্ষা, আর আয়োজকরা কী বলেন, সেদিকেই এখন নজর।
আকাঙ্ক্ষার অভিযোগের কেন্দ্রে আছে দুটি আর্থিক দাবি: এক, অনুষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত পারিশ্রমিক মেটানো হয়নি; দুই, তার ছবি প্রচারের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, অর্থ নেওয়া হয়েছে, কাজে লাগানো হয়েছে তাকে, কিন্তু সম্মানজনক ব্যবহার ও চুক্তিমাফিক পারিশ্রমিক কোনোটাই জোটেনি। এছাড়া নিরাপত্তা নিয়ে তার উদ্বেগকে আয়োজকদের পাত্তা না দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। এগুলো সবই তার নিজের দাবি হিসেবে প্রতিবেদনে এসেছে।
ভারতের বিনোদন অঙ্গনে এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। বিভিন্ন সময়েই অনুষ্ঠান আয়োজকদের বিরুদ্ধে পারিশ্রমিক না মেটানো বা দুর্ব্যবস্থার অভিযোগ তুলেছেন শিল্পীরা। তবে একজন পরিচিত মডেল যখন সরাসরি 'অপহরণ' শব্দটি ব্যবহার করেন, তখন তা নিয়ে আলোচনা হওয়াই স্বাভাবিক। এই ঘটনায় পরবর্তীতে কী পদক্ষেপ নেন আকাঙ্ক্ষা, আর আয়োজকরা কী বলেন, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।
