বলিউডের পরিচিত মুখ সোনালি কুলকার্নি। 'দিল চাহতা হ্যায়', 'মিশন কাশ্মীর', 'সিংহাম' এর মতো সিনেমায় তাঁর অভিনয় হিন্দি চলচ্চিত্রের দর্শকের কাছে তাঁকে আলাদা পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু পর্দার এই তারকার শৈশব কেটেছে খুব সাধারণ এক পরিবারে, যেখানে সংসারের খরচ মেটাতে প্রতিদিন লড়তে হতো তাঁর মাকে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শৈশবের সেই দিনগুলোর স্মৃতিচারণা করেছেন অভিনেত্রী।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সোনালি জানিয়েছেন, সংসার চালাতে তাঁর মাকে নানা কাজ করতে হতো। কখনো চাটনি বিক্রি করতেন, কখনো বানাতেন টিফিন। বাড়িতে চালাতেন শিশুদের দেখাশোনার কেন্দ্রও। আর মায়ের এসব কাজে সহযোগিতা করতেন সোনালি নিজেই। তাঁর ভাষায়, 'আমার পরিবার খুবই সাধারণ ছিল। আমাদের কখনো এত টাকা ছিল না যে আয়কর দিতে হবে। সংসার চালাতে মা চাটনি বিক্রি করতেন, টিফিন বানাতেন। বাড়িতে একটি ডে কেয়ার সেন্টারও ছিল। আমি ছিলাম মায়ের প্রধান সহকারী।'
ছোটবেলা থেকেই মায়ের পরিশ্রম কাছ থেকে দেখেছেন সোনালি। সংসারের প্রয়োজনে মাকে নানা কাজ করতে দেখে বুঝেছেন, জীবনে এগিয়ে যেতে হলে পরিশ্রমের বিকল্প নেই। পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া এই শিক্ষা পরবর্তী সময়ে তাঁর জীবনেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করার সেই অভিজ্ঞতা অভিনেত্রীর মনে গভীর রেখাপাত করেছিল।
অভিনয়জীবনে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর একসময় আয়কর দপ্তরের নোটিশ পান সোনালি। দিতে হয় জরিমানাও। জীবনে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি আগে কখনো হননি তিনি। জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে চেক লেখার সময় আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। একসময় যে পরিবারে আয়কর দেওয়ার মতো আয় ছিল না, সেই পরিবারের মেয়েকেই তখন নিজের উপার্জনের ওপর কর দিতে হচ্ছে, বিষয়টি তাঁকে আবেগপ্রবণ করে তুলেছিল।
সেই দিনের কথা স্মরণ করে সোনালি বলেন, 'একদিন আয়কর দপ্তরের নোটিশ পেলাম। জরিমানাও দিতে হয়েছিল। চেক লেখার সময় সেদিন আমি খুব কেঁদেছিলাম। কখনো কল্পনাও করিনি যে এত টাকা উপার্জন করব। বিষয়টি ভীষণ খারাপ লেগেছিল। তবে সেদিনই বুঝতে পারি, উপার্জন করতে পারলে বিনিয়োগ সম্পর্কেও জানতে হবে, করব্যবস্থাও বুঝতে হবে।'
সেই অভিজ্ঞতার পর বদলে গেছে তাঁর অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি। এখন বুঝেশুনে বিনিয়োগ করেন সোনালি। নিজের উপার্জনের অর্থ আলাদা করে রাখেন, আর্থিক পরিকল্পনাও করেন সতর্কভাবে। ব্যক্তিগত জীবনেও অর্থের হিসাব আলাদা রাখার নীতি অনুসরণ করেন তিনি। স্বামী নাচিকেতের সঙ্গে সংসার করলেও দুজনের অর্থ একসঙ্গে মিশিয়ে ফেলেন না। তাঁর ভাষায়, 'এখন আমি বিচক্ষণতার সঙ্গে বিনিয়োগ করি। নিজের টাকা সব সময় আলাদা রাখি। নাচিকেত আর আমি আমাদের অর্থ একসঙ্গে মিশিয়ে ফেলি না।'
ভারতীয় গণমাধ্যম মানিকন্ট্রোলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোনালির সম্পদের পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৬ কোটি টাকা। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে হিন্দিসহ বিভিন্ন ভাষার সিনেমায় কাজ করেছেন সোনালি। 'দিল চাহতা হ্যায়', 'মিশন কাশ্মীর' ও 'সিংহাম' এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। সিনেমার পাশাপাশি টেলিভিশনেও কাজ করেছেন। অভিনয় থেকেই এসেছে তাঁর বেশির ভাগ আয়।
সংগ্রাম থেকে সাফল্যের এই যাত্রা সোনালি কুলকার্নিকে শুধু জনপ্রিয় অভিনেত্রীই করেনি, তাঁর জীবনদর্শনকেও গভীর করেছে। শৈশবে মায়ের কাছ থেকে শেখা পরিশ্রমের মূল্য আর আয়কর নোটিশের দিনে পাওয়া আর্থিক শৃঙ্খলার শিক্ষা, দুটোই আজ তাঁর সাফল্যের পেছনের শক্তি।
