ভিউয়ের সংখ্যা দিয়ে কি নাটকের মান মাপা যায়? অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মমোর উত্তর স্পষ্ট, না। তাঁর কাছে নাটকের আসল মূল্য তার গল্পে, কতজন দেখল তাতে নয়। ডেইলি স্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী বলেছেন, অনলাইন জনপ্রিয়তার এই যুগেও দর্শক ভালো গল্প, অর্থবহ সংলাপ আর মনে দাগ কাটে এমন কাজই চায়।
তাঁর সাম্প্রতিক ধারাবাহিক ‘চাওয়া পাওয়া’ এই বিশ্বাসেরই প্রমাণ। রাকেশ বসুর পরিচালনায় এনটিভিতে প্রচারিত এই নাটকের ইতিমধ্যে ২৯টি পর্ব প্রচারিত হয়েছে, আর দর্শকের সাড়া পেয়ে উচ্ছ্বসিত মমো। ডেইলি স্টারকে তিনি বলেছেন, ‘চাওয়া পাওয়া’ নিয়ে অনেক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাচ্ছেন, দর্শক নাটকটির প্রশংসা করছে, এর গল্প সুন্দর, আর দর্শকের আগ্রহ দেখার মতো। তাঁর আরও দুটি সাম্প্রতিক নাটক ‘বিষণ্ণ মেঘ’ ও ‘সময় একটু থামো’-ও গল্প আর সংলাপের জন্য প্রশংসা পেয়েছে।
ভিউ বনাম মানের বিতর্ক নিয়ে মমোর অবস্থান পরিষ্কার। তাঁর মতে, জনপ্রিয়তা নিজে সমস্যা নয়, সমস্যা হলো মান ধরে রাখা হচ্ছে কিনা। ভালো কাজ করে কেউ কেউ ভিউ পায়, কেউ সহজ কাজ দিয়েও পায়, কিন্তু আসল কথা হলো মান। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, “That is why I remain honest in my work and stand by quality productions”। অর্থাৎ, এই কারণেই তিনি নিজের কাজে সৎ থাকেন আর মানসম্মত প্রযোজনার পাশে দাঁড়ান।
কাজের মান নিয়ে তাঁর মন্তব্য আরও তীক্ষ্ণ হয় যখন তিনি বলেন, সৃজনশীল কাজের বিচার জনপ্রিয়তা দিয়ে হওয়া উচিত নয়। দর্শক এখনও ভালো সংলাপ ও আকর্ষণীয় গল্পের নাটক চায়, আর শিল্পীদের দায়িত্ব সেই মানসম্মত কাজ পৌঁছে দেওয়া, এটাই তাঁর বিশ্বাস। নিজের দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি এমন কাজ বেছে নেন যা দর্শকের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ রাখে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীর পাড়ে বড় হওয়া মমোর শৈশব কেটেছে সংগীত, নাচ, কবিতা আর মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনে। দাদার মুখে শোনা মুক্তিযুদ্ধের কাহিনি, আলাউদ্দিন খাঁ সংগীতাঙ্গনে নাচ-গান-আবৃত্তির প্রশিক্ষণ, এই সবই তাঁর শিল্পীসত্তা গড়ে দিয়েছে। পরে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় জিতে শোবিজে পা রাখেন তিনি।
তাঁর যাত্রার একটি স্মরণীয় অধ্যায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুরা। প্রতিযোগিতার সময় তাঁর পরীক্ষা পড়ে গিয়েছিল, আর বন্ধুরা নিজেদের পরীক্ষা দুই মাস পিছিয়ে দিয়েছিল যাতে তিনি অংশ নিতে পারেন। চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ‘দারুচিনি দ্বীপ’ দিয়ে, যার জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। মায়ের শেখানো সততাই তাঁর জীবন ও পেশা, দুটোতেই পথ দেখায় বলে মনে করেন মমো।
কেন এই সাক্ষাৎকার গুরুত্বপূর্ণ: ভিউ-সংস্কৃতির যুগে যখন অনেক নির্মাতা শুধু ক্লিকের পেছনে ছুটছেন, তখন মমোর মতো প্রতিষ্ঠিত শিল্পীর এই অবস্থান দর্শক ও নির্মাতা দুই পক্ষের জন্যই ভাবনার খোরাক। তাঁর ভাষায়, সাফল্য মানে শুধু দৃশ্যমান থাকা নয়, নিজের কাজের প্রতি সৎ থাকা।
‘চাওয়া পাওয়া’ দেখতে চাইলে চোখ রাখতে হবে এনটিভির পর্দায়। রাকেশ বসুর পরিচালনায় ধারাবাহিকটি নিয়মিত প্রচারিত হচ্ছে, আর ইতিমধ্যে প্রচারিত ২৯ পর্বে দর্শকের ইতিবাচক সাড়াই বলে দিচ্ছে, ভালো গল্পের দর্শক এখনও আছে। মমোর ভাষায়, দর্শক এখনও ভালো সংলাপ আর আকর্ষণীয় গল্প চায়, শিল্পীদের কাজ সেই চাহিদা মেটানো।
মমোর এই মূল্যবোধের শিকড় তাঁর শৈশবে। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ছোটবেলায় মিথ্যা বলার জন্য মা তাঁকে কঠোর শাস্তি দিয়েছিলেন, আর সেই ঘটনা তাঁর জীবনে গভীর ছাপ ফেলেছিল। তারপর থেকে তিনি মিথ্যা বলতে পারেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। পরিবার তাঁকে শিখিয়েছে, মিথ্যা বলা বড় পাপ, আর এই শিক্ষাই তাঁর পেশাগত জীবনেও পথ দেখায়। এই সততাই তাঁকে মানহীন কাজ থেকে দূরে রাখে।
