বিনোদন ঝলক
তারকা

হামলার আগে চলাফেরায় নজরদারি, পরে ছকে পালানোর পরিকল্পনা: টাইগার-হামলায় তদন্তের নতুন তথ্য

বিনোদন ঝলক ডেস্ক২০ অক্টোবর ২০২৬3 মিনিটে পড়ুন
হামলার আগে চলাফেরায় নজরদারি, পরে ছকে পালানোর পরিকল্পনা: টাইগার-হামলায় তদন্তের নতুন তথ্য

মুম্বাইয়ের জুহুতে টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনার তদন্তে একের পর এক নতুন তথ্য উঠে আসছে। বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের বরাত দিয়ে বাংলা ট্রিবিউন জানিয়েছে, তদন্তকারী সংস্থাগুলোর ধারণা, হামলায় অংশ নেওয়া বন্দুকধারীরা প্রশিক্ষিত ছিল। শুধু তাই নয়, হামলার আগেই তারা অভিনেতার দৈনন্দিন চলাফেরার ওপর নজরদারি চালিয়েছিল বলেও সন্দেহ করছেন তদন্তকারীরা।

সূত্রের দাবি, হামলার পরিকল্পনার পেছনে ছিল টাইগার শ্রফের সাপ্তাহিক রুটিনের খুঁটিনাটি পর্যবেক্ষণ। অভিনেতা প্রতি রবিবার জুহুর ফুটবল মাঠে যান, এই তথ্য হামলাকারীদের জানা ছিল। ফুটবল মাঠ থেকে গাড়িতে ওঠার মুহূর্তে তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর ছক কষা হয়েছিল, আর সেই লক্ষ্যেই তার গতিবিধি অনুসরণ করা হচ্ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গুলি চালানোর পর অভিযুক্তরা আগে থেকে ঠিক করে রাখা পথ ধরে সরে পড়ে। এসভি রোড ধরে তারা ভিলে পার্লে ও আন্ধেরি পেরিয়ে এগিয়ে যায়। পরে আন্ধেরি পশ্চিম রেলস্টেশনের কাছে মোটরসাইকেল ফেলে রেখে বোরিভালিগামী একটি ট্রেনে ওঠে তারা। এএনআইয়ের প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়াতে অভিযুক্তরা মহারাষ্ট্রের সীমানা পেরিয়ে প্রতিবেশী গুজরাটে ঢুকে পড়েছিল।

গত রবিবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা তিন ব্যক্তি টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায়। অল্পের জন্য রক্ষা পান অভিনেতা নিজে, তবে গুলিবিদ্ধ হন তার গাড়িচালক। ঘটনার পরপরই মুম্বাই পুলিশ তল্লাশি অভিযান জোরদার করে। এর একদিন পর রাজস্থানের কোটা রেলস্টেশনে ট্রেনে যাত্রার সময় তিনজনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে দুজন হরিয়ানার ও একজন মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা; তিনজনেরই কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানা গেছে। গ্রেফতারের আগেই অভিযুক্তদের প্রথম ছবি প্রকাশ্যে এসেছিল, যেখানে দুজনকে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় এবং একজনের মাথায় ছিল কালো টুপি।

এই হামলার দায় বিষ্ণোই চক্রের নামে ছড়ানো একটি বার্তায় দাবি করা হয়েছে। তবে জাগো নিউজ ২৪ জানিয়েছে, বার্তাটির সত্যতা এখনো নিশ্চিত নয় এবং এই হামলায় লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সরাসরি নির্দেশের প্রমাণও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অর্থাৎ দায়-স্বীকারের দাবি এলেও তদন্তকারীরা এখনো যাচাইয়ের পর্যায়েই রয়েছেন।

টাইগারের ঘটনার পর আবারও আলোচনায় সালমান খানের নাম। দায়-স্বীকারের বার্তায় সালমান খানের সঙ্গে কাজ করা অন্যদেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জাগো নিউজ জানিয়েছে। এর জেরে ভাইজানের নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হয়েছে বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছে। কেন বারবার গুলির নিশানায় আসছেন বলিউড তারকারা, সেই প্রশ্নও নতুন করে উঠেছে ইন্ডাস্ট্রিতে।

এই ঘটনা বলিউডের তারকা-নিরাপত্তার পুরনো ক্ষতটাই নতুন করে খুঁড়ে দিয়েছে। এর আগেও সালমান খানকে কেন্দ্র করে একাধিকবার হুমকি ও গুলির ঘটনা সামনে এসেছে, যার জেরে তার নিরাপত্তা কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে। টাইগারের ঘটনার পর সেই আলোচনাই আবার তীব্র হয়েছে ইন্ডাস্ট্রিতে।

তদন্তকারীদের 'প্রশিক্ষিত শুটার' সন্দেহকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, প্রশিক্ষিত হামলাকারীর উপস্থিতি মানেই এর পেছনে সংগঠিত অপরাধচক্রের হাত থাকার ইঙ্গিত। সেক্ষেত্রে গ্রেফতার তিনজন কেবল মাঠপর্যায়ের কর্মী, আর নির্দেশ এসেছে ওপর থেকে, এমনটাই ধারণা তদন্তকারীদের।

তারকাদের প্রতিদিনের রুটিন এখন কত সহজে নজরদারির আওতায় চলে আসছে, এই ঘটনা সেই অস্বস্তিকর প্রশ্নটি সামনে এনেছে। পাপারাজ্জি সংস্কৃতি ও সামাজিক মাধ্যমে তারকাদের গতিবিধির খুঁটিনাটি প্রকাশ্যে থাকায় নিরাপত্তা-ঝুঁকি নিয়ে বলিউডে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন সবার নজর তদন্তের পরবর্তী ধাপের দিকে: গ্রেফতার তিনজনের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে হামলার নির্দেশদাতাদের পরিচয় বেরিয়ে আসে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার