গত কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোবিজের সবচেয়ে আলোচিত গুঞ্জনটি অভিনেত্রী সাবিলা নূরকে ঘিরে। দাবি করা হচ্ছে, দাম্পত্যে টানাপোড়েনের জেরে ভেঙে গেছে তাঁর সাত বছরের সংসার, বর্তমানে স্বামী নেহাল সুনন্দ তাহেরের সঙ্গে আর থাকছেন না তিনি। সময় নিউজসহ একাধিক গণমাধ্যম এই গুঞ্জনের খবর প্রকাশ করেছে। তবে শুরুতেই একটা বিষয় স্পষ্ট করে রাখা দরকার: এই সব দাবিই এখনো অপ্রমাণিত গুঞ্জন, কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।
শোবিজপাড়ায় যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, তাতে এই দূরত্বের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে দুটি নাম। একটি চিত্রনায়ক শাকিব খানের, অন্যটি 'রকস্টার' সিনেমার ডিরেক্টর অব ফটোগ্রাফি আবদুল মামুনের। গুঞ্জন উঠেছে, এই দুজনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন সাবিলা। এমনকি আরেকটি জোরালো গুঞ্জনে দাবি করা হচ্ছে, আবদুল মামুনের সঙ্গে সাবিলার ঘনিষ্ঠতার জেরে তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে বড় ঝড় উঠেছে এবং ইতিমধ্যে নেহালের সঙ্গে ডিভোর্সও হয়ে গেছে। এসব দাবির কোনোটারই স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
এই গুঞ্জনের মধ্যেই শাকিব খানের ঘনিষ্ঠজনরা ভিন্ন কথা বলছেন। তাঁদের বক্তব্য, সাবিলার সঙ্গে শাকিবের পেশাগত সম্পর্ক ছাড়া অন্য কোনো সম্পর্ক নেই। অর্থাৎ, যার নাম জড়িয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা, সেই পক্ষ থেকেই সম্পর্কের দাবি অস্বীকার করা হয়েছে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শাকিব খান, আবদুল মামুন ও সাবিলা নূর, এই তিনজনের কেউই এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করে বিষয়টি পরিষ্কার করেননি। কোনো পক্ষের বক্তব্য না আসায় ভক্তমহলে গুঞ্জনের ডালপালা বেড়েই চলেছে।
২০১৯ সালের অক্টোবরে নেহাল সুনন্দ তাহেরকে ভালোবেসে বিয়ে করেন সাবিলা নূর। শুরুতে বন্ধুত্ব থাকলেও একসময় তাঁরা একসঙ্গে পথচলার সিদ্ধান্ত নেন। সাবিলার ক্যারিয়ারের শুরু টেলিভিশনে; 'মানকি বিজনেস' টেলিফিল্মে 'দ্য ইমাজিনারি গার্ল' চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকের নজরে আসেন। পরে বড় পর্দায় পা রাখেন 'মুজিব: দ্য মেকিং অব আ নেশন' সিনেমায় শেখ রেহানার চরিত্রে। ২০২৫ সালে মুক্তি পাওয়া 'তাণ্ডব' সিনেমায় শাকিব খানের সঙ্গে অভিনয় করেন তিনি, আর ২০২৬ সালের 'রকস্টার' সিনেমায় তাঁর চরিত্রের নাম মীরা।
তারকার ব্যক্তিজীবন নিয়ে অপ্রমাণিত গুঞ্জন নতুন কিছু নয়, কিন্তু এবারের আলোচনায় শাকিব খানের মতো শীর্ষ তারকার নাম জড়ানোয় বিষয়টি বড় আকার নিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে চলছে তুমুল আলোচনা। মনে রাখা জরুরি, আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ছাড়া এসব দাবি অনুমানের বেশি কিছু নয়, আর অন্যের ব্যক্তিজীবন নিয়ে অপ্রমাণিত দাবি ছড়ানো ক্ষতিকরও হতে পারে।
সাবিলা নূর, শাকিব খান বা আবদুল মামুন, এই তিনজনের যেকোনো একজনের বক্তব্য এলেই এই গুঞ্জনের অবসান হতে পারে। যতক্ষণ তা না হচ্ছে, সংসার ভাঙার এই গল্প পুরোপুরি গুঞ্জনের পর্যায়েই থাকবে। এই বিষয়ে কোনো পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিনোদন ঝলক পাঠকদের জানাবে।
