বিনোদন ঝলক
ওয়েব সিরিজ

দুই বছর পর ফিরছে চঞ্চল চৌধুরীর ‘ফেউ’, দ্বিতীয় সিজন আসছে চলতি বছরেই

বিনোদন ঝলক ডেস্ক১৪ অক্টোবর ২০২৬2 মিনিটে পড়ুন
দুই বছর পর ফিরছে চঞ্চল চৌধুরীর ‘ফেউ’, দ্বিতীয় সিজন আসছে চলতি বছরেই

দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে সুখবর পাচ্ছেন ‘ফেউ’-এর দর্শকরা। প্রথম সিজন মুক্তির প্রায় দুই বছর পর পর্দায় ফিরছে চঞ্চল চৌধুরী অভিনীত আলোচিত এই ওয়েব সিরিজ। সিরিজটির দ্বিতীয় সিজন চলতি বছরেই মুক্তি পেতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন নির্মাতা সুকর্ণ সাহেদ ধীমান ও ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির কর্মকর্তারা। সবকিছু ঠিক থাকলে খুব শিগগিরই দ্বিতীয় সিজন নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি চরকিতে মুক্তি পেয়েছিল ‘ফেউ’-এর প্রথম সিজন। মুক্তির পর থেকেই সিরিজটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। ইতিহাসের এক বেদনাদায়ক অধ্যায়কে কেন্দ্র করে নির্মিত এই সিরিজ প্রথম সিজনেই নিজের জাত চিনিয়ে দেয়। আর প্রথম সিজনের শেষে অনেক প্রশ্নের উত্তর না মেলায় দর্শকরা অপেক্ষায় ছিলেন দ্বিতীয় কিস্তির।

অপেক্ষাটা আরও দীর্ঘ হয়েছে এক অদ্ভুত কারণে। প্রথম সিজন মুক্তির সময়ই নির্মাতারা জানিয়েছিলেন, দুই সিজনের শুটিং একটানা সম্পন্ন হয়েছে। পরিকল্পনা ছিল, প্রথম কিস্তি প্রকাশের কয়েক মাসের মধ্যেই দ্বিতীয় সিজন দর্শকদের সামনে আনা হবে। কিন্তু নানা কারণে সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্বিতীয় সিজন মুক্তি পায়নি। ফলে প্রায় দুই বছর ধরে অপেক্ষা করতে হয়েছে দর্শকদের।

সিরিজের গল্পের পেছনে রয়েছে ১৯৭৯ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সংঘটিত মরিচঝাঁপি হত্যাকাণ্ডের ছায়া। দেশভাগ ও মুক্তিযুদ্ধের সময় নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটা অংশ আশ্রয় নেয় ডুমুরঝাঁপিতে। একসময় শরণার্থীদের উচ্ছেদ করতে খাবার ও পানির সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঘরে আগুন দেওয়া, নৌকা ডুবিয়ে দেওয়া, নির্বিচারে মানুষ হত্যার মতো নির্মম ঘটনা ঘটতে থাকে। এই ইতিহাসের পটভূমিতেই নির্মাতা সুকর্ণ সাহেদ ধীমান গেঁথেছেন সিরিজের কাহিনি।

গল্পের কেন্দ্রে আছেন মোংলা চার্চের রেভারেন্ড ও ফটোগ্রাফার সুনীল। তিনি চান, এই ভয়াবহ ঘটনার চিত্র সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরতে। কিন্তু সত্য প্রকাশের পথে তাকে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়। এরপর গল্প নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়। প্রথম সিজনে চঞ্চল চৌধুরীর পাশাপাশি বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন তারিক আনাম খান, মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, তাহমিনা অথৈ, তানভীর অপূর্ব, হোসেন জীবন, রিজভী রিজু, এ কে আজাদ সেতু প্রমুখ।

কেন এই সিরিজ নিয়ে এত আলোচনা, সেটা বোঝা যায় এর বিষয়বস্তু দেখলেই। বাংলাদেশের ওটিটি অঙ্গনে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এত গভীরভাবে নির্মিত সিরিজ কমই এসেছে। মরিচঝাঁপির মতো একটি সংবেদনশীল ও তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিরিজ নির্মাণের সাহস দেখিয়েছেন নির্মাতা। আর চঞ্চল চৌধুরীর মতো অভিনেতার উপস্থিতি সিরিজটিকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা।

এখন সবার নজর দ্বিতীয় সিজনের দিকে। প্রথম সিজনে যেসব রহস্যের জট খোলেনি, সেগুলোর সমাধান মিলবে নতুন কিস্তিতে, এমনটাই প্রত্যাশা দর্শকদের। নির্মাতা ও চরকি কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক ইঙ্গিত সেই প্রত্যাশাকে আরও উসকে দিয়েছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলে জানা যাবে, কবে ঠিক পর্দায় ফিরছে ‘ফেউ’। তবে এটুকু নিশ্চিত, অপেক্ষার অবসান খুব দূরে নয়।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার